পাহাড় কেটে ৩০০ ফুট উঁচুতে মায়ের অবস্থান! কালীপুজোর রাতে আলোকের ঝর্ণাধারায় সেবকেশ্বরী কালীমন্দির

দীপান্বিতা অমাবস্যা উপলক্ষে কালীপুজোর দিনে ভক্তদের ঢল নেমেছে সেবক পাহাড়ে (Sevoke Hill)। শিলিগুড়ি শহর থেকে প্রায় ২০ কিমি দূরে, পাহাড় কেটে ৩০০ ফুট উঁচুতে তৈরি হয়েছে জাগ্রত সেবকেশ্বরী কালীমন্দির। মায়ের দর্শন পেতে গেলে ভক্তদের ভেঙে উঠতে হয় মোট ১০৭টি সিঁড়ি।

কালীপুজোর দিন এই মন্দিরে মায়ের বাৎসরিক পুজো অনুষ্ঠিত হয়। শুধুমাত্র শিলিগুড়ি বা উত্তরবঙ্গ নয়, কলকাতা, সিকিম, বিহার, নেপাল, ভুটান এবং বাংলাদেশ থেকেও হাজার হাজার ভক্ত রাত জেগে এখানে পুজো দিতে আসেন।

জানা গিয়েছে, এই মন্দিরের প্রতিষ্ঠা নিয়ে এক অলৌকিক কাহিনি জড়িত। ১৯৫২ সালে মা তার সাধক ও সরকারি কর্মচারী নীরেন্দ্রনাথ সান্যাল স্বপ্নাদেশ পান। স্বপ্নে তিনি সেবক পাহাড়ের জঙ্গলে ঢাকা পঞ্চমুণ্ডির আসন, বেদী ও ত্রিশূল দেখতে পান। পরদিন সকালে তিনি সেই স্থানে গিয়ে স্বপ্নে দেখা সব জিনিস উদ্ধার করেন এবং তা নিজেই স্থাপন করেন। সেই থেকেই শুরু হয় মায়ের পূজার্চনা। পরবর্তীতে ভক্তদের সহযোগিতায় সময়ের সঙ্গে পাহাড় কেটে গড়ে ওঠে এই মন্দির।

মন্দিরের পুরোহিত নন্দকিশোর গোস্বামী জানান, ১৭ বছর আগে ভক্তদের সহায়তায় মন্দির ও সিঁড়ি পাকা করা হয়। মন্দিরের সামনে সেই পঞ্চমুণ্ডির আসন ও ত্রিশূল আজও রাখা আছে।

পূজার রীতিনীতি:

বাৎসরিক পুজো: যদিও প্রতি অমাবস্যায় এখানে মা দক্ষিণাকালী তথা মা সেবকেশ্বরীর পুজো হয়, তবে এই বাৎসরিক পুজো দীপান্বিতা অমাবস্যায় হয়ে থাকে।

বিশেষ ভোগ: কালীপুজোর রাতে ধুমধাম করে পুজো হয়। তিস্তা নদী থেকে পুরনো ঘট বিসর্জন দিয়ে নতুন করে জল ভরে আনা হয়। রাতভর চলে পুজো।

বলিপ্রথা বন্ধ: একসময় এখানে পশুবলি প্রথা থাকলেও, প্রশাসন এবং মন্দির কমিটির যৌথ সিদ্ধান্তে ২০২৩ সাল থেকে তা সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এখন এর পরিবর্তে পাঁচ ধরনের ফল ও সবজি বলি দেওয়া হয়। ভক্তরা কেউ পশুবলি মানত করে থাকলে তা মা’কে উৎসর্গ করে ছেড়ে দেওয়া হয়।

কালীপুজোর রাতে সেবক পাহাড়ে নামে আলোকের এক অন্যরকম ঝর্ণাধারা, যেখানে ভক্তদের বিশ্বাস, মানত করলে সকলেরই মনোবাসনা পূর্ণ হয়। শিলিগুড়ি থেকে গ্যাংটক, কালিম্পং বা ডুয়ার্স যাওয়ার পথে এই জাগ্রত মন্দিরে একবার পুজো দিয়ে যাত্রা করেন অনেকেই।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy