বিহারে মহাজোটে চরম সংঘাত, মুখ্যমন্ত্রী পদ ও আসন ভাগাভাগি নিয়ে কংগ্রেস-RJD-র মধ্যে তীব্র বিতর্ক, ভাঙনের মুখে জোট!

পাটনা, বিহার: আসন্ন বিহার বিধানসভা নির্বাচনের ঠিক আগে বিরোধী মহাজোটের (মহাগঠবন্ধন) মধ্যে তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। আসন ভাগাভাগি এবং মুখ্যমন্ত্রী পদপ্রার্থী নির্বাচন নিয়ে প্রধান শরিক কংগ্রেস এবং রাষ্ট্রীয় জনতা দল (RJD)-এর মধ্যে চরম সংঘাত শুরু হয়েছে, যা জোটের ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন তুলে দিয়েছে।

কুতুম্বা আসন নিয়ে চরম বিতর্ক: মহাজোটের এই অসন্তোষের প্রধান কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে ঔরঙ্গাবাদের কুতুম্বা (সংরক্ষিত) বিধানসভা আসনটি। এই আসনটিতে RJD তাদের প্রার্থী ঘোষণা করেছে সরাসরি কংগ্রেসের রাজ্য সভাপতি রাজেশ রামের বিরুদ্ধে। এই ঘটনা দুই শরিকের মধ্যে সম্পর্ককে আরও খারাপের দিকে নিয়ে গেছে। দীর্ঘদিন ধরে কংগ্রেসের গড় বলে পরিচিত এই আসনে RJD-এর প্রার্থী দেওয়াকে কংগ্রেস নেতৃত্ব তাদের প্রতি সরাসরি চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছে। রাজেশ রাম যেখানে মনোনয়ন জমা দিতে প্রস্তুত, সেখানে RJD প্রাক্তন মন্ত্রী সুরেশ পাসওয়ানকে প্রার্থী করে প্রচার শুরু করে দিয়েছে।

মুখ্যমন্ত্রী পদের শর্তে আলোচনা বন্ধ: সূত্রের খবর অনুযায়ী, কংগ্রেসের বিহারের ভারপ্রাপ্ত নেতা কৃষ্ণা আল্লাভারু RJD-এর কাছে অন্তত ৬১টি আসন দাবি করেছেন। অন্যদিকে RJD স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, আসন ভাগাভাগি নিয়ে পরবর্তী আলোচনা তখনই সম্ভব, যখন কংগ্রেস নেতা তেজস্বী যাদবকে মহাজোটের মুখ্যমন্ত্রী পদপ্রার্থী হিসেবে সমর্থন করবে। RJD-এর এই কড়া শর্তে দুই দলের মধ্যে আলোচনা সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে গেছে। এখন উভয় পক্ষই বেশ কয়েকটি আসনে একে অপরের বিরুদ্ধে প্রার্থী দিচ্ছে।

দিল্লি হাইকমান্ডের হস্তক্ষেপ না করার সিদ্ধান্ত: রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, RJD যদি কুতুম্বা আসনে তাদের প্রার্থী দেওয়ার সিদ্ধান্ত থেকে সরে না আসে, তবে মহাজোটের ফাটল আরও বাড়বে। সূত্র অনুযায়ী, বিহার কংগ্রেস রাজ্য নেতৃত্ব দিল্লিতে হাইকমান্ডকে পুরো বিষয়টি জানিয়েছে, কিন্তু কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব সরাসরি হস্তক্ষেপ করতে রাজি হননি। এই অবস্থায় রাজ্য ইউনিটকেই নিজেদের সিদ্ধান্ত নিতে বলা হয়েছে।

এরই মধ্যে, ঝাড়খণ্ড মুক্তি মোর্চা (JMM) ইতিমধ্যেই ঘোষণা করেছে যে তারা বিহারের ৬টি আসনে একাই লড়বে।

উল্লেখ্য, বিহার বিধানসভা নির্বাচনের দ্বিতীয় দফার মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার কাজ চলছে, যার শেষ দিন সোমবার। এই দফায় ২০টি জেলার ১২২টি বিধানসভা আসনে আগামী ১১ নভেম্বর ভোট গ্রহণ করা হবে। মহাজোটের এই অন্তর্দ্বন্দ্বের ফলে রাজ্যে রাজনৈতিক সমীকরণ দ্রুত পরিবর্তন হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

(DailyHunt-এর জন্য পেশাদার সাংবাদিকতার মান বজায় রেখে পুনর্লিখিত)

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy