ধনতেরাস বা ধন ত্রয়োদশীর ঠিক আগেই ভারতীয় বাজারে রুপোর দামে নজিরবিহীন উত্থান দেখা দিয়েছে। গত কয়েক দিনের উত্থানে, অক্টোবরের ৮ থেকে ১৭ তারিখ পর্যন্ত রুপো প্রায় ১৮ শতাংশ রিটার্ন দিয়েছে। সাধারণত এই পরিমাণ রিটার্ন নিফটি ফিফটির মতো সূচক ১ বছরে দিয়ে থাকে। রুপোর এই হুড়মুড়িয়ে উত্থান বিনিয়োগকারীদের মধ্যে একদিকে যেমন আগ্রহ বাড়িয়েছে, তেমনি বাজারে এক অদ্ভুত প্রশ্নও তৈরি করছে—বিশেষজ্ঞদের মতে, রুপোর এই দাম বৃদ্ধি আসলে একটি বিরাট বাবল (Bubble) তৈরি করছে।
১৫ অক্টোবর পর্যন্ত রুপোর ক্রমাগত বৃদ্ধির পর সামান্য হলেও দাম কমেছে। ১৫ অক্টোবর প্রতি কেজিতে দাম ১ লক্ষ ৯০ হাজার টাকা ছুঁয়ে ফেলেছিল। তবে অক্টোবরের ১৭ তারিখ সেই দাম সামান্য কমে ১ লক্ষ ৮৮ হাজার ৯০০ টাকায় দাঁড়িয়েছে।
কেন দাম বাড়ছে রুপোর?
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিশ্বজুড়ে সরবরাহ কমে যাওয়া এবং চাহিদা বৃদ্ধির কারণেই রুপোর বাজারে এমন অবস্থা তৈরি হয়েছে। বিশেষত শিল্পক্ষেত্রে রুপোর ব্যবহার বৃদ্ধিই দাম বাড়ার প্রধান কারণ:
১. শিল্পক্ষেত্রে চাহিদা: ইলেকট্রিক ভেহিকল (Electric Vehicle – EV), সোলার প্যানেল এবং সেমিকন্ডাক্টর তৈরির মতো শিল্পে রুপোর ব্যবহার বিপুল পরিমাণে বেড়েছে। ২. বাজারে চাহিদা: শিল্প ব্যবহারের বাইরেও বাজারে সামগ্রিক চাহিদা বেড়েছে, যা দাম বৃদ্ধিতে প্রভাব ফেলেছে।
রুপোর দাম কি কমবে?
অগমেন্টের রিসার্চ হেড রেনিশা চৈনানি জানান, স্বল্প মেয়াদে রুপোর দাম কমার সম্ভাবনা রয়েছে। তাঁর মতে, উৎসবের মরশুম শেষ হলে বাজারের এই অস্থিরতা কমতে পারে। রুপোর দাম এই মুহূর্তে অনেকটাই বেশি, আর এই বাড়তি দামের একটি ‘টেকনিক্যাল কারেকশন’ আগামীতে হতে পারে। যখনই এই বাবল ফাটবে, রুপোয় বিনিয়োগকারী সকলেই ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারেন বলে সতর্ক করছেন বিশেষজ্ঞরা।
তবে একটি রিপোর্টে আশার কথা শোনা গিয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, দীর্ঘমেয়াদে রুপোর দাম আরও বাড়বে। ২০২৭ সালের মধ্যে প্রতি কেজি রুপোর দাম ২ লক্ষ ৪৬ হাজার টাকা পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে। কারণ, এই দাম বৃদ্ধির পিছনে সৌরবিদ্যুৎ বা ইলেকট্রনিক্স শিল্পের বিরাট এক চাহিদা কাজ করবে। তাই, যদিও উৎসবের পর দাম সামান্য কমেও, একাধিক কারণে রুপোর ভবিষ্যৎ কিন্তু উজ্জ্বল বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।