শুধুমাত্র ‘শারীরিক সম্পর্ক’ (Physical Relations) শব্দটি ব্যবহার করলেই তা ধর্ষণের প্রমাণ হিসেবে যথেষ্ট নয়। সম্প্রতি একটি যুগান্তকারী রায়ে এমনই পর্যবেক্ষণ দিল দিল্লি হাইকোর্ট। POCSO আইনের অধীনে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে আনা ‘গুরুতর অনুপ্রবেশমূলক যৌন নির্যাতন’ (Aggravated Penetrative Sexual Assault) এর অভিযোগ থেকে তাকে বেকসুর খালাস করার সময় আদালত এই গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য করেছে।
কী রায় দিল হাইকোর্ট?
বিচারপতি ওহরি’র বেঞ্চ জানিয়েছে, এই বিশেষ মামলায় অভিযোগকারী শিশু এবং তার বাবা-মায়ের সাক্ষ্যের মূল ভিত্তি ছিল ‘শারীরিক সম্পর্ক’ শব্দটির বারংবার ব্যবহার। কিন্তু এর সঙ্গে অভিযুক্তের অপরাধকে সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণ করার মতো কোনও সহায়ক সাক্ষ্য-প্রমাণ বা ফরেনসিক প্রমাণ আদালতে পেশ করা সম্ভব হয়নি।
আদালতের বক্তব্য, “এই মামলার বিশেষ তথ্য ও পরিস্থিতিতে, শুধুমাত্র ‘শারীরিক সম্পর্ক’ শব্দটি ব্যবহার করা যথেষ্ট নয়। অভিযোগকারী এই শব্দবন্ধ দিয়ে ঠিক কী বোঝাতে চেয়েছেন, তা পরিষ্কার নয়। POCSO আইনে বর্ণিত ‘অনুপ্রবেশমূলক যৌন নির্যাতন’-এর উপাদানগুলি এর দ্বারা পূরণ হচ্ছে না।”
ফলে, শুধুমাত্র মৌখিক সাক্ষ্যের ভিত্তিতে এবং পর্যাপ্ত প্রমাণের অভাবের কারণে ওই ব্যক্তির বিরুদ্ধে ভারতীয় দণ্ডবিধির ৩৭৬ ধারা (ধর্ষণ) এবং POCSO আইনের ৬ ধারার (গুরুতর অনুপ্রবেশমূলক যৌন নির্যাতন) অধীনে আনা অভিযোগগুলি খারিজ করে দিয়েছে দিল্লি হাইকোর্ট। নিম্ন আদালত যে ১০ বছরের সাজার রায় দিয়েছিল, তা খারিজ করে অভিযুক্তের আবেদন মঞ্জুর করা হয়েছে।
গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ:
হাইকোর্ট স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, ‘শারীরিক সম্পর্ক’ শব্দটি ভারতীয় দণ্ডবিধি বা POCSO আইন, কোথাও সংজ্ঞায়িত করা নেই। অভিযোগের সত্যতা প্রতিষ্ঠা করতে হলে, কী ধরনের কাজ করা হয়েছে তার সুস্পষ্ট বর্ণনা এবং তা প্রমাণের জন্য জোরালো সাক্ষ্য-প্রমাণ আবশ্যক।
এই রায় প্রমাণ-ভিত্তিক আইনি প্রক্রিয়ার গুরুত্বকে আবার সামনে আনল এবং ধর্ষণের মামলার ক্ষেত্রে আদালতের তীক্ষ্ণ ও বিস্তারিত মূল্যায়নের প্রয়োজনীয়তাকে তুলে ধরল।