সোশ্যাল মিডিয়া ছিল উমরের হাতিয়ার! শিক্ষিত তরুণদের মগজে বিষ ঢেলে কী ভাবে জঙ্গি নিয়োগ করত এই চিকিৎসক?

দিল্লির লালকেল্লা হামলায় নিহত চিকিৎসক উমর উন নবি সম্পর্কে তদন্তকারীদের হাতে এসেছে বিস্ফোরক তথ্য। জানা গিয়েছে, পেশায় চিকিৎসক হওয়া সত্ত্বেও উমর ছিল জঙ্গি সংগঠন জইশ-ই-মহম্মদের (Jaish-e-Mohammed) স্লিপার সেলের দায়িত্বে। সে নিজেই বেছে বেছে তরুণ-তরুণী নিয়োগ করত এবং অত্যন্ত চাতুরির সঙ্গে তাদের মগজধোলাই করে জঙ্গি কার্যকলাপে যুক্ত করত।

টার্গেট ছিল শিক্ষিত, ক্লিন রেকর্ডধারী তরুণ প্রজন্ম
তদন্তকারী সূত্রের খবর, উমর উন নবি বিশেষভাবে শিক্ষিত তরুণ-তরুণীদের টার্গেট করত। তার নিয়োগের ক্ষেত্রে প্রধান শর্ত ছিল, টার্গেটদের যেন কোনও অপরাধের পূর্ব রেকর্ড না থাকে। এমন তরুণ প্রজন্মকে বেছে নেওয়ার উদ্দেশ্য ছিল যাতে তাদের উপর সহজে কারও সন্দেহ না যায়। উমর তাদের মনে সন্ত্রাসের বিষ ঢুকিয়ে দিত এবং কট্টরপন্থার দিকে চালিত করত।

সোশ্যাল মিডিয়াকে হাতিয়ার করত উমর
জঙ্গি নিয়োগের জন্য উমর সোশ্যাল মিডিয়াকে প্রধান হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করত। সে সোশ্যাল মিডিয়ায় বিদ্বেষমূলক প্রচার চালাত এবং সেখান থেকেই টার্গেট তরুণ-তরুণীদের সঙ্গে বন্ধুত্ব পাতাত। সোশ্যাল মিডিয়াকে কাজে লাগিয়ে উমর অত্যন্ত সূক্ষ্মভাবে নতুন প্রজন্মের মধ্যে সন্ত্রাসবাদ ও কট্টরপন্থার বীজ ছড়িয়ে দিত। এই কাজে উমরের একাধিক সহযোগী ছিল, যাদের সন্ধানও পেয়েছে তদন্তকারী দল।

উমরের মোবাইল ফোন থেকেই তদন্তকারীরা এই গুরুত্বপূর্ণ তথ্যগুলি উদ্ধার করেছে। তদন্তে আরও জানা গেছে, উমর তার স্লিপার সেলের জন্য মূলত জম্মু ও কাশ্মীরের তরুণ-তরুণীদের বাছত। তবে এই জাল ধীরে ধীরে হরিয়ানা পর্যন্তও ছড়িয়ে পড়েছিল।

জঙ্গি নিয়োগের পদ্ধতিতে বদল
তদন্তকারী সূত্রগুলি আরও জানিয়েছে যে, গত কয়েক বছর ধরে জঙ্গি নিয়োগের ধরনে বিশেষ পরিবর্তন এসেছে। বর্তমানে জইশ-ই-মহম্মদের মতো পাকিস্তানি জঙ্গি সংগঠনগুলি মূলত শিক্ষিত তরুণ-তরুণীদের টার্গেট করছে। পাশাপাশি, এমন পরিবার থেকে আসা তরুণ-তরুণীদের নিয়োগ করা হচ্ছে যাদের কোনও অপরাধের রেকর্ড নেই এবং পরিবার মোটের ওপর শিক্ষিত। নিহত চিকিৎসক উমর উন নবি ঠিক এই কাজটিই অত্যন্ত সুনিপুণ ভাবে করত বলে মনে করছেন তদন্তকারীরা।