মূল সংবাদ ‘স্বপ্ন দেখা ছাড়ুন’- ট্রাম্পের দাবি উড়িয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে চরম হুঁশিয়ারি ইরানের সর্বোচ্চ নেতার

তেহরান: ইরানের পরমাণু কেন্দ্র ধ্বংসের মার্কিন দাবি সরাসরি খারিজ করে দিলেন দেশের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লাহ আলি খামেনেই। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের এই দাবিকে নিছক ‘দিবাস্বপ্ন’ বলে কটাক্ষ করেছেন তিনি। একইসঙ্গে, পারমাণবিক আলোচনার প্রস্তাব নিয়েও ট্রাম্পের কর্তৃত্বকে চ্যালেঞ্জ জানিয়েছেন খামেনেই।

‘দিবাস্বপ্ন দেখছেন’: ট্রাম্পকে খামেনেই-এর বার্তা
গত জুনে মার্কিন বিমান হামলায় ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলো ধ্বংস হয়ে গেছে বলে দাবি করেছিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। নিজের ওয়েবসাইটে এক বার্তায় খামেনেই এই দাবি প্রসঙ্গে বলেন, “মার্কিন প্রেসিডেন্ট গর্বের সঙ্গে বলছেন যে তারা ইরানের পারমাণবিক শিল্পে বোমা ফেলেছে এবং তা ধ্বংস করে দিয়েছে। খুব ভালো, স্বপ্ন দেখতে থাকুন!”

শুধুমাত্র দাবি খারিজ করেই থেমে থাকেননি ইরানের সর্বোচ্চ নেতা। গত ১৩ জুনের ইসরায়েলি হামলায় ১২ দিনের যুদ্ধ এবং পরবর্তী মার্কিন বিমান হামলার পর ট্রাম্পের পারমাণবিক আলোচনার প্রস্তাবও প্রত্যাখ্যান করেছেন তিনি।

‘তুমি কে?’ ট্রাম্পের ক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন
পারমাণবিক সক্ষমতার বিষয়ে অন্য দেশের উপর মাতব্বরি করার জন্য ডোনাল্ড ট্রাম্পের অধিকার নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন খামেনেই। তিনি আক্রমণাত্মক সুরে জিজ্ঞাসা করেন, “যদি একটি দেশের পারমাণবিক শিল্প থাকে, তবে সেই দেশ কী রাখতে পারবে বা পারবে না, তা বলার তুমি কে?”

খামেনেই ট্রাম্পের বক্তব্যকে ‘গুন্ডামি’ ও ‘ভিত্তিহীন’ বলে নিন্দা করেন। তাঁর অভিযোগ, ট্রাম্প মিথ্যাচারের মাধ্যমে জায়নবাদী মনোভাবকে চাঙ্গা করতে এবং ইরান ও তার জনগণের সম্পর্কে মিথ্যা বলে ক্ষমতা জাহির করতে চাইছেন।

ট্রাম্পের দাবি: ‘পরমাণু কেন্দ্র নিশ্চিহ্ন’
গত সোমবার ইজরায়েলের নেসেটে (সংসদ) ভাষণ দেওয়ার সময় ট্রাম্প তাঁর দাবি পুনর্ব্যক্ত করেছিলেন। তিনি বলেছিলেন, বিমান হামলায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ইরানের গুরুত্বপূর্ণ পারমাণবিক স্থানগুলো ‘পুরোপুরি নিশ্চিহ্ন’ করে দিয়েছে। ট্রাম্পের দাবি ছিল, “আমরা ইরানের মূল পারমাণবিক কেন্দ্রগুলোতে ১৪টি বোমা ফেলেছি। যেমনটা আমি বলেছিলাম, সেগুলোকে সম্পূর্ণভাবে নিশ্চিহ্ন করে দেওয়া হয়েছে, এবং তা নিশ্চিত করা হয়েছে।”

ফক্স নিউজের একটি সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প আরও দাবি করেন যে এই হামলার পর ইরান আর “মধ্যপ্রাচ্যের গুন্ডা” থাকতে পারেনি এবং এই সামরিক অভিযানকে তিনি “সবচেয়ে সুন্দর সামরিক অভিযান” বলে অভিহিত করেন।

ক্ষয়ক্ষতির আসল চিত্র ধোঁয়াশা
মার্কিন হামলার ফলে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির আসল ক্ষয়ক্ষতি কতটা হয়েছে, তা এখনও স্পষ্ট নয়। মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর (পেন্টাগন) জানিয়েছে, এই হামলার ফলে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি এক থেকে দুই বছর বিলম্বিত হয়েছে। তবে, প্রাথমিক গোপন মার্কিন গোয়েন্দা রিপোর্টে মাত্র কয়েক মাসের বিলম্বের কথা বলা হয়েছিল।

এদিকে, পারমাণবিক আলোচনা বর্তমানে থমকে আছে। ইরান আলোচনা শুরুর আগে সামরিক পদক্ষেপ না নেওয়ার বিষয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে নিরাপত্তা গ্যারান্টি দাবি করেছে।

২০১৫ সালের পারমাণবিক চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার পর বর্তমানে ইরান জাতিসংঘের নিষেধাজ্ঞার অধীনে রয়েছে। ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে ২০১৮ সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এই চুক্তি থেকে সরে আসে। যদিও ইরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির কথা অস্বীকার করে, তবে তারা শান্তিপূর্ণ উদ্দেশ্যে অনুপযোগী মাত্রায় ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করেছে, আন্তর্জাতিক পরিদর্শকদের প্রবেশাধিকারও ব্লক করেছে এবং ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা বাড়িয়েছে বলে খবর রয়েছে।

এই তীব্র উত্তেজনার আবহে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেবে বলে আপনি মনে করেন? আপনার মন্তব্য জানান।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy