🔹 Bengali Version:
শীর্ষক ১: নিউ ইয়র্কের মেয়র দৌড়ে রোমাঞ্চকর মোড়: জনমত উপেক্ষা করেও জোরাণ মামদানি এগিয়ে! শীর্ষক ২: আতঙ্ক নাকি আশার আলো? নীতির বিরোধিতা সত্ত্বেও কেন মামদানি-কে ভোট দিচ্ছেন নিউ ইয়র্কবাসী? শীর্ষক ৩: নীতি নিয়ে উদ্বেগ, তবুও জয়ের পথে প্রগতিশীল মামদানি; ক্যুয়োমোর ভাগ্য কী?
নিউ ইয়র্ক সিটি মেয়রের লড়াইয়ে প্রগতিশীল প্রার্থী জোরাণ মামদানি (Zohran Mamdani) (৩৪) তাঁর নীতিগত প্ল্যাটফর্ম নিয়ে শহরের বড় অংশের বাসিন্দাদের উদ্বেগের মুখেও শীর্ষস্থান ধরে রেখেছেন, যা সাম্প্রতিক জরিপে দেখা যাচ্ছে।
জরিপ অনুযায়ী, মামদানি-র প্রতি মানুষের মিশ্র মনোভাব রয়েছে। গত সপ্তাহে প্রকাশিত ‘ভিক্টরি ইনসাইটস’-এর এক সমীক্ষায় দেখা যায়, ৫০০ ভোটারের মধ্যে ৩৯% মামদানি-কে “শহরের ভবিষ্যতের জন্য হুমকি” হিসেবে দেখেন। আবার, ২৬.৫% ভোটার বলেছেন, “যদি তিনি মেয়র হন, তবে তাঁরা শহর ছেড়ে যাওয়ার কথা গুরুত্ব সহকারে ভাবছেন।”
এই সমস্ত উদ্বেগ সত্ত্বেও, মামদানি বেশিরভাগ ক্ষেত্রে প্রতিদ্বন্দ্বীদের চেয়ে এগিয়ে আছেন। ‘ম্যানহাটন ইনস্টিটিউট’-এর একটি পোল অনুযায়ী, তিনি ৪৩% সমর্থন নিয়ে সাবেক গভর্নর অ্যান্ড্রু ক্যুয়োমোর (Andrew Cuomo) (২৮%) থেকে স্পষ্টতই এগিয়ে আছেন। এই একই ত্রি-মুখী পরিস্থিতিতে, রিপাবলিকান প্রার্থী কার্টিস স্লিউয়া (Curtis Sliwa) পেয়েছেন মাত্র ১৯% সমর্থন।
নতুন ভোটারদের মধ্যে প্রগতিশীল বার্তা:
মামদানি-র প্রচার তরুণ এবং অভিবাসী ভোটারদের মধ্যে গতি পেয়েছে। ‘প্যাট্রিয়ট পোলিং’-এর তথ্য অনুযায়ী, নিউ ইয়র্কের ৬২% বিদেশি-বংশোদ্ভূত বাসিন্দা তাঁকে সমর্থন করেন, যেখানে ক্যুয়োমোর সমর্থন মাত্র ২৪%। নিউ ইয়র্ক সিটির জনসংখ্যার প্রায় ৩৭% বিদেশি-বংশোদ্ভূত, যা মামদানি-র জন্য একটি শক্তিশালী ভিত্তি তৈরি করেছে। তবে, আমেরিকান-বংশোদ্ভূত ভোটারদের মধ্যে ক্যুয়োমো ৪০% সমর্থন নিয়ে এগিয়ে, যেখানে মামদানি পেয়েছেন ৩২%। এটি স্পষ্টতই ভোটারদের মধ্যে একটি জনতাত্ত্বিক বিভাজন নির্দেশ করে।
মামদানি-র এজেন্ডা সামাজিক পরিষেবা সম্প্রসারণ, ভাড়া স্থির (Rent Freeze) এবং সরকারি খাতে বিনিয়োগ বৃদ্ধির মতো নীতি অন্তর্ভুক্ত করে—যা মধ্যপন্থী এবং ব্যবসায়িক ভোটারদের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, এই বিভাজন এক মূল দ্বন্দ্বকে তুলে ধরে: একজন প্রার্থী তাঁর এজেন্ডার কিছু অংশের সঙ্গে জনমত দ্বিমত পোষণ করা সত্ত্বেও জনপ্রিয়তা অর্জন করতে পারেন। এক রাজনৈতিক বিশ্লেষক মনে করেন, অনেক ভোটার তাঁর প্রতিটি নীতি সমর্থন করছেন না, তবে তাঁরা এমন একজন পরিবর্তনকারীকে সমর্থন করছেন যিনি স্থিতাবস্থা (Status Quo) চ্যালেঞ্জ করবেন।
ভোটের ফল যাই হোক না কেন, নভেম্বর ৫-এর নির্বাচন আমেরিকান নগর রাজনীতির এক নতুন পর্বের সংকেত দিতে পারে, যেখানে পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষা অনিশ্চয়তার ঝুঁকি নিতে প্রস্তুত।





