সড়ক নয়, যেন মৃত্যুফাঁদ! উগান্ডার হাইওয়েতে ভয়াবহ দুর্ঘটনা, মৃত ৬৩, ২০২৩ সালের তুলনায় কেন এত বাড়ছে মৃত্যুর সংখ্যা?

পূর্ব আফ্রিকার দেশ উগান্ডায় ফের ঘটল ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনা। বুধবার ভোররাতে পশ্চিম উগান্ডার এক ব্যস্ত মহাসড়কে দুটি যাত্রীবাহী বাস ও আরও দুটি গাড়ির মধ্যে মুখোমুখি সংঘর্ষে অন্তত ৬৩ জনের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। ঘটনায় বহু মানুষ আহত হয়েছেন, যাঁদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।

একইসঙ্গে ওভারটেক করতে গিয়েই বিপত্তি
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, দুর্ঘটনাটি ঘটে গুলু শহরে যাওয়ার পথে এক হাইওয়েতে। দুটি বাস বিপরীত দিক থেকে আসছিল। পুলিশ জানিয়েছে, উভয় বাসের চালকই একইসঙ্গে বিপজ্জনকভাবে ওভারটেক করার চেষ্টা করছিলেন। ঠিক সেই মুহূর্তেই বাস দুটির মধ্যে মুখোমুখি ধাক্কা লাগে। সংঘর্ষের তীব্রতা এতটাই বেশি ছিল যে ঘটনাস্থলেই বহু যাত্রীর মৃত্যু হয় এবং বাস দু’টি সম্পূর্ণভাবে চূর্ণবিচূর্ণ হয়ে যায়।

আহতদের দ্রুত স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। পুলিশের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “চালকদের কেউই ওভারটেক করার সময় নিরাপত্তার নিয়ম মানেননি। এর ফলেই এই ভয়াবহ মুখোমুখি সংঘর্ষ ঘটে।”

উগান্ডায় সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যুর হার উদ্বেগজনক
উগান্ডা ও পূর্ব আফ্রিকার অন্যান্য দেশে সড়ক দুর্ঘটনা নতুন কিছু নয়। সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এই অঞ্চলে দুর্ঘটনার হার উদ্বেগজনকভাবে বাড়ছে।

২০২৪ সালে উগান্ডায় মোট ৫,১৪৪ জন মানুষ সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন।

২০২৩ সালে এই সংখ্যা ছিল ৪,৮০৬।

সাম্প্রতিক অপরাধ রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে, ২০২৪ সালের দুর্ঘটনাগুলির প্রায় ৪৪.৫ শতাংশের জন্য দায়ী ছিল অসতর্ক ওভারটেকিং ও অতিরিক্ত গতিতে গাড়ি চালানো।

পশ্চিম উগান্ডার স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, এই হাইওয়েটি সংকীর্ণ এবং রাতে দৃশ্যমানতা কম থাকে। অনেক সময় চালকরা ক্লান্ত অবস্থায় গাড়ি চালান, যা দুর্ঘটনার ঝুঁকি আরও বাড়িয়ে তোলে।

সরকারের উচ্চপর্যায়ের আশ্বাস
দুর্ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়তেই দেশজুড়ে শোকের ছায়া নেমে আসে। সরকার নিহতদের পরিবারকে সমবেদনা জানিয়েছে এবং আহতদের দ্রুত চিকিৎসা নিশ্চিত করার আশ্বাস দিয়েছে। একই সঙ্গে দুর্ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

সরকারি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ভবিষ্যতে এমন ভয়াবহ দুর্ঘটনা এড়াতে হাইওয়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হবে এবং দ্রুত গতি সীমা নিয়ন্ত্রণে আনার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।