৩:১৯ থেকে ৬:৪৮, গাড়িতে সাড়ে তিন ঘণ্টা নীরব অপেক্ষা—ধরা পড়ার মুখে ক্ষয়ক্ষতি বাড়াতে একক পদক্ষেপ নেয় পুলওয়ামার ডাক্তার

দিল্লির লালকেল্লার অদূরে হওয়া ভয়াবহ গাড়ি বিস্ফোরণের তদন্তে এবার সামনে এসেছে এক শিউরে ওঠার মতো টাইমলাইন। সিসিটিভি ফুটেজে ঘণ্টায় ঘণ্টায় জোড়া লাগানো ঘটনার টুকরো ছবিতে দেখা যাচ্ছে, কিভাবে জম্মু-কাশ্মীরের পুলওয়ামার বাসিন্দা এবং পেশায় চিকিৎসক ড. উমর মহম্মদ (৩৬) এই আত্মঘাতী হামলার পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করে।সন্ত্রাস চক্রের শেষ আঘাত:তদন্তকারীদের ধারণা, ড. উমর ছিল জইশ-ই-মহম্মদ (JeM)-এর তথাকথিত “হোয়াইট-কলার টেরর ইকোসিস্টেম”-এর অংশ। এই চক্রের আরও দুই চিকিৎসক সদস্য—ড. আদিল আহমদ রাঠার ও ড. মুজাম্মিল শাকিল—লালকেল্লা বিস্ফোরণের কয়েক ঘণ্টা আগেই গ্রেফতার হয়েছিল। ফরিদাবাদে এক অভিযানে তাদের কাছ থেকে প্রায় ২,৯০০ কিলোগ্রাম আইইডি (IED) তৈরির উপকরণ উদ্ধার হয়। পুলিশের অনুমান, নেটওয়ার্ক ধ্বংস এবং ধরা পড়ার মুখে পড়ে মরিয়া ড. উমর একক ও শেষ পদক্ষেপ হিসেবে এই আত্মঘাতী হামলার পথ বেছে নেয়।মারণ সফরের টাইমলাইন (সাদা Hyundai i20):সিসিটিভি ফুটেজে উমরের ব্যবহৃত সাদা Hyundai i20 (HR 26CE 7674) গাড়ির গতিপথের প্রতিটি মুহূর্ত ধরা পড়েছে:সময়অবস্থানতাৎপর্যসকাল ৭:০০ফরিদাবাদের এশিয়ান হাসপাতালের কাছেপ্রথমবার গাড়ির অবস্থান।সকাল ৮:১৩বদরপুর টোলপ্লাজামুখোশধারী চালকের আসনে উমরকে শনাক্ত করা হয়; দিল্লি সীমানায় প্রবেশ।দুপুর ৩:১৯লালকেল্লার কাছে পার্কিং জোন (সুনেহরি মসজিদ সংলগ্ন)গাড়ি পার্কিংয়ে প্রবেশ।সাড়ে তিন ঘণ্টা নীরব অপেক্ষা:বিকেল ৩:১৯ মিনিটে পার্কিং জোনে ঢোকার পর প্রায় সাড়ে তিন ঘণ্টা (৩:১৯ থেকে ৬:৪৮) ধরে উমর গাড়ির ভেতরেই অপেক্ষা করতে থাকে। দিল্লি পুলিশ জানিয়েছে, এই দীর্ঘ সময় সে একবারও গাড়ি থেকে নামেনি। তদন্তকারীদের মতে, এই অপেক্ষা অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট ফুয়েল অয়েল (ANFO) বিস্ফোরক সক্রিয় করার প্রস্তুতি হতে পারে, অথবা সন্ধ্যার ব্যস্ততম সময়ে সর্বাধিক ক্ষয়ক্ষতি ঘটাতেই সে অপেক্ষা করছিল।শেষ মুহূর্ত (৪ মিনিটের ব্যবধান):সন্ধ্যা ৬:৪৮: গাড়িটি পার্কিং এলাকা ছাড়ে।সন্ধ্যা ৬:৫২: লালকেল্লা মেট্রো স্টেশনের কাছে সুবাস মার্গের ট্রাফিক সিগন্যালের পাশে গাড়িটি থামে এবং মুহূর্তের মধ্যে ভয়াবহ বিস্ফোরণ ঘটে।বর্তমানে ফরেনসিক দল উমরের পরিবারের ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করেছে, যাতে ধ্বংসস্তূপ থেকে উদ্ধার হওয়া দেহাংশের সঙ্গে মিলিয়ে আত্মঘাতী হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করা যায়।