লক্ষ্মীর ভাণ্ডারে ‘আমরা-ওরা’ রাজনীতি! বিজেপি পরিচালিত পঞ্চায়েতে টাকা পাচ্ছেন না ৯ হাজার মহিলা, ময়নায় রণক্ষেত্র

মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ প্রকল্পকে তৃণমূলের মহিলা ভোট টানার মাস্টারস্ট্রোক হিসেবে দেখা হয়। এই প্রকল্পের কারণেই মহিলা ভোটাররা ঘাসফুলের দিকে ঝুঁকেছেন বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা। কিন্তু ২০২৬ সালের বিধানসভা ভোটের আগে সেই ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ প্রকল্পে ‘আমরা-ওরা’ করার গুরুতর অভিযোগ তুলল রাজ্যের প্রধান বিরোধী দল বিজেপি। বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর গড় পূর্ব মেদিনীপুরেই উঠল এই অভিযোগ।

ময়নায় বিক্ষোভ ও রণক্ষেত্র
অভিযোগ, পূর্ব মেদিনীপুরের ময়না ব্লকের বিজেপি পরিচালিত দুটি গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় বহু মহিলা লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্পের টাকা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। মঙ্গলবার ময়নার বাকচা ও গজিনা গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার প্রায় ৯ হাজার বঞ্চিত মহিলা ঝাঁটা ও পতাকা হাতে নিয়ে বিক্ষোভে নামেন।

বিক্ষোভের রূপ: বিজেপি নেতাকর্মীরা মহিলাদের সঙ্গে নিয়ে বিডিও অফিস ঘেরাও করে বিক্ষোভ দেখান।

সংঘর্ষ: বিডিও অফিস চত্বরে ঢুকতে গেলে পুলিশ বাধা দিলে দুই পক্ষের মধ্যে তীব্র ঠেলাঠেলি ও ধস্তাধস্তি শুরু হয়, যা কার্যত রণক্ষেত্রের আকার নেয়। মহিলাদের কারও হাতে ছিল ঝাঁটা, আবার কারও হাতে ছিল দলের ঝান্ডা।

রাজনৈতিক প্রতিহিংসার অভিযোগ
বিজেপি অভিযোগ করছে যে তৃণমূলের অন্যতম ‘হিট প্রকল্প’ লক্ষ্মীর ভাণ্ডারে রাজনৈতিক কারণে বঞ্চনা করা হচ্ছে। গত পঞ্চায়েত নির্বাচনে ময়নার বাকচা এবং গোজিনা গ্রাম পঞ্চায়েত বিজেপি দখল করেছিল। স্থানীয় বাসিন্দারা দাবি করছেন, পঞ্চায়েত দখলের পর থেকেই গত বেশ কয়েক মাস ধরে এই দুই পঞ্চায়েতের প্রায় ৯ হাজার মহিলা লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের টাকা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। বারবার প্রশাসনকে জানিয়েও কোনো সুরাহা মেলেনি বলে অভিযোগ তাদের।

বিশেষজ্ঞদের মতে, গত বিধানসভা নির্বাচন থেকে পঞ্চায়েত ভোট এবং লোকসভা ভোট—সব ক্ষেত্রেই এই প্রকল্পটি তৃণমূলকে মহিলা ভোটারদের ভোট পেতে দারুণভাবে সাহায্য করেছে। এই আবহে, ২০২৬ সালের বিধানসভা ভোটের আগে লক্ষ্মীর ভাণ্ডার নিয়ে এই তরজা রাজনৈতিক পারদ আরও বাড়িয়ে তুলল।