অস্ট্রেলিয়ার টেস্ট এবং টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটার নিক ম্যাডিনসন (Nic Maddinson) সম্প্রতি এক কঠিন ব্যক্তিগত লড়াইয়ের কথা প্রকাশ্যে এনেছেন। জানা গেছে, তিনি টেস্টিকুলার ক্যান্সারে (Testicular Cancer) আক্রান্ত ছিলেন এবং সম্প্রতি সফলভাবে কেমোথেরাপি সম্পন্ন করেছেন। চলতি বছরের (২০২৫) শুরুর দিকে ম্যাডিনসনের ক্যান্সার ধরা পড়ে এবং বছরের একটি বড় অংশ তাঁকে এই স্বাস্থ্য সমস্যার সঙ্গে লড়াই করেই কাটাতে হয়।
আক্রমণাত্মক এই টপ-অর্ডার ব্যাটার অস্ট্রেলিয়ার হয়ে ৩টি টেস্ট ও ৬টি টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলেছেন। এছাড়াও, ২০১৪ থেকে ২০১৫ সালের মধ্যে তিনি আইপিএলে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু (RCB) দলেরও প্রতিনিধিত্ব করেছেন।
যখন ফুসফুস ও পেটে ছড়াল মারণরোগ
প্রথম দিকে টিউমার অপসারণের জন্য তাঁর অস্ত্রোপচার করা হয়। কিন্তু এরপরই তাঁকে জানানো হয় যে ক্যান্সার শরীরের অন্যান্য অংশে ছড়িয়ে পড়েছে। নাইন নিউজপেপার্সকে (Nine newspapers) দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ম্যাডিনসন জানান, “যখন জানতে পারলাম আমাকে কেমো নিতে হবে, তখন সেটা মোকাবিলা করা বেশ কঠিন ছিল। ক্যান্সার আমার পেটের লিম্ফ নোড এবং ফুসফুসের কিছু অংশে ছড়িয়ে পড়েছিল। সেই মুহূর্তটা সত্যিই খুব ভয়ঙ্কর ছিল।”
এই কঠিন সময়ে তাঁর স্ত্রী বিয়ানকা তাঁদের দ্বিতীয় সন্তানের জন্ম দিতে চলেছিলেন। ম্যাডিনসন জানান, কেমোথেরাপির দ্বিতীয় বা তৃতীয় সপ্তাহের মধ্যেই তাঁর সমস্ত চুল ঝরে যায়। এর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া সামলাতে তাঁকে স্টেরয়েড নিতে হত, যার ফলে রাতে ঘুম আসত না। তিনি বলেন, “আমি সুপার ড্রেনড অনুভব করতাম এবং মনে হতো ২৪ ঘণ্টাই ঘুমাই।”
৯ সপ্তাহের slowest and longest যুদ্ধ
৩৩ বছর বয়সী এই ক্রিকেটারের কেমোথেরাপি শেষ হয় জুলাই মাসের মাঝামাঝি। সেপ্টেম্বরে চিকিৎসকরা তাঁকে জানান, চিকিৎসা সফল হয়েছে এবং তিনি প্রতিযোগিতামূলক ক্রিকেটে ফেরার জন্য প্রস্তুতি শুরু করতে পারেন।
বৃহস্পতিবার (১৬ অক্টোবর) তিনি তাঁর নিউ সাউথ ওয়েলস দলের সদস্যদের সাথে নেট সেশন করেছেন। ম্যাডিনসন সেই সময়টাকে বর্ণনা করে বলেন, “এটা ছিল জীবনের সবচেয়ে ধীরগতির এবং দীর্ঘতম নয় সপ্তাহ।”
ক্যান্সার থেকে সুস্থ হয়ে ওঠার পর ম্যাডিনসন একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দেন, “জানতে পেরেছিলাম যে আমি যত দ্রুত সম্ভব ক্যান্সারটি ধরেছিলাম, তবুও এটি আমার শরীরের অন্যান্য অংশে ছড়িয়ে পড়েছিল— এটি খুবই ভয়াবহ ছিল। আমি মনে করি এটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ যে আপনার যদি কোনো কিছু নিয়ে সামান্যও উদ্বেগ থাকে, তবে অবশ্যই তা পরীক্ষা করানো উচিত।”
সতীর্থ ক্লার্কের ত্বকের ক্যান্সার সতর্কতা
উল্লেখ্য, গত আগস্টে অস্ট্রেলিয়ার প্রাক্তন অধিনায়ক মাইকেল ক্লার্ক (Michael Clarke) তাঁর ৬ষ্ঠ বারের মতো ত্বকের ক্যান্সারের (Skin Cancer) অস্ত্রোপচার হওয়ার কথা জানান। ক্লার্ক তাঁর ইনস্টাগ্রামে লেখেন, “ত্বকের ক্যান্সার একটি বাস্তব সমস্যা! বিশেষত অস্ট্রেলিয়াতে। আজ আমার নাক থেকে আরও একটি কেটে ফেলা হলো। নিয়মিত ত্বক পরীক্ষা করানোর জন্য এটি একটি বন্ধুত্বপূর্ণ সতর্কতা। নিরাময়ের চেয়ে প্রতিরোধ ভালো, তবে আমার ক্ষেত্রে নিয়মিত চেক আপ এবং দ্রুত সনাক্তকরণই মূল চাবিকাঠি।”