ব্রাসেলস: ইউক্রেনের বিরুদ্ধে রাশিয়ার যুদ্ধের পরিপ্রেক্ষিতে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (EU) দেশগুলি বুধবার মস্কোর বিরুদ্ধে ১৯তম নিষেধাজ্ঞা প্যাকেজ অনুমোদন করেছে। এই প্যাকেজের মধ্যে রাশিয়ান তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (LNG) আমদানির ওপর সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
ডেনমার্কের আবর্তনশীল EU প্রেসিডেন্সি নিশ্চিত করেছে যে চূড়ান্ত সদস্য রাষ্ট্র স্লোভাকিয়া তাদের আপত্তি তুলে নেওয়ার পরে এই প্যাকেজটি অনুমোদিত হয়েছে।
স্লোভাকিয়ার বাধা ও চুক্তি
ইউরোপীয় ইউনিয়ন গত সপ্তাহে চূড়ান্ত চুক্তির পাঠ্যে সম্মত হলেও, স্লোভাকিয়া শেষ পর্যন্ত বাধা দিচ্ছিল। স্লোভাকিয়ার প্রধানমন্ত্রী ফিকো উচ্চ জ্বালানি মূল্য এবং জলবায়ু লক্ষ্যমাত্রাকে গাড়ি প্রস্তুতকারক ও ভারী শিল্পের প্রয়োজনের সঙ্গে সমন্বয় করার বিষয়ে ইউরোপীয় কমিশনের কাছে আশ্বাস চেয়েছিলেন।
একটি স্লোভাক কূটনৈতিক সূত্র রয়টার্সকে জানিয়েছে যে বৃহস্পতিবার EU নেতাদের শীর্ষ সম্মেলনের জন্য তৈরি চূড়ান্ত বিবৃতিতে নতুন ধারা যুক্ত করে স্লোভাকিয়ার দাবি পূরণ করা হয়েছে। এর ফলে, বুধবারই কাউন্সিল অনুমোদনের জন্য লিখিত প্রক্রিয়া শুরু করেছে। বৃহস্পতিবার সকাল ৮টার মধ্যে কোনো আপত্তি না এলে নিষেধাজ্ঞা প্যাকেজটি আনুষ্ঠানিকভাবে গৃহীত হবে।
LNG নিষেধাজ্ঞা ও অন্যান্য পদক্ষেপ
নতুন LNG নিষেধাজ্ঞাটি দুটি পর্যায়ে কার্যকর হবে:
স্বল্পমেয়াদী চুক্তি: ছয় মাস পরে শেষ হবে।
দীর্ঘমেয়াদী চুক্তি: ২০২৭ সালের ১ জানুয়ারি থেকে শেষ হবে। সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞাটি EU কমিশনের প্রস্তাবিত রোডম্যাপের চেয়ে এক বছর আগে কার্যকর হচ্ছে।
এই প্যাকেজে রাশিয়ান কূটনীতিকদের ওপর নতুন ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা যুক্ত করা হয়েছে এবং মস্কোর ‘ছায়া নৌবহরের’ আরও ১১৭টি জাহাজকে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে, যার মধ্যে বেশিরভাগই ট্যাঙ্কার। এর ফলে মোট তালিকাভুক্ত জাহাজের সংখ্যা হলো ৫৫৮টি। এছাড়াও, কাজাখস্তান ও বেলারুশের কিছু ব্যাংককেও কালো তালিকাভুক্ত করা হয়েছে।
চীনের ওপরও নিষেধাজ্ঞা
ইউরোপীয় ইউনিয়নের কূটনৈতিক সূত্র রয়টার্সকে জানিয়েছে, চীনের তেল শিল্পের সঙ্গে যুক্ত চারটি প্রতিষ্ঠানকেও তালিকাভুক্ত করা হবে। এই প্রতিষ্ঠানগুলির মধ্যে দুটি তেল শোধনাগার, একটি ট্রেডিং কোম্পানি এবং তেল ও অন্যান্য ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা এড়াতে সহায়তাকারী একটি সংস্থা রয়েছে। আনুষ্ঠানিক গ্রহণের আগে এই নামগুলি প্রকাশ করা হবে না।
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির চিফ অফ স্টাফ আন্দ্রেই ইয়ারম এই নতুন নিষেধাজ্ঞার অনুমোদনকে স্বাগত জানিয়েছেন। তিনি টেলিগ্রামে লিখেছেন, “আমরা থামছি না। প্যাকেজ নম্বর ২০-এর কাজ ইতিমধ্যেই চলছে।” তাঁর সহজ যুক্তি: “রাশিয়ার কাছে কম টাকা মানে ইউক্রেনে কম ক্ষেপণাস্ত্র।”





