বাংলায় শুরু ‘SIR’ – দুই দিনে ২ মৃত্যু! ভোটার তালিকা নিয়ে কেন এত ভয়?

ভোটার তালিকার নিবিড় পরিমার্জন (SIR প্রক্রিয়া) ঘিরে পশ্চিমবঙ্গ জুড়ে যখন তীব্র রাজনৈতিক পারদ বাড়ছে, ঠিক সেই সময়েই উত্তর ও দক্ষিণবঙ্গে পৃথক দুটি স্থানে আতঙ্কজনিত মৃত্যুর ঘটনা ঘটল, যা রাজনৈতিক মহলে চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে। উভয় ক্ষেত্রেই পরিবারের দাবি, ভোটার কার্ড না থাকা বা তালিকায় নাম না থাকার ভয় থেকেই এই মর্মান্তিক পরিণতি।
ধূপগুড়িতে বৃদ্ধের মৃত্যু: জলপাইগুড়ির ধূপগুড়ির বারোঘরিয়া গ্রাম পঞ্চায়েতের ১ নম্বর দক্ষিণ ডাঙ্গাপাড়া এলাকার বাসিন্দা লালু রাম বর্মন (বৃদ্ধ) নামক এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। পরিবারের দাবি, তাঁর ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় নাম ছিল না এবং কোনো ভোটার কার্ডও ছিল না। নিহতের পুত্রবধূ মতি মালা বর্মন জানান, বৃহস্পতিবার বিএলও ফর্ম দিতে এলে তিনি প্রচণ্ড ঘাবড়ে যান এবং অসুস্থ হয়ে পড়েন। এর কিছুক্ষণ পরেই তাঁর মৃত্যু হয়। সংশ্লিষ্ট বুথের বিএলও সুমিত দাস নিশ্চিত করেন যে, তিনি বাড়িতে চার সদস্যকে ফর্ম দিচ্ছিলেন, এরপরই বৃদ্ধ অসুস্থ হওয়ার খবর পান।
কুলপিতে শিক্ষকের মৃত্যু: একই রকম পরিস্থিতি দেখা গেছে দক্ষিণ ২৪ পরগনার কুলপি বিধানসভার কালীচরণপুরে, যেখানে মৃত্যু হয়েছে মাদ্রাসা শিক্ষক শাহাবুদ্দিন পাইকের। ঢোলাহাটের কিশোরপুর হাইমাদ্রাসার শিক্ষক শাহাবুদ্দিন শনিবার ক্লাসের মাঝে অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং পরে হাসপাতালে ভর্তি হন। পাঁচ দিনের চিকিৎসার পর সেলিব্রাল অ্যাটাকের কারণে তাঁর মৃত্যু হয়। তবে তাঁর পরিবার এই মৃত্যুর দায় সরাসরি ভোটার তালিকার পরিমার্জনের দিকে ঠেলে দিয়েছে। তাঁদের দাবি, ২০০২ সালের তালিকায় শাহাবুদ্দিন ও তাঁর স্ত্রীর নাম না থাকায় তিনি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন।
রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া: মৃতদের পরিবারের সঙ্গে দেখা করেছেন মথুরাপুরের তৃণমূল সাংসদ বাপি হালদার ও কুলপির বিধায়ক যোগরঞ্জন হালদার। তৃণমূল সাংসদ বাপি হালদার অভিযোগ করেন, “মানুষকে আমরা আশ্বস্ত করছি, কিন্তু বিজেপি এঁদের ভয় দেখাচ্ছে। রোহিঙ্গা বলছে, অনুপ্রবেশকারী বলছে। এসআইআর নিয়ে এরা সত্যিই চিন্তিত। তবে আমরা আশ্বস্ত করছি, কোনো বৈধ ভোটারের নাম বাদ যাবে না।”
এর বিপরীতে, মথুরাপুরের বিজেপি নেতা অবশ্য এই ঘটনাকে ‘তৃণমূলের অভিসন্ধি’ বলে অভিহিত করেছেন।