কাশ্মীর-দিল্লির পর গুজরাট! ডাক্তার সেজে ISIS জঙ্গির ভয়ঙ্কর চক্রান্ত ফাঁস, তৈরি হচ্ছিল চরম বিষাক্ত ‘রাসিন’

কাশ্মীর ও দিল্লির পর এবার গুজরাট! বড়সড় নাশকতার আগে সন্ত্রাস দমন শাখা (ATS) এক চিকিৎসক-বেশী ISIS জঙ্গিসহ মোট তিনজনকে গ্রেফতার করে এক ভয়ঙ্কর ষড়যন্ত্র বানচাল করেছে। নিরাপত্তা আধিকারিকরা সোমবার জানিয়েছেন, ধৃতরা অত্যন্ত বিষাক্ত রাসায়নিক ‘রাসিন’ (Ricin) তৈরি করছিল।
জঙ্গিদের টার্গেট ও প্রস্তুতি
পুলিশ সূত্রে খবর, ধৃত মূল চক্রী আহমেদ মহিউদ্দিন সাইয়্যেদ (৩৫) নামে হায়দ্রাবাদের ওই চিকিৎসক গত ছয় মাস ধরে তিনটি রাজ্যের জনবহুল এলাকাগুলিতে রেকি করেছিল। তাদের টার্গেটে ছিল এশিয়ার বৃহত্তম পাইকারি ফল ও সবজির বাজার দিল্লির আজাদপুর মান্ডি, আহমেদাবাদের নারোদা ফলের বাজার এবং লখনউতে আরএসএস অফিস। ভিড়যুক্ত বাজার এবং ঘন জনবসতিপূর্ণ এলাকাকেই তারা হামলার জন্য বেছে নিয়েছিল।
রাসিন বিষ ও অস্ত্র তৈরির চেষ্টা
গুজরাট এটিএস ৭ নভেম্বর আহমেদ মহিউদ্দিন সাইয়্যেদকে গ্রেফতার করে। এটিএস এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, সে সম্ভাব্য আক্রমণে ব্যবহারের জন্য ক্যাস্টর গাছের বীজ থেকে প্রাপ্ত প্রোটিন রাসিনকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহারের উপায় খুঁজছিল। এটিএস-এর দাবি, “একটি বড় সন্ত্রাসী হামলা চালানোর জন্য, আহমেদ মহিউদ্দীন সাইয়েদ ‘রাসিন’ (Ricin) নামক একটি অত্যন্ত মারাত্মক বিষ প্রস্তুত করছিলেন। এই উদ্দেশ্যে, তিনি প্রয়োজনীয় গবেষণা, সরঞ্জাম, কাঁচামাল সংগ্রহ এবং প্রাথমিক রাসায়নিক প্রক্রিয়াজাতকরণ শুরু করেছিলেন।”
আরও দুই জঙ্গি গ্রেফতার
কেন্দ্রীয় সংস্থা এবং গুজরাট এটিএস-এর যুগ্ম অভিযানে আহমেদ মহিউদ্দিন সাইয়্যেদের পাশাপাশি উত্তর প্রদেশ ও হায়দরাবাদ থেকে আরও দুজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা গিয়েছে, তারা বৃহত্তর আইসিস-সংশ্লিষ্ট নেটওয়ার্কের অংশ ছিল। এটিএস এখন রাসায়নিকের উৎস এবং রাসিনের কোনো পরীক্ষামূলক প্রস্তুতি শুরু হয়েছিল কিনা, তা খতিয়ে দেখতে জব্দ করা উপাদান ও ইলেকট্রনিক প্রমাণ বিশ্লেষণ করছে।