ট্রেন দুর্ঘটনায় রাশ টানতে বড় উদ্যোগ! কুয়াশায় কীভাবে সুরক্ষিত থাকবে রেলযাত্রা? ১৭০ কর্মীর বিশেষ প্রশিক্ষণ

শীতকাল ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে উত্তর ও পূর্ব ভারতে ঘন কুয়াশার কারণে রেল চলাচলে সৃষ্ট বাধা ও দুর্ঘটনার ঝুঁকি কমাতে প্রস্তুত পূর্ব রেলওয়ে, শিয়ালদহ বিভাগ। এই উদ্দেশ্যে সম্প্রতি কলকাতায় আয়োজিত হলো এক বিশেষ সেফটি সেমিনার, যেখানে ঘন কুয়াশার মধ্যে ট্রেন চলাচল কীভাবে সুরক্ষিত রাখা যায়, তা নিয়ে বিশদ আলোচনা করা হয়।

সেমিনারে সিনিয়র সুপারভাইজার, স্টেশন মাস্টার, লোকো পাইলট, ট্র্যাক মেইনটেনার-সহ প্রায় ১৭০ জন রেলকর্মী অংশ নেন। শীতকালীন কার্যপদ্ধতি, আধুনিক সিগন্যাল ব্যবস্থা, ট্র্যাক রক্ষণাবেক্ষণ এবং জরুরি অবস্থায় দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার কৌশলগুলি নিয়ে কর্মীদের মধ্যে সচেতনতা বাড়ানো হয়।

নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রধান পদক্ষেপ:

সিগন্যালের উজ্জ্বলতা বৃদ্ধি: কুয়াশার কারণে সিগন্যাল দেখা না যাওয়ার সমস্যা কাটাতে আধুনিক LED সিগন্যাল ব্যবহার করা হচ্ছে। এছাড়াও, সিগন্যাল সাইটিং বোর্ড এবং W/L বোর্ডে প্রতিফলক রঙ ও আলোকিত স্ট্রিপ লাগানো হচ্ছে।

লেভেল ক্রসিং সুরক্ষা: সমস্ত লেভেল ক্রসিং গেটে রেট্রো-রিফ্লেক্টিভ টেপ ও আলোকিত স্ট্রিপ লাগানো হচ্ছে। হলুদ ও কালো রঙে চিহ্নিত গেটগুলি কুয়াশার মধ্যেও স্পষ্ট থাকবে। হুটার ও লাইটের কার্যকারিতা নিয়মিত পরীক্ষা করা হচ্ছে।

ট্র্যাক রক্ষণাবেক্ষণ: শীতকালে রেললাইনে ফাটলের ঝুঁকি কমাতে প্রতিদিন রাত ১০টা থেকে সকাল ৬টা পর্যন্ত বিশেষ পেট্রোলম্যান মোতায়েন করা হয়েছে। তারা GPS ট্র্যাকার সজ্জিত হয়ে নিয়মিত ট্র্যাক পর্যবেক্ষণ করছেন।

গতি নিয়ন্ত্রণ: ঘন কুয়াশার সময় লোকো পাইলটদের সতর্ক রাখতে ফগ সিগন্যাল পোস্ট ও ডিটোনেটর স্থাপন করা হয়েছে। দৃশ্যমানতা কমলে ট্রেনের নির্ধারিত গতি সীমা (Speed Restriction) কঠোরভাবে অনুসরণ করা হবে।

শিয়ালদহ বিভাগের বিভাগীয় রেল ব্যবস্থাপক রাজীব সাক্সেনা বলেন, “নিরাপত্তাই আমাদের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ডিসেম্বর থেকে জানুয়ারি মাসের মধ্যে বিশেষ ‘ফগ অ্যাকশন প্ল্যান’ চালু করা হবে।” এই সেমিনার রেল কর্মীদের মধ্যে দায়িত্ববোধ বাড়াতে সাহায্য করবে বলে মনে করছে কর্তৃপক্ষ।