প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী সরকারের অন্যতম উচ্চাকাঙ্ক্ষী মেগা প্রকল্প জল জীবন মিশন (Jal Jivan Mission) বা ‘হর ঘর জল’ স্কিমে বিপুল অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ সামনে আসতেই তোলপাড় শুরু হয়েছে জাতীয় রাজনীতিতে। কেন্দ্রীয় অর্থ মন্ত্রকের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, এই প্রকল্পে বিপুল অর্থ ‘নয় ছয়’ হয়েছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে গত সপ্তাহে উচ্চ পর্যায়ের বৈঠকের পর সব রাজ্যকে অবিলম্বে এই দুর্নীতিতে অভিযুক্ত মন্ত্রী, অফিসার ও ঠিকাদারদের বিরুদ্ধে গোয়েন্দা তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে কেন্দ্র।
কেন্দ্রের কড়া নির্দেশ:
সরকারি সূত্র অনুযায়ী, গত সপ্তাহে দিল্লিতে এই বিষয়ে উচ্চ পর্যায়ের বৈঠকের পর কেন্দ্রীয় সরকার সব রাজ্যকে কড়া বার্তা দিয়েছে। নির্দেশিকায় বলা হয়েছে:
দুর্নীতিতে অভিযুক্ত মন্ত্রী, অফিসার, ঠিকাদারদের বিরুদ্ধে অবিলম্বে গোয়েন্দা তদন্তের নির্দেশ দিতে হবে।
মন্ত্রীদের ক্ষেত্রে লোকায়ুক্তকে তদন্তের ভার দেওয়া যেতে পারে।
যেহেতু এটি একটি কেন্দ্রীয় প্রকল্প, তাই নির্দিষ্ট করে সিবিআই তদন্তে অগ্রাধিকার দিয়েছে জলশক্তি মন্ত্রক।
কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে এটিকে ‘মেঘা দুর্নীতির ঘটনা’ বলে মনে করা হচ্ছে।
কোথায় ধরা পড়ল অনিয়ম?
প্রকল্পের কাজ মূলত শেষ হওয়ার কথা ছিল চলতি বছরেই। কিন্তু লক্ষ্যমাত্রার কাছাকাছি পৌঁছতে না পারায় মেয়াদ ২০২৮ সাল পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। এর মধ্যেই প্রকল্পের খরচ অস্বাভাবিকভাবে বাড়িয়ে দেখানোর অভিযোগ ওঠে।
অর্থ ও ব্যয় বিষয়ক সচিবের কাছ থেকে সূত্র পাওয়ার পর জলশক্তি মন্ত্রকের ৯৯ জন নোডাল অফিসার ১৩৫টি জেলার ১৩৮টি প্রকল্প খতিয়ে দেখেন। এই ১৩৫টি জেলার মধ্যে রয়েছে:
বিজেপি শাসিত রাজ্য: মধ্যপ্রদেশ, রাজস্থান, উত্তরপ্রদেশ, গুজরাত, ওড়িশা (মোট ৫টি)।
অন্যান্য রাজ্য: তামিলনাড়ু (ডিএমকে), কেরল (সিপিএম) এবং কর্নাটক (কংগ্রেস)।
সবচেয়ে বেশি, প্রায় ২৮টি প্রকল্প খতিয়ে দেখা হয় বিজেপি শাসিত মধ্যপ্রদেশে।
ভোটমুখী রাজ্যগুলিতে আইন-শৃঙ্খলা সমস্যা:
দুর্নীতির অভিযোগকে কেন্দ্র করে বেশ কয়েকটি রাজ্যে আইন-শৃঙ্খলা সমস্যাও তৈরি হয়েছে। ভোটমুখী বিহারে সরকারি রিপোর্টে যেসব পরিবারকে পানীয় জলের লাইন দেওয়া হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছিল, বাস্তবে তারা সেই সুবিধা পায়নি। গত মাসে মণিপুরে এই প্রকল্পের অনিয়মের ঘটনা নিয়ে বড় ধরনের অশান্তি সৃষ্টি হয় এবং বিষয়টি শেষ পর্যন্ত আদালতে গড়িয়েছে।
উল্লেখ্য, পশ্চিমবঙ্গে একশো দিনের কাজ বা আবাস যোজনায় দুর্নীতির অভিযোগ উঠলেও, জল জীবন মিশনে অনিয়মের কেন্দ্রের তালিকায় পশ্চিমবঙ্গের নাম নেই। তবে কেন্দ্রীয় সরকার সব রাজ্যকেই এই বিষয়ে সতর্ক করেছে।
২০১৫ সালে শুরু হওয়া এই প্রকল্পের বরাদ্দ চলতি বছরের গোড়াতেই ‘অতিরিক্ত খরচ’ দেখানোর কারণে ৪০ শতাংশ কমিয়ে দিয়েছিল কেন্দ্র। অর্থমন্ত্রকও একই মন্তব্য করে নোট দেয়। এবার সরাসরি গোয়েন্দা তদন্তের নির্দেশ দেওয়ায় প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত সকলের মধ্যে বড়সড় আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে।