চিতার পদচিহ্ন মুখ্যমন্ত্রীর বাড়ির কাছে! জয়পুরের ‘সবচেয়ে সুরক্ষিত’ VVIP এলাকায় আতঙ্ক, মন্ত্রী বাংলোয় জারি কড়া সতর্কতা

রাজস্থানের রাজধানীর সবচেয়ে সুরক্ষিত আবাসনমণ্ডল ‘সিভিল লাইনস’-এ এক চিতা প্রবেশ করায় বৃহস্পতিবার সকালে অতিরিক্ত সতর্কতা জারি হয়েছে। রাজ্যের জলসম্পদ মন্ত্রী সুরেশ সিংহ রাওতের সরকারি বাংলোর ভেতরে তাজা পায়ের ছাপ মেলার পরই এই চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়। ভিভিআইপি এলাকায় বন্যপ্রাণীর অনুপ্রবেশ প্রশাসনকে চরম তৎপর করে তুলেছে।

সুরক্ষিত এলাকায় চিতার উপস্থিতি:

সিভিল লাইনস এলাকাটি অত্যন্ত সংবেদনশীল। এই পরিসরের মধ্যেই রয়েছে রাজভবন, মুখ্যমন্ত্রীর বাসভবন, সাবেক উপমুখ্যমন্ত্রী সচিন পাইলটের বাংলো এবং একাধিক মন্ত্রী ও উচ্চপদস্থ আমলাদের সরকারি কোয়ার্টার। মন্ত্রীর বাংলোর চত্বরে চিতার পদচিহ্ন নিশ্চিত হওয়ার পরই গোটা এলাকা কড়া নিরাপত্তা বলয়ে ঘিরে ফেলা হয়।

বনদফতরের আধিকারিকরা অবিলম্বে একটি বিশেষ উদ্ধারকারী দল নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছান এবং বিশাল অভিযান শুরু করেন। মন্ত্রীর বাড়ি এবং পার্শ্ববর্তী সরকারি বাংলোগুলিতে তল্লাশি চালানো হচ্ছে চিতার সম্ভাব্য লুকিয়ে থাকার জায়গা খুঁজে বের করতে। প্রশিক্ষিত রেসকিউ দল মোতায়েন করা হয়েছে এবং স্থানীয় থানাকেও সতর্ক করা হয়েছে।

উদ্ধার অভিযানে অগ্রাধিকার:

প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তাদের প্রধান অগ্রাধিকার হলো চিতাকে নিরাপদে খুঁজে বের করে নিস্তেজ (tranquilize) করে ধরা। তারা কোনওভাবেই মানুষ বা প্রাণীর ক্ষতি হোক, তা চাইছে না। সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং চিতার নড়াচড়া শনাক্ত করতে নিরাপত্তা টহল বাড়ানো হয়েছে। প্রাথমিক ধারণা, চিতাটি হয়তো মন্ত্রীর বাংলোর কোনো ছায়াযুক্ত বা নির্জন কোণে আশ্রয় নিয়েছে।

কেন শহরমুখী হচ্ছে চিতা?

জয়পুরে বন্যপ্রাণীর শহরমুখী হওয়ার ঘটনা নতুন নয়। গত ২১ আগস্ট গোয়ালপারা টার্নের কাছে চিতার উপস্থিতি দেখা গিয়েছিল। বিশেষজ্ঞদের মতে, বনাঞ্চলে খাদ্যের ঘাটতি এবং বাসস্থানের সঙ্কোচনই বন্যপ্রাণীদের ক্রমাগত শহরের দিকে ঠেলে আনছে। তবে সিভিল লাইনসের মতো সর্বোচ্চ নিরাপত্তাবেষ্টিত অঞ্চলে চিতার প্রবেশ জয়পুরের সুরক্ষা ব্যবস্থায় একটি বড় প্রশ্ন তুলে দিয়েছে। নিরাপত্তা সংস্থা এবং বনদফতর এখন বন্যপ্রাণীর সঙ্গে সংঘাত এড়িয়ে তাকে নিরাপদে উদ্ধার করার দ্বিমুখী চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি।