পূর্ব মেদিনীপুরের তমলুকে (Tamluk) এক মহিলা চিকিৎসকের রহস্যজনক মৃত্যু ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। মৃত চিকিৎসকের হাতে স্যালাইনের চ্যানেল (Saline Channel) লাগানো থাকায় এই ঘটনা নিয়ে তীব্র রহস্য তৈরি হয়েছে। স্যালাইনের চ্যানেল কোথা থেকে এলো, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।
মৃতের পরিচয় ও রহস্যজনক মৃত্যু:
মৃত চিকিৎসকের নাম শালিনী দাস (৩০)। তিনি পূর্ব মেদিনীপুরের কাঁথি মহকুমা হাসপাতালে অ্যানাস্থেসিয়া বিভাগে কর্মরত ছিলেন। এছাড়া তিনি একাধিক বেসরকারি হাসপাতাল ও নার্সিংহোমের সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। তাঁর বাড়ি দমদমে এবং তিনি তমলুকে মায়ের সঙ্গে ভাড়া বাড়িতে থাকতেন।
জানা গিয়েছে, শুক্রবার সকালে নিজের ভাড়া বাড়িতে ফিরেছিলেন শালিনী। এর কিছুক্ষণের মধ্যেই তাঁর হাতে লাগানো স্যালাইনের চ্যানেল থেকে রক্তপাত শুরু হয়। এরপরই তিনি হঠাৎ করে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন এবং দ্রুত তাঁর দেহ নিথর হয়ে যায়। তাঁকে দ্রুত তমলুক হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
শোকস্তব্ধ মায়ের দাবি:
নিহতের মা এই ঘটনায় শোকস্তব্ধ। তিনি জানিয়েছেন, শুক্রবার সকালে বাড়ি থেকে বেরিয়ে ফের বাড়ি ফিরেছিলেন শালিনী। কিন্তু তাঁর হাতে স্যালাইনের চ্যানেল দেখে তিনি অবাক হয়ে যান। মায়ের দাবি, সকালে বাড়ি থেকে বেরোনোর সময় মেয়ের হাতে কোনো চ্যানেল ছিল না।
তিনি চ্যানেল লাগানোর কারণ জিজ্ঞাসা করার আগেই এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। মায়ের কথায়, “মেয়ে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ার আগে তার হাতের চ্যানেল থেকে হঠাৎই রক্তপাত হচ্ছিল।” শালিনীর ঠিক কী রোগ ছিল, সে সম্পর্কেও তিনি কিছু জানেন না বলে জানিয়েছেন।
পুলিশি তদন্ত শুরু:
এই রহস্যজনক মৃত্যুর কারণ জানতে তদন্ত শুরু করেছে তমলুক থানার পুলিশ। তমলুক মহাকুমা পুলিশ আধিকারিক আফজল আবরার জানিয়েছেন, কী কারণে মৃত্যু হয়েছে তা এখনও জানা যায়নি। মৃতদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। ময়না তদন্তের রিপোর্ট না পাওয়া গেলে এ বিষয়ে কিছু বলা সম্ভব নয়।
কাঁথি মহকুমা হাসপাতালের সুপার ডাঃ অরূপ রতন করন জানিয়েছেন, মহকুমা হাসপাতালের এক ডাক্তার অসুস্থ থাকায় তার পরিবর্তে ডাঃ শালিনী দাস নন্দীগ্রাম স্বাস্থ্য জেলা থেকে ডেপুটেশনে এসে কাজ করছিলেন। ময়না তদন্তের রিপোর্টের পরই মৃত্যুর আসল কারণ নিয়ে রহস্যের পর্দা উন্মোচিত হবে বলে মনে করা হচ্ছে।