SIR প্রক্রিয়া ‘বিপজ্জনক জায়গায়’, নির্বাচন কমিশনকে চিঠি মুখ্যমন্ত্রীর, স্থগিতের দাবি ও বিএলওদের হয়রানির অভিযোগ

মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ‘স্পেশ্যাল ইনটেনসিভ রিভিশন’ (SIR) প্রক্রিয়াকে ‘গভীরভাবে বিপজ্জনক জায়গায়’ পৌঁছে যাওয়ার কথা উল্লেখ করে জাতীয় নির্বাচন কমিশনারকে চিঠি দিয়েছেন। চিঠিতে তিনি অবিলম্বে এই প্রক্রিয়া স্থগিত রাখার দাবি জানিয়েছেন এবং বুথ লেভেল অফিসারদের (BLO) উপর চূড়ান্ত হয়রানি ও কাজের চাপের বিষয়টি তুলে ধরেছেন।
বিএলওদের দুর্দশা ও মৃত্যুর অভিযোগ:
মুখ্যমন্ত্রী তাঁর চিঠিতে উল্লেখ করেছেন, জলপাইগুড়ির মালে SIR প্রক্রিয়ার কারণে একজন বুথ লেভেল অফিসারের (BLO) মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে এবং এই সময়ে আরও অনেকেই মারা গিয়েছেন। তিনি বিএলওদের দুর্দশা এবং অপর্যাপ্ত পরিকাঠামোর কথা উল্লেখ করে বলেন, প্রস্তুতি ও প্রশিক্ষণ ছাড়াই এই গুরুত্বপূর্ণ প্রক্রিয়া নির্দিষ্ট সময়ের (৪ ডিসেম্বর) মধ্যে শেষ করা সম্ভব নয়। এতে ভুলভ্রান্তির সম্ভাবনা বাড়বে এবং সাধারণ মানুষ ভুক্তভোগী হবেন।
পর্যাপ্ত প্রশিক্ষণের অভাব ও ডেটা আপলোডের চাপ:
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছেন, এই ব্যবস্থায় শুধু প্যানিক বা বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়নি, এটি ‘ভয়ঙ্কর’ হয়ে উঠছে। প্রশিক্ষণের অভাব এবং প্রয়োজনীয় নথিপত্র নিয়ে সমন্বয়ের অভাবে প্রথম দিন থেকেই অব্যবস্থা তৈরি হয়েছে। তিনি স্পষ্ট করেন, “এটা কোনোভাবেই অস্বীকার করা যায় না যে তাদের পর্যাপ্ত প্রশিক্ষণ ছাড়াই এই কাজ করতে হচ্ছে।”
তিনি আরও উল্লেখ করেন, পর্যাপ্ত সময় না দেওয়া, প্রচুর কাজের চাপ তৈরি করা এবং কোনো সাপোর্ট না থাকাটা গণতন্ত্রে আঘাত তৈরি করছে। বিএলওদের তাদের সীমানার বাইরে গিয়ে কাজ করতে হচ্ছে। অনলাইন ফর্ম আপলোড করতে গিয়েও তাদের সমস্যার মুখে পড়তে হচ্ছে—যেমন প্রশিক্ষণের অভাব, ডেটা ম্যাচিংয়ের সমস্যা এবং কমিশনের সার্ভারের সমস্যা।
মুখ্যমন্ত্রী অভিযোগ করেন, ৪ ডিসেম্বরের মধ্যে সব ডেটা আপলোড করার জন্য বিএলওদের উপর চাপ তৈরি করা হচ্ছে, ফলস্বরূপ বৈধ ভোটারদের বাদ পড়ে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে।
অবাস্তব শোকজ নোটিশ ও কৃষক সমস্যা:
মুখ্যমন্ত্রী লিখেছেন, বিএলওদের সহযোগিতা না করে রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের (CEO) দফতর কোনো কারণ ছাড়াই শোকজ নোটিশ জারি করছে। এই ধরনের নোটিশ বাস্তব পরিস্থিতি বিবেচনা না করেই দেওয়া হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, বর্তমানে ধান ও আলু-সহ একাধিক সবজি তোলার সময় চলছে। রাজ্যের প্রচুর কৃষক এই কাজে ব্যস্ত। তাই তাঁরা সব সময় SIR-এর গণনা ফর্ম সংগ্রহের ক্ষেত্রে বা প্রক্রিয়ায় অংশ নিতে পারছেন না।
শেষে মুখ্যমন্ত্রী দ্রুত এই বিষয়ে হস্তক্ষেপ করার এবং পর্যাপ্ত প্রশিক্ষণ ও সাপোর্ট নিশ্চিত করার অনুরোধ জানিয়েছেন। তিনি বিশ্বাস করেন, কমিশন আইন অনুযায়ী কোনো দেরি ছাড়াই কাজ করবে।