‘মশারি কেটে তুলে নিয়ে গেল!’ ৪ বছরের শিশুকে টেনে হিঁচড়ে ড্রেনের পাশে ধর্ষণ? তোলপাড় হাসপাতাল

ফের একবার শিরোনামে নারী নিরাপত্তার গুরুতর ইস্যু। হুগলির তারকেশ্বর স্টেশনে ঘুমন্ত অবস্থায় থাকা ৪ বছরের এক শিশুকন্যাকে তুলে নিয়ে গিয়ে যৌন হেনস্থার অভিযোগ উঠেছে। শনিবার রাতে এই পৈশাচিক ঘটনাটি ঘটে। শিশুটিকে রক্তাক্ত এবং বিবস্ত্র অবস্থায় একটি ড্রেনের পাশ থেকে উদ্ধার করা হয়। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে তারকেশ্বরের বাসিন্দারা ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন। পুলিশ ও হাসপাতালের গাফিলতির অভিযোগ তুলে পথে নেমে সরব হয়েছে বিজেপি।
🌙 মশারি কেটে তুলে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ
জানা গিয়েছে, শনিবার রাতে তারকেশ্বর স্টেশনের শেল্টারে বাবা-মা ও দিদিমার সঙ্গে ঘুমোচ্ছিল ওই শিশুকন্যা। তাদের চারপাশে মশারি টাঙানো ছিল। আচমকাই শিশুটিকে মশারির ভিতর দেখতে না পেয়ে শোরগোল পড়ে যায়। সর্বত্র খোঁজাখুঁজির পর অবশেষে তাকে বিবস্ত্র ও রক্তাক্ত অবস্থায় একটি ড্রেনের পাশ থেকে উদ্ধার করা হয়।
বিজেপির আরামবাগের জেলা সভাপতি পর্ণা আদক দাবি করেন, “অভিযুক্ত মশারি কেটে তাকে তুলে নিয়ে যায়। ড্রেনের ধারে তাকে রক্তাক্ত অবস্থায় পাওয়া যায়। শরীরে কোনও পোশাক ছিল না। সারা গায়ে এবং গালেও কামড়ানোর দাগ ছিল।”
🏥 হাসপাতাল-পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন
উদ্ধারের পরই দ্রুত শিশুটিকে তারকেশ্বর গ্রামীণ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। প্রাথমিক চিকিৎসার পর হাসপাতাল শিশুটিকে ছেড়ে দিলেও, পরিবারের অভিযোগ— গোপনাঙ্গ থেকে রক্তক্ষরণ হওয়া সত্ত্বেও চিকিৎসকেরা কেন পুলিশে খবর দেননি?
পরিবার আরও অভিযোগ করেছে, তারা থানায় অভিযোগ দায়ের করতে গেলে তাদের উল্টে বেরিয়ে যেতে বলা হয়।
পরে অবশ্য শনিবার সন্ধ্যায় পুলিশ ফের শিশুটিকে নিয়ে হাসপাতালে পৌঁছয় এবং কিছু মেডিক্যাল টেস্ট করা হয়। বর্তমানে শিশুটিকে উন্নত চিকিৎসার জন্য চন্দননগর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
🗣️ ‘দুর্ভাগ্যজনক’, ‘পকসো আইনে মামলা’
এই ঘটনা নিয়ে বিজেপি কর্মীরা হাসপাতাল চত্বরে তীব্র বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন। পর্ণা আদক বলেন, “৪ বছরের এক শিশুকন্যার কোনও নিরাপত্তা নেই। আমরা বিচার চাই। দোষীর কঠোরতম শাস্তি চাই।”
তারকেশ্বরের বিধায়ক রমেন্দু সিংহ রায় ঘটনাটিকে ‘খুবই দুর্ভাগ্যজনক’ বলে উল্লেখ করেন এবং রেল পুলিশের নিরাপত্তার গাফিলতি ছিল বলে অভিযোগ করেন। তিনি জানান, প্রশাসন সমস্ত চিকিৎসা নিশ্চিত করেছে এবং পকসো আইনে মামলাও রুজু হয়েছে।
তবে, ঘটনার ২৪ ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও অভিযুক্ত এখনও অধরা। এই ঘৃণ্য অপরাধের প্রতিবাদে এবং দোষীকে দ্রুত গ্রেফতারের দাবিতে তারকেশ্বরের রাজনৈতিক উত্তেজনা এখন চরমে।