খেজুর গাছে হাঁড়ি বাঁধছেন মাজিদা! জেলার প্রথম মহিলা শিউলি হয়ে স্বামীর পাশে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে নজির গড়লেন

সংসারের কঠিন হাল ধরতে স্বামীর সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে খেজুর গাছে হাঁড়ি বাঁধছেন মাজিদা লস্কর। এই ব্যতিক্রমী উদ্যোগে তিনি এখন জেলার প্রথম মহিলা ‘শিউলি’ হিসেবে পরিচিত। এই মাজিদা লস্কর প্রমাণ করলেন যে, মহিলারা পারে না এমন কোনও অসাধ্য কাজ এ দুনিয়ায় নেই।

সাধারণত শীতকালে নলেন গুড়ের চাহিদা তুঙ্গে থাকে। বাঙালির প্রিয় পিঠেপুলি কিংবা জয়নগরের প্রসিদ্ধ মোয়া তৈরিতে এই গুড়ের অবদান অপরিসীম। সেই রস সংগ্রহের জন্যই শিউলিরা খেজুর গাছে হাঁড়ি বাঁধেন। জয়নগর ২ নম্বর ব্লকের মণিপুর বাঁশতলা এলাকার বাসিন্দা মাজিদার স্বামী আব্দুর রউফ লস্কর ছোটবেলা থেকেই এই কাজের সঙ্গে যুক্ত।

বিয়ের পর থেকেই সংসারের অভাব মেটাতে মাজিদা স্বামীর সঙ্গে শিউলির কাজ শুরু করেন। দীর্ঘ ১৫ বছর ধরে স্বামীর পাশে থেকে এই কাজ শিখে তিনি এখন রীতিমতো পাকা শিউলি হয়ে উঠেছেন। খেজুর গাছের রস সংগ্রহ করা থেকে শুরু করে নলেন গুড় প্রস্তুত করা—সমস্ত প্রক্রিয়াতেই তিনি সিদ্ধহস্ত। এই দম্পতি মিলে একদিনে এলাকার প্রায় ১৮০ থেকে ২০০টি খেজুর গাছ থেকে রস সংগ্রহ করেন। এই দম্পতি এখন জয়নগরের প্রসিদ্ধ কয়েকটি মোয়া দোকানের প্রথম সারির নলেন গুড়ের সরবরাহকারী।

‘শরীরে কাঁটা ফুটেছে, তাও থামিনি’

জেলার প্রথম মহিলা শিউলি হয়ে ওঠার পেছনের গল্প বলতে গিয়ে মাজিদা লস্কর জানান, “সংসারের অভাবের জন্যই স্বামীর সঙ্গে এই কাজে যুক্ত হই। প্রথম দিকে বহু বাধার সম্মুখীন হতে হয়েছে। এই কাজ শিখতে গিয়ে বহু আঘাত এবং ব্যথা সহ্য করতে হয়েছে। খেজুর গাছের কাঁটা শরীরের বিভিন্ন জায়গায় ফুটেছে। কিন্তু ধীরে ধীরে স্বামীর সঙ্গে এই কাজ শিখেছি। এই মরশুমে দু’জনে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করার ফলে সংসারের অর্থের সংকট কিছুটা হলেও দূর হয়।”

মাজিদাকে সাহায্য করতে পেরে খুশি তাঁর স্বামী আব্দুর রউফ লস্করও। তিনি বলেন, “আমার স্ত্রী প্রথম আগ্রহ প্রকাশ করেছিল। আমি নিজেই ওকে গাছ থেকে রস সংগ্রহ থেকে গুড় তৈরি পর্যন্ত সব প্রক্রিয়া শিখিয়েছি। ১৫ বছর ধরে মাজিদা আমার পাশে থেকে সাহায্য করে যাচ্ছে। এই সিদ্ধান্তে আমাদের সংসারের অর্থনৈতিক সংকট অনেকটাই ঘুচেছে। চাষবাসের সময়ও সে আমাকে সাহায্য করে। আমার জীবন সংগ্রামের লড়াইয়ে মাজিদা অন্যতম যোদ্ধা।” তবে তিনি এও জানান যে এই কাজে লাভ অনেক কম হওয়ায় আগামী প্রজন্ম মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছে।