দেশের ইতিহাসে নতুন মাইলফলক ছুঁল কেরল। শনিবার, রাজ্য দিবসের (নভেম্বর ১) এক ঐতিহাসিক ঘোষণার মাধ্যমে মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়ন (Pinarayi Vijayan) কেরলকে “চরম দারিদ্র্যমুক্ত রাজ্য” হিসেবে ঘোষণা করলেন। এর মাধ্যমে কেরল শুধু ভারতের প্রথম রাজ্যই নয়, চিনকে বাদ দিলে বিশ্বের দ্বিতীয় অঞ্চল হিসেবে এই বিরল সম্মান অর্জন করল।
তিরুবনন্তপুরমের সেন্ট্রাল স্টেডিয়ামে বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানের মধ্যে দিয়ে এই ঘোষণা করা হয়। এই সাফল্য অর্জনের মূলে রয়েছে বিজয়ন সরকারের ‘এক্সট্রিম পোভার্টি ইরাডিকেশন প্রজেক্ট’। ২০২১ সালে শুরু হওয়া এই ফ্ল্যাগশিপ উদ্যোগে কয়েক মাস ধরে কুডুম্বশ্রী (Kudumbashree), আশা কর্মী ও স্থানীয় প্রশাসনের সহায়তায় ঘরে ঘরে সমীক্ষা চালানো হয়।
সাফল্যের নেপথ্যে ‘কেরল মডেল’:
টার্গেটেড সমাধান: সমীক্ষায় মোট ৬৪,০০৬টি পরিবার (প্রায় ১.৩ লক্ষ মানুষ), যারা বিশ্বব্যাঙ্কের সংজ্ঞা অনুযায়ী প্রতিদিন $২.১৫ (প্রায় ১৮০ টাকা)-এরও কম আয়ে জীবনযাপন করত, তাদের চিহ্নিত করা হয়। চিহ্নিত প্রতিটি পরিবারের জন্য তৈরি করা হয় পৃথক হস্তক্ষেপমূলক কর্মসূচি—যার মধ্যে ছিল বাসস্থান, চিকিৎসা, কর্মসংস্থান ও সামাজিক সুরক্ষার সমন্বয়।
কুডুম্বশ্রী আন্দোলন: ১৯৯৮ সালে শুরু হওয়া বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ এই মহিলা সমবায়টি (৪৫ লক্ষের বেশি সদস্য) কেরলের এই সাফল্যের মূল স্তম্ভ। এর বিকেন্দ্রীভূত গঠন ও নারীর স্বনির্ভরতাই দারিদ্র্য দূরীকরণে মূল শক্তি জুগিয়েছে।
বিকেন্দ্রীকৃত শাসন: ১৯৯০-এর দশক থেকে স্থানীয় পঞ্চায়েত ও পৌরসভাগুলিকে পরিকল্পনা ও তহবিল ব্যবহারের ক্ষমতা দেওয়ায় প্রশাসনিক জট কমে, স্বচ্ছতা ও দায়বদ্ধতা বেড়েছে।
উল্লেখ্য, নীতি আয়োগের ২০২৩ সালের রিপোর্ট অনুযায়ী, কেরলে মাত্র ০.৫৫ শতাংশ মানুষ ‘বহুমাত্রিক দারিদ্র্য’-র আওতায়, যা দেশের মধ্যে সবচেয়ে কম। বিশেষজ্ঞদের মতে, সরকারের পাশাপাশি নারীকেন্দ্রিক সংগঠন ও স্থানীয় প্রশাসনের ‘Inclusive Governance’-এর ফলস্বরূপ এই টেকসই দারিদ্র্য নির্মূল সম্ভব হলো। চিন এবং কেরল—এই মুহূর্তে বিশ্বে মাত্র দুটি অঞ্চলই নিজেদের “চরম দারিদ্র্যমুক্ত” ঘোষণা করতে পারল, যা ভারতের জন্য এক ঐতিহাসিক অর্জন।