ভারতের বিরুদ্ধে ‘হাজারো ঘা’ দেওয়ার কৌশল বুমেরাং, চার সীমান্তে যুদ্ধ করে পাকিস্তান আজ নিজেই রক্তাক্ত, শক্তিশালী অবস্থানে ভারত

দীর্ঘ দশক ধরে পাকিস্তানের পররাষ্ট্রনীতি ছিল ভারতকে ‘হাজারো ঘা’ (bleed India by a thousand cuts) দিয়ে দুর্বল করা। এই লক্ষ্য পূরণের জন্য ইসলামাবাদ এক ছায়া যুদ্ধ (proxy war) শুরু করে এবং ভারতের বিরুদ্ধে লড়াই করার জন্য বিভিন্ন জঙ্গি গোষ্ঠীকে অস্ত্র ও অর্থ দিয়ে মদত যোগায়। কিন্তু আজকের পরিস্থিতি সম্পূর্ণ উল্টো—তাদের সেই কৌশল বুমেরাং হয়েছে। পাকিস্তান আজ প্রায় তার সমস্ত সীমান্তে যুদ্ধ করে নিজে নিজেই রক্তক্ষরণ করছে।

তালিবান, TTP এবং BLA-এর ত্রিমুখী আঘাত
পাকিস্তানের সামরিক প্রধান ফিল্ড মার্শাল অসীম মুনির-এর কৌশল এখন সম্পূর্ণ বিশৃঙ্খল। পাকিস্তানের সেনাবাহিনী বর্তমানে একাধিক জঙ্গিগোষ্ঠীর হাতে কোণঠাসা:

১. তালিবান: সবচেয়ে বড় ধাক্কা এসেছে তালিবানের কাছ থেকে। সামরিক সংঘাতের ক্ষেত্রে আফগানিস্তানকে সব সময় ভারতের বিরুদ্ধে একটি ‘লঞ্চ প্যাড’ হিসেবে ব্যবহার করতে চেয়েছিল পাকিস্তান। কিন্তু তারা ভাবতেই পারেনি যে তালিবানের সঙ্গে তাদের সরাসরি সংঘাতের পরিস্থিতি তৈরি হবে। তালিবান যোদ্ধারা কোনো কাঠামোগত নিয়ম না মেনে লড়াই করে, যার ফলে পাকিস্তান সেনাবাহিনী লড়াইতে নাজেহাল হচ্ছে। ২. তেহরিক-ই-তালিবান পাকিস্তান (TTP): পাকিস্তানের অভ্যন্তরে TTP-ও ক্রমাগত হামলা চালাচ্ছে। ৩. বালুচিস্তান ন্যাশনালিস্ট আর্মি (BLA): ইরানের সীমান্তের কাছাকাছি অংশে BLA একটি বড় ঝুঁকি তৈরি করছে।

অপারেশন সিন্দূর: পরিস্থিতি পরিবর্তনের মূল মুহূর্ত
বিশ্লেষকদের মতে, পাকিস্তান তার শক্তিকে অতিরিক্ত মূল্যায়ন করেছিল। তারা ভেবেছিল, ভারতের বিরুদ্ধে ছায়া যুদ্ধ চালিয়ে তারা অপ্রাসঙ্গিক হয়ে পড়বে না। কিন্তু ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা কৌশল সাম্প্রতিক বছরগুলোতে আমূল বদলে গেছে।

‘অপারেশন সিন্দূর’ ছিল পাকিস্তানের জন্য একটি টার্নিং পয়েন্ট। এই অভিযানের মাধ্যমে ভারত দেখিয়ে দেয় যে, সন্ত্রাসবাদী হামলা হলে ভারত আর চুপ করে বসে থাকবে না। পাহালগাঁও হামলার প্রতিশোধ নিতে এই অভিযানে শুধু জঙ্গি শিবিরগুলোই ধ্বংস করা হয়নি, বরং পাকিস্তানের সেনাবাহিনী ও জঙ্গি গোষ্ঠীগুলোর মনোবলও ভেঙে দেওয়া হয়েছিল।

জিয়া-উল-হকের পুরোনো কৌশলের চরম ব্যর্থতা
পাকিস্তানের সবচেয়ে বড় ভুল ছিল তার পশ্চিমা সীমান্তকে (আফগানিস্তানের সঙ্গে) হালকাভাবে নেওয়া এবং তাদের সমস্ত মনোযোগ পূর্ব সীমান্তে (ভারতের সঙ্গে) রাখা, যদিও তারাই আগ্রাসনকারী ছিল।

দীর্ঘদিন ধরে পাকিস্তান জেনারেল জিয়া-উল-হক-এর কৌশল অনুসরণ করেছে, যিনি আফগানিস্তানকে ভারতের বিরুদ্ধে একটি ‘বাফার’ (Buffer) অঞ্চল হিসেবে দেখতেন।

কিন্তু ইসলামাবাদ আফগানিস্তানের পরিস্থিতি, বিশেষ করে তালিবানের অধীনে থাকা পরিস্থিতি যে পরিবর্তিত হতে পারে, তা একবারও বুঝতে পারেনি।

চূড়ান্ত ফলাফল: চারদিকে যুদ্ধ ও দুর্বল পাকিস্তান
আজ পরিস্থিতি স্পষ্ট:

ভারতের সঙ্গে আন্তর্জাতিক সীমান্ত, ইরান এবং আফগানিস্তানের সঙ্গে সীমান্তে পাকিস্তানের সমস্যা রয়েছে। এছাড়াও পাকিস্তান-অধিকৃত কাশ্মীরে (PoK) চীনের সাথেও সীমান্ত রয়েছে।

তালিবানের সাথে সামরিক কৌশল সম্পূর্ণরূপে ব্যর্থ হয়েছে, কারণ পাকিস্তান ভারত-বিরোধী নীতির ওপর বেশি মনোযোগ দিয়েছে।

নীতির বিবর্তন ঘটাতে পাকিস্তান ব্যর্থ হয়েছে। ভারতকে ‘হাজারো ঘা’ দেওয়ার চেষ্টায় তারা তাদের অন্যান্য সীমান্তকে উপেক্ষা করেছে।

এর ফলস্বরূপ, পাকিস্তান এখন তালিবানের সঙ্গে যুদ্ধ, বালুচিস্তানে বিদ্রোহ এবং PoK-তে লাগাতার সরকার-বিরোধী বিক্ষোভে জর্জরিত। অন্যদিকে, ভারত নিজের নিরাপত্তা ব্যবস্থা মজবুত রেখে এক শক্তিশালী অবস্থানে দাঁড়িয়ে আছে।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy