বিহার ভোটের আগে ভয়ঙ্কর বিতর্ক! শিশুদের মুখে ‘বন্দুক সংস্কৃতি’, গিরিরাজ সিংয়ের চরম হুঙ্কার, ‘মানুষের চোখ খুলে যাবে’

বিহার বিধানসভা নির্বাচনের উত্তপ্ত প্রচারের মাঝে সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিও রাজ্য রাজনীতিতে প্রবল আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। আরজেডি (RJD) প্রার্থীর মঞ্চে দাঁড়িয়ে একটি অল্পবয়সী শিশুর মুখে শোনা যায় বিস্ফোরক মন্তব্য: “তেজস্বী ভাইয়া আসবে, আমরা কাট্টা (স্থানীয় পিস্তল) নিয়ে ঘুরব!”

এই বক্তব্য শোনা মাত্র মঞ্চে উপস্থিত জনতা হাসলেও, ভিডিওটি প্রকাশ্যে আসতেই বিরোধী বিজেপি শিবির তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে। অনেকের মতে, এই দৃশ্যই প্রমাণ করে যে মহাগঠবন্ধন জিতলে বিহারে ফের ‘গুণ্ডারাজ’ ফিরে আসবে।

বিজেপির তোপ: এটাই কি তেজস্বীর নতুন বিহার?
ভিডিওটি দ্রুত ভাইরাল হওয়ার পর বিজেপি নেতারা এটিকে ‘RJD রাজনীতি’-র পুরনো ঐতিহ্যের প্রতিফলন হিসেবে তুলে ধরেছেন। কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী গিরিরাজ সিং এক্স (সাবেক টুইটার)-এ লেখেন, “এই ভিডিও বিহারের মানুষের চোখ খুলে দেবে। গুণ্ডারাজের ছায়া আবার ফিরে আসছে। যাঁরা ৯০-এর দশকের অরাজকতা ভুলে গিয়েছেন, তাঁরা এই দৃশ্য দেখুন।”

বিজেপি মুখপাত্র অশ্বিনী চৌবে আরও কঠোর ভাষায় আক্রমণ করে বলেন, “তেজস্বী যাদব এখন সেই কালো অধ্যায় ফিরিয়ে আনতে চাইছেন, যেখানে গুলি, কাট্টা ও ভয়ই ছিল রাজনীতির হাতিয়ার। এটি শুধু একটি ভিডিও নয়, এটি মানসিকতার প্রতিফলন। যে পরিবার রাজনীতিতে হিংসা ও দখলদারিকে সংস্কৃতি বানিয়েছিল, তারা এখন নতুন প্রজন্মের মনেও সেই বিষ ছড়াচ্ছে।”

বিজেপি প্রশ্ন তুলেছে, “এটাই কি তেজস্বীর নতুন বিহার? যেখানে শিশুরা মঞ্চে উঠে বন্দুক নিয়ে ঘোরার স্বপ্ন দেখে?”

আরজেডি-র দাবি: রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র ও ভিডিও বিকৃতি
যদিও এই অভিযোগ পুরোপুরি অস্বীকার করেছে আরজেডি। দলের এক মুখপাত্র অভিযোগ করেন, এটি রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র।

আরজেডি মুখপাত্রের বক্তব্য:

“শিশুদের এমনভাবে ব্যবহার করে বিরোধীরা বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে। আমাদের দল শিক্ষিত, সচেতন বিহারের স্বপ্ন দেখে, অস্ত্রধারী বিহারের নয়। আমরা মনে করি, ভিডিওটি বিকৃত করে ছড়ানো হয়েছে এবং এর সঙ্গে তেজস্বী যাদব বা কোনো প্রার্থীর সম্পর্ক নেই।”

নির্বাচন কমিশন ও রাজনৈতিক প্রভাব
বিহার নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, ভিডিওটির সত্যতা যাচাই করতে তদন্ত শুরু হয়েছে। যদি প্রমাণিত হয় যে শিশু বা মঞ্চে উপস্থিত প্রার্থী নির্বাচনী নীতিনিয়ম ভঙ্গ করেছেন, তবে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, বিহারের ভোট বরাবরই আবেগ ও নিরাপত্তার প্রশ্ন দ্বারা প্রভাবিত হয়। নির্বাচনের প্রাক্কালে এমন ঘটনা ভোটারদের মনে ৯০-এর দশকের অরাজকতার স্মৃতি ফিরিয়ে আনতে পারে, যা এনডিএ শিবিরকে প্রচারে বাড়তি সুবিধা দিতে পারে। প্রথম দফা ভোটের আগে এই ভিডিও যেন বিহারের রাজনৈতিক আবহে নতুন বারুদ ছড়িয়ে দিয়েছে।