চলতি অর্থবর্ষের তৃতীয় ত্রৈমাসিকে বাজার থেকে প্রায় ২৯ হাজার কোটি টাকার ঋণ নিতে চলেছে পশ্চিমবঙ্গ সরকার। অর্থ দপ্তর সূত্রে খবর, এই বিশাল অঙ্কের ঋণ নেওয়ার পর চলতি বছরের জন্য রাজ্যের বাজারঋণের মোট পরিমাণ প্রায় ৭৮ হাজার কোটি টাকায় দাঁড়াবে। বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, বছরের শেষে এক বছরের মধ্যে রাজ্যের বাজারঋণ এক লক্ষ কোটি টাকাও ছুঁতে পারে।
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, রাজ্যের মোট দেনার পরিমাণ ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে ৮ লাখ কোটি টাকার কাছাকাছি পৌঁছাতে পারে।
কেন্দ্রের বঞ্চনা না ‘ভোট-সাপেক্ষ’ খরচ?
পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকারের এই বিপুল পরিমাণ ঋণ নেওয়া নিয়ে রাজনৈতিক এবং অর্থনৈতিক মহলে তীব্র চাপান-উতোর সৃষ্টি হয়েছে।
বিজেপির কটাক্ষ: ‘অন্ধকার ভবিষ্যতের ইঙ্গিত’
বিরোধী দল বিজেপি এই ঋণ নেওয়াকে ‘অন্ধকার ভবিষ্যতের ইঙ্গিত’ হিসেবে দেখছে। তাঁদের অভিযোগ, রাজ্য সরকার ঋণের অর্থ সম্পদ উৎপাদনে ব্যবহার না করে শুধুমাত্র ভাতা, খেলা-মেলা বা ভোট-সাপেক্ষ খরচে ব্যবহার করছে।
শুভেন্দু অধিকারীর মন্তব্য: বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী কটাক্ষ করে বলেন, “৮ লক্ষ কোটি টাকার ঋণের চাপের মধ্যে রাজ্য টোটো নিবন্ধন থেকে মদ বিক্রির মতো নানা জনবিরোধী উদ্যোগে টাকা তুলতে চাচ্ছে। নির্বাচন সামনে। ভাতা বাড়ানো, দান-খয়রাতি ইত্যাদির কারণে ঋণের ওপর চাপ আরও বাড়ছে।”
বিজেপি বিধায়ক অরূপ দাস অভিযোগ করেন, “যদি ঋণের অর্থ উৎপাদন সংক্রান্ত কাজে ব্যবহার না হয়, তা হলে আজকের ঋণ আগামী দিনের বোঝা হয়ে দাঁড়াবে। শুধু রোজকার বাজারহাট বা ভাতা দেওয়ার জন্য ঋণ নেওয়া উচিত নয়।”
তৃণমূলের পাল্টা দাবি: ‘কেন্দ্রীয় অনুদান আটকে রেখেছে’
অন্যদিকে, তৃণমূল কংগ্রেস দাবি করছে, কেন্দ্রীয় সরকারের বিপুল তহবিল আটকে রাখার কারণেই এই বিপুল ঋণ নেওয়া প্রয়োজন হয়েছে।
অর্থ প্রতিমন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য বলেন, “কেন্দ্র আমাদের ন্যায্য পাওনা আটকে রেখেছে। তবুও আমরা ঋণ নিচ্ছি নির্ধারিত সীমার মধ্যে। জনগণের উন্নয়নই অগ্রাধিকার।”
নবান্ন সূত্রে খবর, প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনা ও ১০০ দিনের প্রকল্পের কেন্দ্রীয় অনুদান সময়মতো না আসায় রাজ্যকে নিজস্ব অর্থে উদ্যোগ নিতে হয়েছে। ‘বাংলার বাড়ি’ প্রকল্পের জন্য অতিরিক্ত ২৪ হাজার কোটি টাকা ব্যয় হয়েছে এবং ‘আমাদের পাড়া আমাদের সমাধান’ প্রকল্পে প্রায় ৮,০০০ কোটি টাকা ব্যয় হবে।
অর্থনীতিবিদদের অভিমত
অর্থনীতিবিদ অভিরূপ সরকারের মতে, “রাজ্যের হাতে বেশি টাকা থাকলে বেশি ঋণ নেওয়া যায়। রাজ্যের জিডিপির সাথে ঋণের অনুপাত বাড়েনি। তাই এই ঋণকে খুব নেতিবাচকভাবে দেখা ঠিক নয়।”
তবে অর্থ দপ্তরের এক আধিকারিক স্বীকার করেছেন, চলতি অর্থবর্ষের বাজেটে বাজারঋণ ধার্য ছিল ৮২ হাজার কোটি টাকা। কিন্তু নতুন প্রকল্প চালু ও কেন্দ্রীয় অনুদান না-পাওয়ায় রাজ্যের ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় ঋণনির্ভরতা অনিবার্য হয়ে উঠেছে।