কুয়াশা আতঙ্কের দিন শেষ! ট্রেন চলবে বুলেট গতিতে, রেলের মাস্টার প্ল্যান ফাঁস

শীতকালীন ঘন কুয়াশার মধ্যে ট্রেন চলাচল নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন রাখতে এক গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নিল রেল কর্তৃপক্ষ। সম্প্রতি একটি সেমিনারের মাধ্যমে রেলের প্রায় ১৭০ জন কর্মী, যার মধ্যে ছিলেন সিনিয়র সুপারভাইজার, ট্রাফিক ইন্সপেক্টর (TI), স্টেশন মাস্টার (SM), লোকো পাইলট (LPP), সহকারী লোকো পাইলট (ALP), ট্র্যাক মেইনটেনার (TM) এবং অন্যান্য রক্ষণাবেক্ষণ কর্মীরা, তাঁদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে।

নিরাপদ ট্রেন চলাচলের মূল কৌশল:

সিগন্যাল আপগ্রেড: সীমিত দৃশ্যমানতায় যাতে চালকদের কোনও অসুবিধা না হয়, তার জন্য আধুনিক LED সিগন্যাল ব্যবহার করে উজ্জ্বলতা নিশ্চিত করা হচ্ছে। পাশাপাশি, সিগন্যাল সাইটিং বোর্ড এবং W/L বোর্ডে প্রতিফলক রঙ ও স্ট্রিপ পরীক্ষা ও রক্ষণাবেক্ষণ করা হচ্ছে।

লেভেল ক্রসিংয়ে কড়া নিরাপত্তা: সমস্ত লেভেল ক্রসিং গেটে রেট্রো-রিফ্লেকটিভ টেপ এবং স্পষ্ট চিহ্ন লাগানো হচ্ছে। গেটগুলি হলুদ/কালো আলোকিত স্ট্রিপে রাঙানো হয়েছে এবং গেটম্যানদের সতর্ক করতে হুটারগুলির কার্যকারিতা পরীক্ষা করা হয়েছে।

বিশেষ রাতের টহলদারি: কুয়াশার কারণে রেললাইনে ফাটল বা ক্র্যাক এড়াতে প্রতি রাত ১০টা থেকে সকাল ৬টা পর্যন্ত বিশেষ ‘পেট্রোলম্যান’ মোতায়েন করা হয়েছে। এই কর্মীরা GPS ট্র্যাকার, প্রতিফলক জ্যাকেট এবং তিনটি টর্চ-সহ সজ্জিত। সিঙ্গল লাইনে ৪ কিমি এবং ডাবল লাইনে ২ কিমি এলাকায় তাঁরা নিয়মিত টহল দিচ্ছেন।

লোকো পাইলটদের জন্য ডিটোনেটর: ঘন কুয়াশার সময় লোকো পাইলটদের সতর্ক করার জন্য ফগ সিগন্যাল পোস্ট ও ডিটোনেটর স্থাপন করা হয়েছে। এর পাশাপাশি কুয়াশার সময় ট্রেনের নির্ধারিত গতিসীমা কঠোরভাবে মেনে চলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এই প্রসঙ্গে শিয়ালদহের বিভাগীয় রেল ব্যবস্থাপক রাজীব সাক্সেনা বলেন, “নিরাপত্তা আমাদের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার, বিশেষ করে আমরা যখন ঘন কুয়াশা ও শীতের সময়ে প্রবেশ করছি। এই সেমিনারটি আমাদের অপারেশনাল প্রক্রিয়াগুলিকে আরও শক্তিশালী করার একটি গুরুত্বপূর্ণ মঞ্চ ছিল। আমি সকল কর্মীদের নিষ্ঠা ও সতর্কতার প্রশংসা করি—তাদের সচেতনতা ও নিয়ম মেনেই নিরাপদ ট্রেন চলাচল নিশ্চিত হবে।”

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy