‘প্রেগন্যান্ট জব স্ক্যাম’-এর নতুন শিকার! ‘গর্ভবতী করার’ বিজ্ঞাপনে ঝাঁপিয়ে ১১ লক্ষ টাকা খোয়ালেন পুণের ঠিকাদার

সাইবার প্রতারণার জগতে যুক্ত হলো এক নয়া কৌশল—’প্রেগন্যান্ট জব’ অথবা ‘প্লেবয় সার্ভিস স্ক্যাম’। এই অভিনব ফাঁদে পা দিয়েই পুণের এক ঠিকাদার মোটা দাঁও মারতে গিয়ে নিজের ১১ লক্ষ টাকা খুইয়েছেন।

৪৪ বছর বয়সি ওই ঠিকাদার নারী হিতৈষণার ছদ্মবেশে এক আরামদায়ক কাজে মোটা অর্থ লাভের আশায় ঝাঁপিয়ে পড়েছিলেন।

ঠিক কী ছিল সেই বিজ্ঞাপন?

অনলাইনে সেই বিজ্ঞাপনটি ছিল এমন: “আমি গর্ভবতী হতে চাই। আমায় গর্ভবতী করুন।” অভিযোগ অনুসারে, ওই ঠিকাদারের বক্তব্য ছিল, এক মহিলাকে গর্ভবতী করে দিতে পারলে ২৫ লক্ষ টাকা মিলবে। ভিডিও বিজ্ঞাপনে এক মহিলা হিন্দিতে বলেন, “আমি এমন একজন পুরুষ চাই, যে আমাকে মা করতে পারবে। আমি তাকে ২৫ লক্ষ টাকা দেব। সে কী লেখাপড়া জানে, কোন জাতের কিংবা তাকে কেমন দেখতে, তা আমার কাছে গুরুত্বপূর্ণ নয়।”

যেভাবে ঘটল প্রতারণা:

যোগাযোগ ও টোপ: সেপ্টেম্বরের গোড়ার দিকে সোশ্যাল মিডিয়ায় ‘প্রেগন্যান্ট জব’ নামে ওই কোম্পানির ভিডিও বিজ্ঞাপন দেখে লোকটি বিজ্ঞাপনে দেওয়া ফোন নম্বরে কল করেন। অপর প্রান্তের ব্যক্তি নিজেকে প্রতিষ্ঠানের কর্মী হিসেবে পরিচয় দেন।

টাকা হাতানো: কাজের জন্য তাঁকে প্রথমে নাম রেজিস্টার করতে হবে এবং আইডি দিতে হবে বলে জানানো হয়। এরপর কয়েক সপ্তাহ ধরে প্রতারকরা বিভিন্ন ছুতোনাতায় তাঁর কাছ থেকে টাকা চাইতে থাকে—যেমন রেজিস্ট্রেশন ফি, আইডি কার্ড চার্জ, ভেরিফিকেশন, জিএসটি, টিডিএস এবং প্রসেসিং ফি।

ক্ষতির অঙ্ক: মোটা অঙ্কের লাভের আশায় ওই ভদ্রলোক অন্তত ১০০ বার ছোটখাট অনলাইন পেমেন্ট করেন, যার মোট অঙ্ক গিয়ে দাঁড়ায় ১১ লক্ষ টাকা।

ব্লক: এরপর তিনি যখন বারবার কাজ চান, তখন তাঁর ফোন নম্বরটি ব্লক করে দেওয়া হয়। তখনই তিনি বুঝতে পারেন, তিনি প্রতারিত হয়েছেন এবং পুলিশের দ্বারস্থ হন।

মহারাষ্ট্রের বানের থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, অল ইন্ডিয়া প্রেগন্যান্ট জব সার্ভিস নামে এই প্রতারণা চক্রের কেন্দ্রটি সম্ভবত বিহারের নওয়াডা জেলা। পুলিশ আরও সতর্ক করেছে যে, লোকলজ্জার ভয়ে অনেকে প্রতারিত হয়েও অভিযোগ জানাতে পারছেন না।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy