‘এক ঢিলে দুই পাখি’! শহরের আবর্জনা দিয়েই তৈরি হচ্ছে জৈব সার, জলপাইগুড়িতে কৃষিক্ষেত্রে নতুন দিশা পুরসভার

শহর পরিচ্ছন্ন রাখার পাশাপাশি কৃষিক্ষেত্রে নতুন সম্ভাবনার দুয়ার খুলল জলপাইগুড়ি পুরসভা। শহরের আবর্জনাকে সম্পদ হিসেবে কাজে লাগিয়ে বালাপাড়ার ডাম্পিং গ্রাউন্ডে শুরু হয়েছে নোংরা থেকে জৈব সার তৈরির এক অভিনব প্রকল্প। এই পরিবেশবান্ধব উদ্যোগ এখন শহরবাসীর মধ্যে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে।

কীভাবে তৈরি হচ্ছে জৈব সার? প্রতিদিন বাড়ি বাড়ি থেকে সংগ্রহ করা সবজির খোসা, ফলের খোসা, পচা খাবার বা অন্যান্য জৈব বর্জ্য এখন আর অযত্নে ফেলে দেওয়া হচ্ছে না। বরং সেইসব জৈব নোংরাই বিশেষ প্রক্রিয়াকরণের মাধ্যমে পরিণত হচ্ছে মূল্যবান জৈব সারে।

পরিবেশবান্ধব সার: পুরসভার সূত্রে জানা যায়, এই সার সম্পূর্ণ রাসায়নিকমুক্ত এবং পরিবেশবান্ধব। শীতের সবজি চাষ, ফুলচাষ বা ফলনের উন্নতিতে এটি দারুণ কার্যকর।

ফলন বৃদ্ধির প্রমাণ: পরীক্ষামূলকভাবে জমিতে এই সার ব্যবহারের পর ফলন বৃদ্ধির ভালো প্রমাণও মিলেছে বলে দাবি করেছেন পুরসভার কর্মকর্তারা।

এলাকাবাসীর প্রতিক্রিয়া ও সুবিধা: পুরসভার এক কর্মী জানান, এই প্রকল্পের মাধ্যমে তাঁরা শুধু শহরকে পরিষ্কার করছেন না, একই সঙ্গে কৃষকদের জন্য চাষের স্থায়ী রাসায়নিকবিহীন পদ্ধতিও তৈরি করছেন। এই সার মাটির উর্বরতা বাড়ায় এবং দীর্ঘমেয়াদে জমির স্বাস্থ্য ভাল রাখে। সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো, দীর্ঘদিন ধরে বর্জ্যের গন্ধ ও দূষণ নিয়ে স্থানীয় মানুষ বিরক্ত ছিলেন; এই প্রকল্প শুরু হওয়ায় সেই সমস্যা অনেকটাই কমছে।

এলাকাবাসীর একাংশ এই পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়ে বলেছেন, “এটা শুধু বর্জ্য নিষ্কাশনের প্রকল্প নয়, এটা শহরের ভাবনার পরিবর্তন।”

পুরসভার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, খুব শিগগিরই এই জৈব সার শহরের বিভিন্ন দোকান এবং কৃষি কেন্দ্রে সুলভ মূল্যে পাওয়া যাবে। নোংরা ফেলার জায়গাকে সম্পদের উৎসে রূপান্তর করার এই পদক্ষেপ জলপাইগুড়ির কৃষকদের হাতে নতুন আশার আলো তুলে দিয়েছে।