মদ্যপ অবস্থায় গাড়ি চালানোর ‘ঐতিহাসিক’ সাজা! ₹১০ হাজার জরিমানা, সঙ্গে ১০০০ লিফলেট বিলি করে জনসেবার নির্দেশ পুণে আদালতের

মদ্যপ অবস্থায় গাড়ি চালিয়ে নিজের ও পথচারীদের জীবন বিপন্ন করার অপরাধে এবার এক অভিনব শাস্তি ঘোষণা করল পুণের ম্যাজিস্ট্রেট কোর্ট। গত ২২ জুলাই, ২০২৫ তারিখে পিম্পরি চিঞ্চওয়াড় পুলিশের হিঞ্জাওয়াড়ি ট্রাফিক পুলিশ কর্তৃক এক ব্যক্তিকে মদ্যপ অবস্থায় গাড়ি চালানোর (Drunk Driving) অভিযোগে মোটরযান আইনের ১৮৫ ধারায় গ্রেফতার করা হয়।
সম্প্রতি এই মামলার শুনানিতে আদালত অভিযুক্তকে ১০,০০০ টাকা জরিমানার পাশাপাশি এক জনকল্যাণমূলক কাজের নির্দেশ দিয়েছে, যা ভারতে ‘কমিউনিটি সার্ভিস’-এর এক গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ সৃষ্টি করল।
অভিনব সাজা কী?
আদালতের নির্দেশে, দোষী সাব্যস্ত ব্যক্তিকে মদ্যপ অবস্থায় গাড়ি চালানোর বিপদ ও ঝুঁকি উল্লেখ করে ১,০০০টি সচেতনতামূলক লিফলেট মুদ্রণ করতে হবে। এরপর তাঁকে ট্রাফিক সিগন্যালে দাঁড়িয়ে আগামী ৫ দিনের মধ্যে ব্যক্তিগতভাবে এই লিফলেটগুলি পথচারী ও অন্যান্য চালকদের মধ্যে বিলি করতে হবে। জরিমানা দিতে ব্যর্থ হলে চালককে ১০ দিনের সাধারণ কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।
পিম্পরি চিঞ্চওয়াড়ের ডেপুটি পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক), বিবেক পাতিল, এই নির্দেশটিকে নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, আদালত ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতা (BNSS), ২০২৩ এর ২৩ ধারা অনুযায়ী কমিউনিটি সার্ভিস আরোপ করার ক্ষমতা প্রয়োগ করেছে।
পুলিশের নজরদারি:
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, সাজাপ্রাপ্ত ব্যক্তি আদালতের নির্দেশ ঠিকভাবে পালন করছেন কিনা, তা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করবে স্থানীয় ট্রাফিক বিভাগ। লিফলেট বিলির কাজের ভিত্তিতে ট্রাফিক বিভাগকে একটি বিস্তারিত রিপোর্ট আদালতে জমা দিতে হবে।
ডিসি পাতিল আরও বলেন, “চলতি বছরের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত, মোট ২,৯৮৪ জন আরোহী এবং চালকের বিরুদ্ধে মদ্যপ অবস্থায় গাড়ি চালানোর অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। এই ধরনের লঙ্ঘনের ফলে সৃষ্ট দুর্ঘটনা কমাতে আগামী দিনগুলিতে এই অভিযান আরও জোরালো করা হবে।” পুণে আদালতের এই রায় যে অন্যান্য রাজ্যেও দৃষ্টান্ত তৈরি করবে, তা বলাই বাহুল্য।