. “ডাক্তারি পড়তে মেধা লাগে না!” বাবার টাকা আর কাস্টই সব? চিকিৎসক নারায়ণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিতর্কিত পোস্টে তুমুল তোলপাড়

আরজি কর আন্দোলন-সহ একাধিক সামাজিক প্রতিবাদে পরিচিত মুখ চিকিৎসক নারায়ণ বন্দ্যোপাধ্যায়। বামেদের সঙ্গে ভালো সখ্যের কারণেও তিনি পরিচিত। এহেন সেই পরিচিত ডাক্তারবাবুই এবার সোশ্যাল মিডিয়ায় তাঁর নিজের পেশা এবং মেধাতন্ত্র নিয়ে এমন এক বিতর্কিত মন্তব্য করে বসলেন, যা নিয়ে চিকিৎসক মহল থেকে শুরু করে সাধারণ সমাজ পর্যন্ত তুমুল তোলপাড় শুরু হয়েছে।

ঠিক কী লিখেছেন চিকিৎসক নারায়ণ বন্দ্যোপাধ্যায়?
নিজের ফেসবুক হ্যান্ডেলে তিনি এমন কিছু কথা লিখেছেন, যা সমাজে পিছিয়ে পড়া অংশকে ‘ছোট’ করার অপচেষ্টা বলে মনে করছেন অনেকে। বিতর্কিত সেই মন্তব্যটি নিম্নরূপ:

“ডাক্তারি পড়তে গেলে এখন বাবার টাকা লাগে। র‌্যাঙ্ক পিছনে থাকলেও টাকা দিয়ে বেসরকারি মেডিক‌্যাল কলেজে পড়া যায়। আর সিডিউল কাস্ট এবং সিডিউল ট্রাইব হলেই বিশেষ সুবিধা মেলে। মেধার দরকার হয় না।”

উদ্দেশ্য নিয়ে প্রশ্ন, বাড়ছে বিতর্ক
এই পোস্ট সামনে আসার পরই প্রশ্ন উঠেছে, বামপন্থী মহলে পরিচিত নারায়ণবাবু কেন হঠাৎ এমন মন্তব্য করলেন? তিনি কি জুনিয়র ডক্টর্স ফ্রন্টের অতি পরিচিত মুখ কিঞ্জল নন্দ-সহ অন্যান্যদের লক্ষ্য করে এই মন্তব্য করলেন? গুরুত্ব হারানোর ভয় নাকি অন্য কোনো কারণ?

একসময় আরজি কর আন্দোলনের শুরুতে জুনিয়র ডক্টর্স ফ্রন্টের একাধিক কর্মসূচিতে তাঁকে দেখা গেলেও পরে তাঁর উপস্থিতি কমতে থাকে। তবে সোশ্যাল মিডিয়ায় তিনি বরাবরই সক্রিয়।

নারায়ণের মন্তব্যে নেটদুনিয়ায় তীব্র প্রতিক্রিয়া
তাঁর এই পোস্টটি তীব্র হইচই ফেলে দিয়েছে। নেটিজেনরা দ্বিধাবিভক্ত:

সঞ্চারী রায় এই মন্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় লিখেছেন, “পুরোটা একমত হতে পারলাম না।”

রাহুল কুমার বিশ্বাস পালটা যুক্তি দিয়ে বলেন, “একবার ভেবে দেখুন—একজন SC/ST ছাত্র বা ছাত্রীকে আজও কত প্রতিকূলতার মধ্যে দিয়ে এখানে পৌঁছাতে হয়। তাদের অধিকাংশের ঘরে হয়তো নুন আনতে পান্তা ফুরায়, ঠিকমত খেতেই পায়না, টিউশন পায়না। তাদের চোদ্দ পুরুষে হয়তো একজন গ্রাজুয়েটও নেই, ডাক্তার তো অনেক দূরের কথা।”

মেধা, সংরক্ষণ এবং আর্থিক সামর্থ্যের মতো সংবেদনশীল বিষয় নিয়ে একজন পরিচিত চিকিৎসকের এমন মন্তব্য রীতিমতো বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।