‘কাউকে অনুমতি দিইনি, মিথ্যা অভিযোগ’! বনসৃজন প্রকল্পের গাছ কাটা নিয়ে কাঠগড়ায় কালনা ২ ব্লকের তৃণমূল প্রধান

বনসৃজন প্রকল্পের অধীনে রাস্তার ধারে লাগানো সরকারি গাছ কেটে নেওয়ার গুরুতর অভিযোগ উঠল তৃণমূল পরিচালিত গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধানের বিরুদ্ধে। টাকার বিনিময়েই গাছ কাটার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ স্থানীয় বাসিন্দাদের। ঘটনাটি ঘটেছে পূর্ব বর্ধমানের কালনা ২ নম্বর ব্লকের বাদলা গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায়। যদিও গ্রাম পঞ্চায়েত প্রধান তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

ঠিক কী ঘটেছে?

রবিবার সকালে কালনা ২ নম্বর ব্লকের বাদলা গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় রাস্তার ধারে সরকারি গাছ কাটতে দেখেন স্থানীয় বাসিন্দারা। আব্দুল খালেদ গাজী নামে এক ব্যক্তি লোকজন নিয়ে গাছ কাটছিলেন। স্থানীয়দের জিজ্ঞাসাবাদে তিনি জানান, বাদলা গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান বাপ্পাদিত্য গোস্বামীর নির্দেশে তিনি এই গাছ কাটছেন এবং তিনটি গাছের জন্য তিনি ৮ হাজার টাকা দিয়েছেন। যদিও তিনি গাছ কাটার কোনো সরকারি অনুমতিপত্র দেখাতে পারেননি। আব্দুল খালেদ গাজী শুধু বলেন, “প্রধান নির্দেশ দিয়েছেন।”

স্থানীয় বাসিন্দা মানিক পাল বলেন, “গাছ কাটার নির্দেশ প্রধান দিতে পারেন না। এদিন ভোর থেকে যেভাবে গাছ কাটা হচ্ছিল, তা দেখেই আমাদের সন্দেহ হয়। আমরা প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ করি।”

প্রশাসনের পদক্ষেপ:

সরকারি অনুমতিপত্র দেখাতে না পারায় স্থানীয় বাসিন্দারা সঙ্গে সঙ্গে বৈদ্যপুর ফাঁড়ির আইসি, কালনা ২ নম্বর ব্লকের বিডিও এবং জেলাশাসকের কাছে অভিযোগ জানান। খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছয় বৈদ্যপুর ফাঁড়ির পুলিশ। গাছ কাটার ঘটনা নিশ্চিত হওয়ার পর পুলিশ কেটে ফেলা গাছগুলিকে বাজেয়াপ্ত করে নিয়ে যায়।

প্রধানের অস্বীকার:

বাদলা গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান বাপ্পাদিত্য গোস্বামীর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেন। তিনি বলেন, “আমি কাউকেই কোনো গাছ কাটার অনুমতি দিইনি। আমার নামে মিথ্যা কথা বলা হচ্ছে।”

সরকারি প্রকল্পের গাছ বেআইনিভাবে কেটে নেওয়ার এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্য ও রাজনৈতিক উত্তেজনা ছড়িয়েছে। পুলিশ গাছগুলি বাজেয়াপ্ত করে ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy