AI-এর ধাক্কা এবার ডেলিভারি বয়দের উপর! ড্রোন ডেলিভারি পার্টনারের চাকরি খাচ্ছে

বিশ্বজুড়ে বড় বড় কর্পোরেট কোম্পানিগুলিতে ছাঁটাইয়ের ঢেউ আছড়ে পড়ার পর এবার নতুন আশঙ্কার সৃষ্টি হয়েছে। টিসিএস, অ্যাকসেনচার, অ্যামাজনের মতো সংস্থায় বিপুল ছাঁটাইয়ের পর আশঙ্কা করা হচ্ছে, এবার কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা AI-এর কারণে চাকরি হারাতে পারেন ডেলিভারি বয়রাও। হোয়াইট-কলার চাকরির পর এবার ‘গিগ কর্মীদের’ ভবিষ্যৎ নিয়ে তৈরি হয়েছে চরম অনিশ্চয়তা।

 

AI-এর খরচ ৪ টাকা, শ্রমিকের মজুরি কমল ১৫ টাকায়

 

নয়ডার ব্লিঙ্কিটের ডেলিভারি পার্টনার অঙ্কুর কুমার সপ্তাহে ছয় দিন প্রায় ১২ থেকে ১৫ ঘণ্টা কাজ করেন। তাঁর বাইকের ওডোমিটার বেশিরভাগ দিনই ১০০ থেকে ১৮০ কিলোমিটার ছোটে।

  • ডেলিভারি বয়ের মজুরি: প্রতিটি ডেলিভারির জন্য, তিনি এক কিলোমিটারের মধ্যে ১৫ টাকা এবং অতিরিক্ত প্রতি কিলোমিটারের জন্য ১০-১৪ টাকা বেতন পান।
  • AI-এর খরচ: অথচ, অঙ্কুর যেখানে কাজ করেন, সেখান থেকে মাত্র ৫০ কিলোমিটার দূরে, গুরগাঁওয়ে, AI-চালিত ড্রোন এখন মুদিখানা ও ওষুধ সরবরাহ করছে আরও দ্রুত এবং সস্তায়। এই ড্রোনগুলি কাজ করছে মাত্র ৪ টাকা প্রতি কিলোমিটারে!

এই বাস্তবতা চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিচ্ছে, কীভাবে AI-চালিত অটোমেশন ভারতের ১ কোটি ২০ লক্ষ ‘স্বল্প-দক্ষ’ গিগ কর্মীর জীবিকা হুমকির মুখে ফেলছে।

 

কমছে মজুরি, বাড়ছে শোষণ

 

কয়েক বছর আগেও ডেলিভারি বয়দের বেস মূল্য ছিল ২০ টাকা, যা এখন ১৫ টাকায় নেমে এসেছে। প্রতি কিলোমিটারের রেটও ১৫-২০ টাকা থেকে কমে হয়েছে ১০-১৪ টাকা। এমনকি কিছু ডেলিভারি অ্যাপ এখন প্রতি কিলোমিটারে মাত্র ৬-৭ টাকা দেয়।

  • বেকার সমস্যার প্রভাব: ভারতে বেকার সমস্যা বিরাট। ফলে একজন ‘স্বল্প-দক্ষ’ গিগ কর্মী খুব সহজেই প্রতিস্থাপনযোগ্য এবং শোষণের জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ।

 

হুমকি কেবল মেশিনে নয়, মানুষেও!

 

নীতি আয়োগের অনুমান অনুযায়ী, ২০৩০ সালের মধ্যে ভারতের গিগ কর্মীর সংখ্যা ১ কোটি ২০ লক্ষ থেকে বেড়ে ২ কোটি ৩৫ লক্ষে পৌঁছবে। কর্মী সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণ হওয়ায় প্রতিটি কর্মী আগের চেয়ে বেশি প্রতিস্থাপনযোগ্য হয়ে উঠবে।

পশ্চিমে যেখানে গিগ কর্মীরা পার্ট-টাইম কাজ করেন, ভারতে এটিই বেশিরভাগের জন্য পূর্ণকালীন কাজ। এই আয় থেকেই তাঁদের সংসার চলে। তাই AI-এর এই অগ্রগতি শুধু প্রযুক্তির উন্নয়ন নয়, বরং লাখ লাখ পরিবারের ভবিষ্যতের প্রশ্ন।