বাড়ছে নাকা চেকিং, জোরদার টহলদারি! স্লিপার সেল ও আগ্নেয়াস্ত্রের প্রবেশ রুখতে হাই অ্যালার্ট জারি লালবাজারের

দিল্লির লালকেল্লার অদূরে ভয়াবহ বিস্ফোরণের পর গোটা দেশজুড়ে জারি হওয়া হাই অ্যালার্টের আওতায় কলকাতার নিরাপত্তা ব্যবস্থা এখন কার্যত নজিরবিহীন। বিশেষ করে আগামী ১৪ নভেম্বর থেকে ইডেন গার্ডেন্সে ভারত ও দক্ষিণ আফ্রিকার টেস্ট ম্যাচ শুরু হওয়ায় মহানগরের নিরাপত্তা আরও জোরদার করতে মঙ্গলবার তৎপর হলো লালবাজার।

নগরপালের উচ্চপর্যায়ের বৈঠক: মঙ্গলবার দুপুরে লালবাজারে এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে শহরের নিরাপত্তা পরিস্থিতি খতিয়ে দেখেন কলকাতার নগরপাল মনোজ কুমার ভার্মা। ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে তিনি শহরের প্রতিটি থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) এবং অ্যাসিস্ট্যান্ট কমিশনারদের সঙ্গে আলোচনা করেন।

পুলিশের গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশাবলী:

টহলদারি ও চেকিং: নগরপাল থানাগুলিকে নিজেদের এলাকায় নাকা চেকিং ও টহলদারিতে জোর দিতে নির্দেশ দিয়েছেন।

বিশেষ সতর্কতা: জনবহুল এলাকা, হোটেল, লজ এবং যেখানে বিপুল সংখ্যক মানুষ জড়ো হতে পারেন, সেইসব জায়গায় বাড়তি সতর্কতা নিতে বলা হয়েছে।

স্লিপার সেলের উপর নজর: কলকাতা পুলিশের স্পেশাল টাস্ক ফোর্সের (STF) দায়িত্বপ্রাপ্ত আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠক করে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, দিল্লিতে বিস্ফোরণের পর যাতে কোনও উস্কানিমূলক কার্যকলাপ বা জঙ্গি সংগঠনের স্লিপার সেল সক্রিয় না-হতে পারে, সেদিকে বিশেষ নজর রাখতে।

আগ্নেয়াস্ত্রের প্রবেশ রোধ: অন্য রাজ্য থেকে যাতে আগ্নেয়াস্ত্র এই রাজ্যে না ঢোকে, সেই বিষয়ে হাইওয়েগুলোতে (রাজ্য পুলিশ বা অন্য কমিশনারেট এলাকা) আচমকাই নাকা তল্লাশির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

ক্রিকেট দলের জন্য ত্রিস্তরীয় নিরাপত্তা: ভারত ও দক্ষিণ আফ্রিকার ক্রিকেট দলের নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবার আরও বহুগুণ বাড়ানো হয়েছে।

সুরক্ষার দায়িত্বে বিশেষ প্রশিক্ষণ বাহিনী: দলগুলির হোটেল থেকে ইডেন গার্ডেন্সে যাতায়াতের সময় নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকবেন কলকাতা পুলিশের বিশেষ প্রশিক্ষণ বাহিনী। এই বাহিনীর সদস্যরা অত্যাধুনিক আগ্নেয়াস্ত্র চালাতে এবং বিনা আগ্নেয়াস্ত্রে লড়তে পারদর্শী।

ত্রিস্তরীয় বলয়: দুই দেশের ক্রিকেট দলের সদস্যদের জন্য ত্রিস্তরীয় নিরাপত্তার বন্দোবস্ত করা হয়েছে। হোটেল থেকে ইডেন পর্যন্ত রুট ম্যাপে থাকবে বাড়তি নিরাপত্তা মোতায়েন।

কলকাতা পুলিশের নগরপাল মনোজ কুমার ভার্মা বলেন, “বর্তমান পরিস্থিতিতে যা যা করণীয়, আমরা সব পদক্ষেপই করছি। ভারত ও দক্ষিণ আফ্রিকা দলের নিরাপত্তা ব্যবস্থাও আরও জোরদার করা হয়েছে। এই বিষয়ে আবারও উচ্চপর্যায়ের বৈঠক হবে।”

এছাড়া ধর্মতলা, নিউ মার্কেট, পার্ক স্ট্রিট, আলিপুর-সহ বিভিন্ন এলাকার হোটেল ও লজগুলিতে চলছে তল্লাশি অভিযান। বাইরের রাজ্য থেকে টেস্ট ম্যাচ দেখতে আসা দর্শকদের উপরও রাখা হচ্ছে বিশেষ নজর।