মা-বাবা কাজে গেলেই বাড়িতে নৃশংসতা? নিরীহ শিশুর করুণ পরিণতিতে শোকস্তব্ধ সোনারপুর, ময়নাতদন্তের অপেক্ষায় পুলিশ

আলোর উৎসব কালীপুজোর সকালে এক মর্মান্তিক ঘটনায় শোকস্তব্ধ হয়ে গেল দক্ষিণ ২৪ পরগনার সোনারপুর। রবিবার (১৯ অক্টোবর) সোনারপুর থানার অধীনে কোদালিয়ার কদমতলা এলাকা থেকে চার বছরের শিশুকন্যা প্রত্যুষা কর্মকারের রক্তাক্ত দেহ উদ্ধার করা হয়েছে। কীভাবে এই শিশুর মৃত্যু হল, তা নিয়ে ব্যাপক রহস্য ঘনিয়েছে। পুলিশ ইতিমধ্যেই শিশুর পরিচারিকা এবং দাদু-দিদাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করেছে।

আচমকা চিৎকার ও রহস্য:

স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, রবিবার দুপুরে আচমকা প্রত্যুষার বাড়ি থেকে চিৎকারের শব্দ শুনে তাঁরা দৌড়ে যান। ঘরে ঢুকতেই দেখেন শিশুকন্যা প্রত্যুষা মেঝেতে পড়ে রয়েছে এবং সারা ঘর রক্তে ভাসছে। সঙ্গে সঙ্গে তাঁকে সুভাষগ্রাম গ্রামীণ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসকরা প্রত্যুষাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।

এক প্রতিবেশী জানান, “ওর দিদিমা হঠাৎ চিৎকার করে। আমরা ছুটে গিয়ে দেখি প্রত্যুষার সারা গায়ে খোবলানো ক্ষত। দেখে তো মনে হচ্ছে ধারাল কিছু দিয়ে খোঁচানো হয়েছে।”

রহস্যের কেন্দ্রে বাড়ির লোকজন:

জানা গিয়েছে, প্রত্যুষার মা কলকাতার এক নামী বিপণিতে এবং বাবা একটি বেসরকারি হাসপাতালে কর্মরত। প্রতিদিনের মতো রবিবারও তাঁরা কাজে বেরিয়ে গিয়েছিলেন। বাড়িতে ছিলেন দাদু, দিদা এবং শিশুটির দেখভালের দায়িত্বে থাকা এক মহিলা পরিচারিকা। তাঁদের সামনে এমন নৃশংস ঘটনা ঘটল কীভাবে, সেই প্রশ্নই এখন বড় হয়ে উঠেছে।

মৃতদেহে একাধিক ক্ষতচিহ্ন পাওয়ায় পুলিশ খুনের আশঙ্কা উড়িয়ে দিচ্ছে না। ঘটনার পরই পুলিশ শিশুটির দাদু, দিদা ও পরিচারিকাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করেছে।

তদন্তকারী সংস্থা মনে করছে, আজ, সোমবার ময়নাতদন্তের পরই শিশুর মৃত্যুর আসল কারণ স্পষ্ট হবে। ইতিমধ্যেই বাড়িটি সিল করে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। নিরীহ এক শিশুর এমন করুণ পরিণতিতে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ও শোকের পরিবেশ বিরাজ করছে।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy