এ কী কাণ্ড, AI ডিপফেক দিয়ে বোনের ছবি বানিয়ে ব্ল্যাকমেল, ১৯ বছরের ছাত্রের মর্মান্তিক পরিণতি

ওল্ড ফরিদাবাদের বাসেলওয়া কলোনির এক ১৯ বছর বয়সী কলেজ ছাত্রকে AI-জেনারেটেড ডিপফেক ছবি এবং ভিডিও দিয়ে ব্ল্যাকমেল করার অভিযোগ উঠেছে। দুই অজ্ঞাতপরিচয় অভিযুক্তের লাগাতার হয়রানির শিকার হয়ে শনিবার সন্ধ্যায় ওই ছাত্র বিষ খেয়ে আত্মহত্যা করেন।

পুলিশ রবিবার জানায়, মৃত ছাত্রের নাম রাহুল ভারতী, যিনি স্থানীয় একটি কলেজের বিকম (B.Com) ছাত্র ছিলেন। অভিযুক্তরা অনলাইনে ওই সমস্ত ফেক ছবি ও ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়ে তাঁর কাছ থেকে ২০,০০০ টাকা দাবি করেছিল। এই ক্রমাগত হয়রানির কারণে গত দশ দিন ধরে রাহুল চরম মানসিক চাপে ছিলেন বলে জানান কর্মকর্তারা।

এনআইটি থানার এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, অভিযুক্তরা প্রথমে রাহুলের ফোন হ্যাক করে এবং পরে একটি মেসেজিং অ্যাপের মাধ্যমে তাঁকে হুমকি দিতে শুরু করে। অভিযোগ, তারা রাহুল এবং তাঁর বোনদের আপত্তিকর মরফ করা ছবি ও ভিডিও তৈরি করেছিল।

পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে জানা যায়, শনিবার সন্ধ্যা ৭টা নাগাদ ওই ১৯ বছর বয়সী ছাত্রটি নিজের ঘরে স্যালফাজ ট্যাবলেট খেয়ে নেন। ফরিদাবাদ পুলিশের জনসংযোগ আধিকারিক যশপাল যাদব জানান, পরিবারের সদস্যরা সঙ্গে সঙ্গে তাঁকে স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে গেলেও, চিকিৎসার সময়ই তাঁর মৃত্যু হয়।

মৃতের বাবা মনোজ ভারতী পুলিশকে জানান, রাহুল ভারতী বিগত কয়েকদিন ধরে অত্যন্ত বিমর্ষ ছিলেন। তিনি খাবার কম খাচ্ছিলেন, কথা বলছিলেন না এবং বেশিরভাগ সময় একা ঘরে কাটাতেন। রাহুলের ফোন পরীক্ষা করে তাঁর বাবা ‘সাহিল’ নামের এক ব্যক্তির সঙ্গে বিস্তর চ্যাট দেখতে পান। অভিযোগ, এই ব্যক্তিই মরফ করা নগ্ন ছবি ও ভিডিও তৈরি করে রাহুলকে পাঠিয়েছিল এবং সেগুলি ছড়িয়ে না দেওয়ার জন্য ২০,০০০ টাকা দাবি করে।

সবচেয়ে ভয়ঙ্কর তথ্য হলো, শেষ মেসেজগুলিতে ‘সাহিল’ কেবল টাকা দিতে ব্যর্থ হলে ছবিগুলি অনলাইনে পোস্ট করার হুমকিই দেয়নি, বরং রাহুলকে আত্মহত্যার প্ররোচনাও দিয়েছিল এবং কী ওষুধ খেতে হবে সেটির নামও বলে দেয়। পরিবার রাহুলের পরিচিত আরেকজন— ‘নীরজ ভারতী’ নামেও একজনের জড়িত থাকার সন্দেহ প্রকাশ করেছে, কারণ ঘটনার দিন রাহুলের শেষ ফোন কলটি তাঁর সঙ্গেই হয়েছিল।

দুই অভিযুক্তের বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার (BNS) প্রাসঙ্গিক ধারায় একটি এফআইআর দায়ের করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, তারা রাহুলের ফোন রেকর্ড, চ্যাট হিস্ট্রি এবং সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্ট খতিয়ে দেখছে যাতে এই এআই-জেনারেটেড কনটেন্ট কীভাবে তৈরি এবং শেয়ার করা হয়েছিল, তার উৎস খুঁজে বের করা যায়। অভিযুক্তদের দ্রুত চিহ্নিত করে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।

যদি আপনি বা আপনার পরিচিত কেউ মানসিক কষ্টে ভোগেন অথবা আত্মহত্যার কথা ভাবেন, তাহলে দয়া করে পেশাদার সাহায্য নিন। ভারতের জাতীয় আত্মহত্যার প্রতিরোধ হেল্পলাইন নম্বর হল: 9152987821

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy