৮ বছরের সম্পর্ক ছেড়ে বন্ধুর হাত ধরলেন স্ত্রী, ৭ বছরের সন্তানের ভবিষ্যৎ কী? বিয়ের আসরে যা ঘটল…

বীরভূমের সাঁইথিয়া পুরসভা এলাকায় আট বছরের পুরোনো দাম্পত্যের এমন সমাপ্তি দেখে তাজ্জব স্থানীয় বাসিন্দারা। বছর আটেক সংসার করার পর নিজের বন্ধুর সঙ্গেই স্ত্রীর বিয়ে দিলেন এক যুবক। তাঁদের সাত বছরের একটি সন্তানও রয়েছে।
জানা গেছে, সাঁইথিয়ার বাসিন্দা পেশায় গাড়িচালক বাপি মণ্ডলের সঙ্গে তারাপীঠের পঞ্চমী মণ্ডলের প্রায় ৯ বছর আগে বিয়ে হয়েছিল। কর্মসূত্রে বাপি কলকাতায় থাকতেন। বাপির ছোটবেলার বন্ধু জিৎ মির্ধ্যা (১৬ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা) বাপির অনুপস্থিতিতে তাঁর পরিবারকে দেখভালের কাজ করতেন এবং নিয়মিত বাড়িতে যাতায়াত করতেন। এই ঘনিষ্ঠতার সূত্র ধরেই বাপির স্ত্রী পঞ্চমীর সঙ্গে বন্ধু জিতের বিবাহ-বহির্ভূত সম্পর্ক তৈরি হয়।
ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর বাপি এবং পঞ্চমীর মধ্যে অশান্তি শুরু হয়। গত প্রায় আট মাস ধরে পঞ্চমী বাপের বাড়িতেই ছিলেন এবং সেখান থেকে বাপির বিরুদ্ধে বধূ নির্যাতন ও খোরপোষের মামলাও দায়ের করেন।
তবে গতকাল মঙ্গলবার সম্পূর্ণ অন্য ছবি দেখা গেল। পঞ্চমী বাপের বাড়ি থেকে ফিরে আসার পর স্বামী বাপি মন্ডল নিজেই স্থানীয় নন্দীকেশ্বরীতলা মন্দিরে তাঁর বন্ধু জিতের সঙ্গে পঞ্চমীর বিয়ে দিলেন।
বাপি মণ্ডল বলেন, “পঞ্চমী আমার সঙ্গে আর ঘর সংসার করতে চায় না। সে বন্ধুর সঙ্গে থাকতে চায়। তাই ও যাতে সুখে থাকে সেইজন্যেই আমি এই সিদ্ধান্ত নিলাম। আমি এখন ছেলেটিকে মানুষ করার দায়িত্ব নেব।”
পঞ্চমী মণ্ডল জানিয়েছেন, তিনি জিৎ-কে ভালোবেসেছেন এবং তাঁর সঙ্গেই ভালো থাকবেন। তিনি বাপির বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলাও তুলে নেবেন বলে জানিয়েছেন। অন্যদিকে জিৎ মির্ধ্যা বলেন, “ভালোবাসা তো কোনো বাধা বিপত্তি মানে না। পঞ্চমীকে কী করে যে ভালোবেসে ফেললাম কে জানে!”