আসন্ন বিহার বিধানসভা নির্বাচনকে ঘিরে রাজ্যে রাজনৈতিক উত্তেজনা তুঙ্গে। কিন্তু বিরোধী জোট মহাগঠবন্ধন (Mahagathbandhan)-এর মধ্যে আসন ভাগাভাগি নিয়ে চরম অসন্তোষ এবং অভ্যন্তরীণ বিবাদ দেখা দেওয়ায় জোটের ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।1 রাষ্ট্রীয় জনতা দল (RJD) এবং ইন্ডিয়ান ন্যাশনাল কংগ্রেস-এর মধ্যে ঐকমত্য না হওয়ায় উভয় দলই বেশ কয়েকটি আসনে পরস্পর বিরোধী প্রার্থী দাঁড় করিয়েছে। এই অবস্থাকে জোট নেতারা ‘বন্ধুত্বপূর্ণ লড়াই’ (Friendly Fight) বললেও, রাজনৈতিক মহলে তা জোটের ফাটল হিসেবেই বিবেচিত হচ্ছে।মহাগঠবন্ধনে রয়েছে কংগ্রেস, আরজেডি, সিপিআই (CPI), সিপিআই (এমএল) এবং বিকাশশীল ইনসান পার্টি (VIP)।2 অন্যদিকে, নীতীশ কুমারের জেডি(ইউ) নেতৃত্বাধীন শাসক জোট ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক অ্যালায়েন্স (NDA)-এর সঙ্গে তারা মুখোমুখি লড়াইতে রয়েছে।আসন সমঝোতায় এনডিএ এগিয়েবিরোধী জোটের বিপরীতে, মুখ্যমন্ত্রী নীতীশ কুমারের নেতৃত্বাধীন এনডিএ জোট অনেক আগেই তাদের আসন সমঝোতা চূড়ান্ত করে ফেলেছে। এনডিএ-তে রয়েছে জেডি(ইউ), ভারতীয় জনতা পার্টি (BJP), লোক জনশক্তি পার্টি (রাম বিলাস), হিন্দুস্তানি আওয়াম মোর্চা (HAM) এবং রাষ্ট্রীয় লোক মোর্চা (RLM)।বিজেপি ও জেডি(ইউ): ১০১টি করে আসন।এলজেপি (রাম বিলাস): ২৯টি আসন।আরএলএম ও এইচএএম: ৬টি করে আসন।বিহার বিধানসভার মোট ২৪৩টি আসনে আগামী ৬ ও ১১ নভেম্বর দু’টি ধাপে ভোটগ্রহণ হবে।3 গণনা ১৪ নভেম্বর।আরজেডি বনাম কংগ্রেস: কটি আসনে সরাসরি টক্কর?মহাগঠবন্ধনের দুই প্রধান শরিক আরজেডি এবং কংগ্রেসের মধ্যে যে আসনগুলিতে সরাসরি প্রতিদ্বন্দ্বিতা হচ্ছে, তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য:আসনআরজেডি প্রার্থীকংগ্রেস প্রার্থীবৈশালীঅজয় কুশওয়াহাসঞ্জীব সিংকাহালগাঁওরজনীশ ভারতীপ্রবীন কুমার কুশওয়াহানারকাটিয়াগঞ্জদীপক যাদবশাহস্বত কেদার পান্ডেলালগঞ্জশিবানী শুক্লাআদিত্য কুমারসুলতানগঞ্জচন্দন সিনহালালন যাদবওয়ারসালিগঞ্জঅনিতা দেবীসতীশ কুমার সিংএছাড়াও তারাপুর, রোসেরা, গৌরা বৌরন, আলামনগর এবং সিকান্দ্রা সহ একাধিক আসনে মহাগঠবন্ধনের শরিকদের মধ্যে কোন্দল প্রকাশ্যে এসেছে।এদিকে, জোটের আর এক শরিক ঝাড়খণ্ড মুক্তি মোর্চা (JMM) সরাসরি আরজেডি-এর বিরুদ্ধে ‘রাজনৈতিক চালাকি’-এর অভিযোগ এনেছে এবং ঝাড়খণ্ডেও জোট সম্পর্ক ছিন্ন করার হুমকি দিয়েছে।4কেন্দ্রীয় মন্ত্রী এবং এলজেপি (রাম বিলাস)-এর প্রধান চিরাগ পাসোয়ান এই ‘বন্ধুত্বপূর্ণ লড়াই’-এর ধারণাকে কটাক্ষ করে বলেছেন, “রাজনীতিতে ‘বন্ধুত্বপূর্ণ লড়াই’ বলে কিছু হয় না।”NDA-এর জন্য সুবিধা: ভোট ভাগাভাগির আশঙ্কারাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, মহাগঠবন্ধনের এই অনৈক্য শাসক জোট এনডিএ-এর জন্য একটি কৌশলগত সুবিধা এনে দিতে পারে।ভোট ভাগ: যখন একটি জোটের একাধিক শরিক দল একে অপরের বিরুদ্ধে লড়ে, তখন বিরোধী ভোট ভাগ হয়ে যায়। এটি সরাসরি এনডিএ-র প্রার্থীর জয়ের পথ সহজ করে দিতে পারে, বিশেষত যে আসনগুলিতে জয়ের ব্যবধান খুবই কম থাকে।২০২০ সালের ফলাফল: গত ২০২০ সালের নির্বাচনে বৈশালী, সুলতানগঞ্জ, কাহালগাঁও, নারকাটিয়াগঞ্জ, লালগঞ্জ ও ওয়ারসালিগঞ্জের মতো আসনগুলিতে এনডিএ খুব কম ব্যবধানে জিতেছিল। এবার এই আসনগুলিতে ভোট ভাগ হলে এনডিএ প্রার্থীরা আরও বেশি সুবিধা পাবেন।ভোটারদের বিভ্রান্তি: জোটের অভ্যন্তরীণ প্রতিদ্বন্দ্বিতা ভোটারদের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি করতে পারে, যা বিরোধী জোটের বিশ্বাসযোগ্যতা নষ্ট করবে। মহাগঠবন্ধনের আদর্শ সমর্থনকারী ভোটাররা তখন দ্বিধায় পড়ে যেতে পারেন, ফলে ভোটদানের হার কমতে পারে বা তারা আরও সুসংগঠিত এনডিএ জোটের দিকে ঝুঁকতে পারেন।
Home
OTHER NEWS
বিহার নির্বাচন ২০২৫, মহাগঠবন্ধনে চরম সংঘাত আসন ভাগাভাগির দ্বন্দ্বে ‘বন্ধুত্বপূর্ণ লড়াই’ আসলে NDA-এর জন্য সুবিধা