‘চরম লজ্জার প্রতিচ্ছবি’! কলকাতা পুলিশকে ‘তৃণমূলের চাকর’-এর সঙ্গে তুলনা সুকান্তের, কেন এত কঠোর আক্রমণ?

তৃণমূল কংগ্রেসের (TMC) সমাবেশে কলকাতা পুলিশের ভূমিকা নিয়ে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করলেন ভারতের কেন্দ্রীয় মন্ত্রী এবং বিজেপি নেতা ডঃ সুকান্ত মজুমদার। বুধবার তিনি তাঁর এক্স (সাবেক টুইটার) হ্যান্ডেলে একটি ভিডিয়ো পেশ করে পুলিশের বিরুদ্ধে সরাসরি ‘দাসসুলভ আচরণ’ এবং ‘রাজনৈতিক পক্ষপাতদুষ্টতা’-র অভিযোগ আনেন।
সুকান্ত মজুমদার এই ঘটনাকে রাজ্যের মানুষের কাছে কেবল দুর্ভাগ্য নয়, বরং “চরম লজ্জার প্রতিচ্ছবি” বলে মন্তব্য করেছেন।
পুলিশের ‘কাপুরুষতা ও চাটুকার চরিত্র’
কেন্দ্রীয় মন্ত্রী তাঁর এক্স-বার্তায় সরাসরি তৃণমূল সরকারের দিকে আঙুল তুলেছেন। তাঁর দাবি, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শাসনামলে পুলিশের নৈতিক মেরুদণ্ড সম্পূর্ণভাবে ভেঙে পড়েছে।
ডঃ সুকান্ত মজুমদারের বক্তব্য (এক্স-বার্তায়):
“মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শাসনামলে পুলিশের বশ্যতা, কাপুরুষতা এবং চাটুকার চরিত্র প্রতিদিন প্রকাশ্যে উন্মোচিত হচ্ছে; এই চিত্রটি তারই আরেকটি জীবন্ত প্রমাণ। গতকাল তৃণমূল কংগ্রেসের সমাবেশে কলকাতা পুলিশের দেখানো দাসসুলভ আচরণ স্পষ্টভাবে প্রমাণ করে যে এই বাহিনীর নৈতিক মেরুদণ্ড অনেক আগেই ধূলিসাৎ হয়ে গেছে।”
‘পুলিশকে তৃণমূলের চাকরে পরিণত করা হয়েছে’
তিনি আরও কঠোর ভাষায় পুলিশ বাহিনীর নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। সুকান্ত মজুমদারের দাবি, রাজনৈতিক স্বার্থে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পুলিশ প্রশাসনকে দলীয় স্বার্থে ব্যবহার করছেন।
তিনি লেখেন, “এত অবনমিত, পক্ষপাতদুষ্ট বাহিনীর কাছ থেকে নিরপেক্ষতা আশা করা অকল্পনীয় ভ্রান্তিতে থাকার মতো। রাজনৈতিক স্বার্থে, ব্যর্থ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রকাশ্যে পুলিশ প্রশাসনকে তৃণমূলের চাকর, পথচারী এবং রাজনৈতিক যন্ত্রপাতিতে পরিণত করেছেন। জননিরাপত্তা নিশ্চিত করার পরিবর্তে, এখন তাদের একমাত্র লক্ষ্য শাসক দলের পা চাটা এবং তোষামোদ করা।”
কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর এই ভিডিয়ো এবং মন্তব্য রাজ্যের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন বিতর্কের সৃষ্টি করেছে। বিরোধী শিবির বরাবরই পুলিশের বিরুদ্ধে শাসক দলের ‘দলদাসে’র মতো কাজ করার অভিযোগ এনেছে, সুকান্ত মজুমদারের এই মন্তব্য সেই অভিযোগকেই আরও জোরদার করল।