এসআইআর বিতর্কের আবহে শান্তনু ঠাকুরের লন্ডন সফর? ছবি দেখিয়ে ‘বিশ্বাসঘাতক’ বলে আক্রমণ কুণাল ঘোষের

রাজ্যজুড়ে এসআইআর (SIR) বা সারসংক্ষেপ সংশোধনী প্রক্রিয়া নিয়ে যখন তৃণমূল কংগ্রেস আন্দোলনে নেমেছে এবং মমতাবালা ঠাকুর-সহ মতুয়াদের একাংশ অনশনে অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি, ঠিক তখনই কেন্দ্রীয় মন্ত্রী শান্তনু ঠাকুরের একটি ছবি নিয়ে সরব হলেন তৃণমূল মুখপাত্র কুণাল ঘোষ।
বিজেপি সাংসদ তথা কেন্দ্রীয় মন্ত্রী শান্তনু ঠাকুরের সোশ্যাল মিডিয়া পাতায় পোস্ট করা একটি ছবি ঘিরে বিতর্ক দানা বেঁধেছে। ছবিটিতে শান্তনু ঠাকুরকে সপরিবারে লন্ডনের টেমস নদীর ধারে দেখা গিয়েছে। যদিও ইটিভি ভারত ছবিটির সময়কাল যাচাই করেনি, তবে তৃণমূলের পক্ষ থেকে এই ছবিকে হাতিয়ার করা হয়েছে।
মঙ্গলবার এক সাংবাদিক সম্মেলনে তৃণমূল মুখপাত্র কুণাল ঘোষ বলেন, “যদি ছবিটি এই সময়কালে তোলা হয়ে থাকে, তাহলে শান্তনু ঠাকুর মতুয়াদের সঙ্গে চরম বিশ্বাসঘাতকতা করছেন।”
কুণাল ঘোষের দাবি, জাতীয় নির্বাচন কমিশন ওরফে বিজেপির গণ সংগঠন এসআইআর করে মানুষকে একটি ঘূর্ণাবর্তের মধ্যে ফেলেছে এবং মতুয়া সম্প্রদায়ের একটি বিরাট অংশ অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছে। তিনি দুটো বিপরীত ছবি তুলে ধরেন:
একদিকে: মতুয়া সম্প্রদায়ের বৈধ ভোটারের নাম যাতে বাদ না-পড়ে, তার জন্য মমতাবালা ঠাকুর অনশনে অসুস্থ হয়ে পড়ছেন এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বার্তা পাঠাচ্ছেন।
অন্যদিকে: মতুয়াদের ভুল বুঝিয়ে বিজেপির সাংসদ ও কেন্দ্রীয় মন্ত্রী হওয়া শান্তনু ঠাকুর, তাঁর লোকজনের এই অনিশ্চয়তার সময়ে পাশে না-দাঁড়িয়ে সপরিবারে টেমস নদীর ধারে দাঁড়িয়ে ছবি তুলছেন।
কুণালের বক্তব্য, “তিনি সাংসদ, কেন্দ্রীয় মন্ত্রী, লন্ডন বেড়াতে যেতেই পারেন। তবে প্রশ্ন হচ্ছে সময়কাল। যদি ছবিটি সত্যি এই সময়ের হয়ে থাকে, তাহলে এটা মানুষের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা। একদিকে মানুষের মনে অনিশ্চয়তা, উনি যাঁদের ভোটে সাংসদ, তাঁরা অনশনে, অসুস্থ; আর শান্তনু ঠাকুর তাঁদের পাশে না-দাঁড়িয়ে লন্ডনে বেড়াতে গেলেন। এই ঘটনা বিজেপির আসল মুখোশ খুলে দিয়েছে।”
অন্যদিকে, এদিন কুণাল ঘোষ ঘোষণা করেন যে, তৃণমূল কংগ্রেস প্রতি বছর ৬ ডিসেম্বর বাবরি মসজিদ ধ্বংসের দিনটিকে ‘সংহতি দিবস’ হিসেবে পালন করে। অতীতে সংখ্যালঘু সেল এই সমাবেশ আয়োজন করলেও, এ বছর তা উদযাপন করবে তৃণমূল ছাত্র যুব শাখা।