মুম্বইয়ে ‘ডিজিটাল অ্যারেস্ট’ জালিয়াতি, প্রতারণার টাকা ক্রিপ্টোকারেন্সির মাধ্যমে পৌঁছে গেল চিন, হংকং ও ইন্দোনেশিয়ায়

মুম্বইয়ে (Mumbai) ৫৮ কোটি টাকার ‘ডিজিটাল অ্যারেস্ট’ (Digital Arrest) জালিয়াতির ঘটনায় তদন্তে চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে। মহারাষ্ট্র সাইবার পুলিশ (Maharastra Cyber Police) জানিয়েছে, প্রতারণার মাধ্যমে হাতিয়ে নেওয়া এই বিপুল অঙ্কের টাকা সরাসরি হংকং, চিন ও ইন্দোনেশিয়ায় পাচার করা হয়েছে।

ঘটনার সূত্রপাত:

ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসে যখন মুম্বইয়ের এক ৭২ বছর বয়সী ব্যবসায়ী পুলিশের কাছে অভিযোগ জানান।

  • প্রতারণার ধরণ: তাঁকে ফোন করে সিবিআই (CBI) ও ইডি (ED) আধিকারিক সেজে ভয় দেখানো হয়। বলা হয়, তিনি একটি অপরাধমূলক মামলার সঙ্গে যুক্ত এবং তাঁকে ‘তদন্তে সহযোগিতা’ করতে হবে।
  • টাকা উধাও: ওই ব্যবসায়ীকে কয়েক ঘণ্টা ধরে ভিডিও কলে আটকে রেখে মানসিক চাপ দেওয়া হয়। এরপর তাঁর ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট থেকে এক ধাক্কায় প্রায় ৫৮ কোটি টাকা উধাও হয়ে যায়।

আন্তর্জাতিক চক্রের সক্রিয়তা:

তদন্তে উঠে এসেছে যে এই ঘটনা কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, বরং একটি আন্তর্জাতিক প্রতারণা চক্রের অংশ, যা গত এক বছর ধরে সক্রিয় থেকে দেশজুড়ে শতাধিক মানুষের কাছ থেকে প্রায় ২ হাজার কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে।

  • অর্থ পাচারের পদ্ধতি: প্রতারণার টাকা মুহূর্তের মধ্যে ক্রিপ্টোকারেন্সির (Crypto Currency) মাধ্যমে দেশের বাইরে স্থানান্তর করা হয়।
    1. ভুক্তভোগীদের কাছ থেকে টাকা প্রথমে ভারতে থাকা কিছু কমিশনভিত্তিক ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে (‘মিউল’ অ্যাকাউন্ট) জমা করা হত।
    2. সেখান থেকে দ্রুত তা ক্রিপ্টোকারেন্সিতে রূপান্তরিত হত।
    3. তারপর পাঠানো হত হংকং, চিন ও ইন্দোনেশিয়ার মতো বিদেশি ডিজিটাল ওয়ালেটে।
  • ট্রেস করা কঠিন: এই পদ্ধতি অনুসরণ করায় অর্থের উৎস ও গন্তব্য একাধিকবার বদলে যায়, ফলে টাকার গতিপথ (ট্র্যাক) করা কঠিন হয়ে পড়ে।

তদন্তের অগ্রগতি:

  • গ্রেফতার: এই মামলায় এখন পর্যন্ত ২৬ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
  • বিদেশি সংযোগ: মহারাষ্ট্র সাইবার পুলিশ জানিয়েছে, ডিজিটাল লেনদেনের সঙ্গে যুক্ত বহু আইপি ঠিকানাক্রিপ্টো এক্সচেঞ্জ অ্যাকাউন্ট চিন, হংকং এবং ইন্দোনেশিয়ার।
  • কর্তৃপক্ষের কাছে অনুরোধ: ওই ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টগুলির তথ্য চেয়ে ইতিমধ্যে বিদেশি সংস্থাগুলির কাছে আনুষ্ঠানিক অনুরোধ জানিয়েছে মুম্বই সাইবার পুলিশ।

তদন্তকারীদের মতে, এই ঘটনা দেশে দ্রুত বাড়তে থাকা ডিজিটাল প্রতারণা এবং ভার্চুয়াল মুদ্রা ব্যবহারের মাধ্যমে সীমান্ত পেরিয়ে টাকার পাচারের বিপদকে নতুন করে সামনে এনেছে।