সোশ্যাল মিডিয়ায় অ্যাকাউন্ট খুললেই বিপদ! শিশুদের সুরক্ষায় কেন্দ্রকে কড়া নোটিস সুপ্রিম কোর্টের

শিশুদের মধ্যে সোশ্যাল মিডিয়ার লাগামছাড়া আসক্তি এবং ইন্টারনেটের সুরক্ষাহীনতা নিয়ে দীর্ঘদিনের উদ্বেগের অবসান ঘটাতে এবার অত্যন্ত কঠোর পদক্ষেপ করল সুপ্রিম কোর্ট। ১৮ বছরের কম বয়সি কোনো নাবালকের সঙ্গে ডিজিটাল ও সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মগুলি যাতে সরাসরি কোনো আইনি চুক্তিতে আবদ্ধ হতে না পারে এবং তাদের জন্য একটি শক্তিশালী সুরক্ষা বলয় তৈরি করা যায়, সে বিষয়ে কেন্দ্রীয় সরকারের মতামত তলব করেছে দেশের শীর্ষ আদালত।
প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী এবং বিচারপতি ভি মোহনাইয়ের সমন্বয়ে গঠিত তিন বিচারপতির বিশেষ বেঞ্চ এই জনস্বার্থ মামলার শুনানিতে কেন্দ্রীয় ইলেকট্রনিক্স ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রক এবং আইন ও বিচার মন্ত্রককে নোটিস পাঠিয়েছে। অলাভজনক সংস্থা ‘জাস্ট রাইটস ফর চিলড্রেন অ্যালায়েন্স’-এর পক্ষে প্রবীণ আইনজীবী এইচ এস ফুলকা আদালতে সওয়াল করেন যে, ভারতে শিশুদের সুরক্ষায় সুনির্দিষ্ট ও কড়া আইনি বর্ম থাকা অত্যন্ত জরুরি।
মামলাকারীদের প্রধান যুক্তি ছিল, ‘ইন্ডিয়ান কন্ট্রাক্ট অ্যাক্ট’-এর ১১ নম্বর ধারা অনুযায়ী নাবালকদের সঙ্গে কোনো চুক্তিই আইনগতভাবে বৈধ হতে পারে না। অথচ ফেসবুক বা স্ন্যাপচ্যাটের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলি মাত্র ১৩ বছর বয়স হলেই শিশুদের স্বাধীন অ্যাকাউন্ট খোলার সুযোগ দিচ্ছে, যা দেশের প্রচলিত আইনের সঙ্গে সরাসরি সংঘাত তৈরি করছে। এর ফলে অভিভাবকের সম্মতি ছাড়াই শিশুরা সাইবার বুলিং, অনলাইন গ্রুমিং, যৌন শোষণ, ব্যক্তিগত তথ্যের অপব্যবহার এবং বয়সের অনুপযুক্ত কনটেন্টের মতো মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়ছে।
আইটি নিয়মাবলী (IT Rules 2021) সংশোধন করে কঠোর বয়স যাচাইকরণ (Age-verification) এবং অভিভাবকদের ই-কেওয়াইসি (e-KYC) বাধ্যতামূলক করার দাবিও জানানো হয়েছে এই পিআইএলে। সুপ্রিম কোর্ট এই বিষয়ে নোটিস জারি করায় এখন সমস্ত নজর কেন্দ্রের রিপোর্টের দিকেই।