বিজেপি রাজ্য সভাপতি এবং কেন্দ্রীয় শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার মুখ্যমন্ত্রীর SIR (Special Intensive Revision) বিরোধী মিছিল এবং তৃণমূল কংগ্রেসের অবস্থান নিয়ে তীব্র আক্রমণ শানিয়েছেন। সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি তৃণমূলের এই বিরোধিতা ও কর্মসূচিকে রাজ্যের মূল সমস্যা থেকে নজর ঘোরানোর কৌশল বলে অভিহিত করেন।
১. মুখ্যমন্ত্রীর মিছিলের উদ্দেশ্য নিয়ে কটাক্ষ:
সুকান্ত মজুমদার অভিযোগ করেন যে SIR-এর বিরুদ্ধে মুখ্যমন্ত্রীর মিছিলের মূল উদ্দেশ্য অন্য।
নজর ঘোরানোর কৌশল: তাঁর স্পষ্ট মন্তব্য, “মুখ্যমন্ত্রীর মূল উদ্দেশ্য SIR-কে সামনে তুলে রাজ্যের আসল সমস্যাগুলিকে পিছনে ঠেলা।” অর্থাৎ, নিয়োগ দুর্নীতি, নারী নির্যাতন, সীমান্ত সমস্যা বা অন্যান্য প্রশাসনিক ব্যর্থতা থেকে মানুষের দৃষ্টি সরাতে এই মিছিল করা হচ্ছে।
আতঙ্ক সৃষ্টির অভিযোগ: তিনি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষকে অহেতুক আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি করার অভিযোগ আনেন। তিনি বলেন, তৃণমূল সাধারণ মানুষকে ভয় দেখিয়ে একটি বিশেষ সম্প্রদায়কে উস্কানি দিচ্ছে।
২. তৃণমূলের ‘ভুয়ো ভোটার’ নির্ভরশীলতা:
সুকান্ত মজুমদারের দাবি, তৃণমূল কংগ্রেসের এই বিরোধিতা প্রমাণ করে যে তারা ভুয়ো ভোটার, মৃত ভোটার এবং অনুপ্রবেশকারীদের উপর নির্ভরশীল।
ভোটার ব্যাঙ্ক: তাঁর কটাক্ষ, “ভুয়ো ভোটার, মৃত ভোটার, স্থানান্তরিত ভোটার অথবা অনুপ্রবেশকারীরাই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভোটব্যাঙ্ক।”
SIR-এর অনিবার্যতা: তিনি জোর দিয়ে বলেন, SIR প্রক্রিয়া দেশজুড়ে হবে এবং “কারও ক্ষমতা নেই SIR আটকানোর।”
৩. অনুপ্রবেশকারী ও অশান্তি সৃষ্টিকারীদের চরম বার্তা:
বিজেপি রাজ্য সভাপতি অনুপ্রবেশকারী এবং তৃণমূলের কথায় রাস্তায় নেমে অশান্তি সৃষ্টিকারী কর্মীদের কড়া বার্তা দিয়েছেন।
গুলিতে হুঁশিয়ারি: তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “তৃণমূলের কথায় রাস্তায় নামবেন না। রাস্তায় নামলে কেন্দ্রীয় বাহিনী নামবে, গুলি চলবে।” তিনি আরও বলেন যে, সংঘর্ষ হলে তৃণমূল নেতাদের ছেলেরা AC ঘরে বসে থাকবে, গুলি লাগবে সাধারণ মানুষের।
অনুপ্রবেশকারীদের অপসারণ: তিনি স্পষ্ট করে দেন, ভারতীয় মুসলমানদের নাম ভোটার তালিকায় থাকবে, তাতে তাঁরা বিজেপিকে ভোট দিন বা না দিন। কিন্তু বাংলাদেশী মুসলিম যারা অনুপ্রবেশ করেছে, তাদের নাম থাকবে না। তিনি চ্যালেঞ্জ করে বলেন, নথি না থাকলে মন্ত্রী সাবিনা ইয়াসমিনকেও বাংলাদেশে যেতে হবে।
সুকান্ত মজুমদার দাবি করেন যে তৃণমূলের নেতারা নিজেদের কর্মীদের BLO (বুথ লেভেল অফিসার) হিসেবে নিয়োগ করার চেষ্টা করছেন এবং নির্বাচন কমিশনের এই প্রক্রিয়া বানচাল করার জন্য ষড়যন্ত্র করছেন।