SIR এবং CAA-তে উত্তাল ঠাকুরবাড়ি! শান্তনু ঠাকুর বনাম মমতাবালা, মতুয়া ভোট কার ঘরে?

রাজ্য জুড়ে চলা ভোটার তালিকা সংশোধনের (SIR) প্রক্রিয়ার বিরুদ্ধে এবার সরাসরি প্রতিবাদে নামল মতুয়া সম্প্রদায়ের একাংশ। বুধবার থেকে তৃণমূলের সাংসদ মমতা বালা ঠাকুরের নেতৃত্বে উত্তর ২৪ পরগনার ঠাকুরনগরে শুরু হয়েছে অনির্দিষ্টকালের অনশন কর্মসূচি।

তবে এই বিক্ষোভ কর্মসূচি কেবল SIR-এর বিরুদ্ধে নয়, বরং তাঁদের মূল দাবি হলো, বাংলাদেশ থেকে আসা সমস্ত শরণার্থীকে নিঃশর্ত নাগরিকত্ব প্রদান করা হোক।

🤝 অনশনকারীদের মূল দাবি

অনশনকারীরা ঠাকুরবাড়ির সামনেই অবস্থান করছেন। যদিও সাংসদ মমতা বালা ঠাকুর নিজে কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন না। বিক্ষোভকারীদের স্পষ্ট দাবি:

২০২৪ সাল পর্যন্ত ধর্মীয় উৎপীড়নের কারণে যারা বাংলাদেশ থেকে ঘরবাড়ি হারিয়ে এদেশে এসেছেন, তাঁদের সকলকে নিঃশর্ত নাগরিকত্ব দিতে হবে।

এক অনশনকারী বলেন, “আমরা বাংলাদেশি নথি বা ঘোষণার ভিত্তিতে নাগরিকত্ব চাই না। নিঃশর্ত নাগরিকত্ব চাই।” সরকার দাবি না মানা পর্যন্ত এই বিক্ষোভ চলবে বলেও তাঁরা হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।

 

⚔️ ঠাকুরবাড়িতে নতুন ভাঙন ও বিজেপির পাল্টা কৌশল

 

এই অনশনকে কেন্দ্র করে ঠাকুরবাড়ির অভ্যন্তরীণ কোন্দল আরও প্রকট হয়েছে। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ও বিজেপি নেতা শান্তনু ঠাকুর এই প্রতিবাদের সরাসরি বিরোধিতা করেছেন।

  • শান্তনুর বিরোধিতা: তিনি এই অনশনকে ‘ভোটের রাজনীতির জন্য মানুষকে বিক্ষোভে বসিয়ে দেওয়া হচ্ছে’ বলে মন্তব্য করেছেন।
  • CAA-তে আবেদন: শান্তনু ঠাকুর মতুয়া সম্প্রদায়ের সদস্যদের নাগরিকত্ব (সংশোধন) আইনের (CAA)-এর অধীনে নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি জানান, কল্যাণীতে একটি CAA সহায়তা ডেস্ক তৈরি করা হয়েছে, যেখানে আবেদনকারীদের সাহায্য করা হচ্ছে।

অন্যদিকে, গাইঘাটার বিজেপি বিধায়ক সুব্রত ঠাকুর মতুয়া মহাসঙ্ঘের একটি তৃতীয় এবং সমান্তরাল কমিটি গঠনের ঘোষণা করায় ঠাকুরবাড়িতে ভাঙন আরও স্পষ্ট হয়েছে। যদিও শান্তনু ঠাকুর এই নতুন কমিটিকে গুরুত্ব দিতে নারাজ।

 

⚠️ তৃণমূলের সতর্কবার্তা: ‘ডিটেনশন ক্যাম্পের দিকে তাকান’

 

তৃণমূল কংগ্রেস প্রথম থেকেই SIR এবং CAA, উভয়েরই বিরোধিতা করে আসছে। তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এই বিষয়ে মতুয়াদের সতর্ক করে জানিয়েছিলেন, যাঁরা CAA শিবিরে যোগ দিচ্ছেন, তাঁরা আসামের দিকে লক্ষ করুন। সেখানকার মতো ডিটেনশন ক্যাম্পে জীবন কাটাতে হতে পারে।

এই পরিস্থিতিতে SIR ও CAA নিয়ে ঠাকুরবাড়ির অভ্যন্তরীণ এই বিরোধীতা এবং রাজনৈতিক সংঘাত কোন পথে যায়, সেটাই এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন। পাশাপাশি, এই জটিল পরিস্থিতির ফায়দা তৃণমূল না বিজেপি—কোন দল তাদের ভোটবাক্সে তোলে, সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।