হায়দরাবাদে ‘ডিজিটাল অ্যারেস্ট’ স্ক্যামের এক চাঞ্চল্যকর ঘটনা প্রকাশ্যে এসেছে, যেখানে সাইবার প্রতারকরা ৭৮ বছর বয়সী এক অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মচারীর কাছ থেকে ৫১ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। শ্রীনগর কলোনির বাসিন্দা ওই বৃদ্ধকে একদিন একজন ফোন করে, যিনি নিজেকে মুম্বাই ক্রাইম ব্রাঞ্চের এসিপি বলে পরিচয় দেন। প্রতারক তাঁকে জানায় যে, তাঁর মোবাইল সিম বোমা বিস্ফোরণ এবং অপহরণের মতো গুরুতর অপরাধে ব্যবহৃত হয়েছে।
প্রতারকটি দাবি করে যে বৃদ্ধের নামে একাধিক সিম কার্ড নেওয়া হয়েছে এবং সিবিআই-এর ভুয়ো নোটিশ দেখিয়ে তাঁর বিরুদ্ধে মানি লন্ডারিংয়ের অভিযোগ আনে। ভয় দেখানোর চূড়ান্ত পর্যায়ে, প্রতারক ভিডিও কলের মাধ্যমে ওই বৃদ্ধকে ‘ডিজিটালভাবে গ্রেফতার’ করে। এরপর তাঁকে বলা হয়, মামলা থেকে বাঁচতে হলে তাঁর অ্যাকাউন্টের ৯৫% টাকা একটি নির্দিষ্ট অ্যাকাউন্টে ট্রান্সফার করে দিতে হবে, যা তদন্ত শেষে ফেরত দেওয়া হবে। মামলার ভয়ে দিশেহারা হয়ে বৃদ্ধ তৎক্ষণাৎ ৫১ লক্ষ টাকা ট্রান্সফার করে দেন। পরে বুঝতে পারেন এটি প্রতারণা ছিল, এরপর তিনি সাইবার ক্রাইম পুলিশের কাছে অভিযোগ দায়ের করেন। পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে।
অন্যদিকে, আরও এক চাঞ্চল্যকর ঘটনায়, ৭৩ বছর বয়সী এক মহিলাও একই ধরনের প্রতারণার শিকার হয়েছেন। প্রতারক পুলিশ অফিসার সেজে তাঁকে জানায় যে তাঁর আধার কার্ড শিশু পাচার ও হত্যার সঙ্গে জড়িত এক অপরাধীর কাছে পাওয়া গেছে। তাঁকে গ্রেফতারি পরোয়ানা এবং সিবিআই-এর নকল অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করার আদেশ দেখিয়ে হুমকি দেওয়া হয় যে তাঁকে শীঘ্রই গ্রেফতার করা হবে। আতঙ্কে ওই মহিলা ১.৪৩ কোটি টাকা প্রতারকের অ্যাকাউন্টে ট্রান্সফার করে দেন।
এই প্রেক্ষাপটে হায়দরাবাদ পুলিশ কমিশনার ভি. সি. সজ্জানার নাগরিকদের সতর্ক করেছেন। তিনি জানিয়েছেন যে কিছু সাইবার অপরাধী তাঁর ছবি ব্যবহার করে ভুয়ো হোয়াটসঅ্যাপ অ্যাকাউন্ট তৈরি করেছে এবং সাধারণ মানুষের কাছে টাকা চাইছে। তিনি নাগরিকদের এ ধরনের মেসেজের উত্তর না দিতে, সঙ্গে সঙ্গে নম্বর ব্লক করতে এবং অবিলম্বে পুলিশকে রিপোর্ট করার আবেদন জানিয়েছেন।





