শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ফের ধর্ষণের অভিযোগ! বেঙ্গালুরুর ইঞ্জিনিয়ারিং ক্যাম্পাসে সহপাঠীকে পুরুষ শৌচালয়ে টেনে নিয়ে গেল অভিযুক্ত ছাত্র

শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরে ছাত্রীরা সুরক্ষিত নন—এই অভিযোগ ফের জোরালো হলো দক্ষিণ বেঙ্গালুরুর একটি বেসরকারি ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের ঘটনার পর। এবার এক ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ুয়াকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠল তাঁরই সহপাঠী, বছর একুশের এক যুবকের বিরুদ্ধে। অভিযোগ, তাঁকে কলেজের পুরুষ শৌচালয়ে জোর করে টেনে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণ করা হয়।

দুর্গাপুরে মেডিক্যাল পড়ুয়ার ধর্ষণ এবং দিল্লিতে বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে ছাত্রীকে ধর্ষণের ঘটনার পর বেঙ্গালুরুর এই ঘটনা সারা দেশে তীব্র চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে।

পুরুষ শৌচালয়ে বর্বরতা
ষষ্ঠ সেমিস্টারের ওই অভিযুক্ত ছাত্রের নাম জীবন গৌড়া। নিগৃহীতা ছাত্রী একই কলেজের। বুধবার পুলিশ অভিযুক্তকে হেফাজতে নিয়েছে। ছাত্রীর বয়ান অনুযায়ী, গত ১০ অক্টোবর অভিযুক্ত তাঁকে ধর্ষণ করে।

ঘটনার বিবরণ: এফআইআর অনুযায়ী, অভিযুক্তের ব্যাকলগ থাকায় সে এক সেমিস্টার পিছিয়ে পড়েছিল। ঘটনার দিন নির্যাতিতার সঙ্গে অভিযুক্ত দেখা করেছিল তাঁর কিছু জিনিস নেওয়ার জন্য। লাঞ্চের বিরতির সময় ছাত্রী যখন কলেজের ষষ্ঠ তলায় আর্কিটেকচার ব্লকের কাছে দেখা করতে যান, অভিযুক্ত তাঁকে জোর করে চুম্বন করার চেষ্টা করে।

ধর্ষণ: যুবতী ক্ষুব্ধ-বিরক্ত হয়ে লিফটে করে নেমে আসার চেষ্টা করলেও, অভিযুক্ত তাঁকে অনুসরণ করে এবং জোর করে পুরুষদের শৌচালয়ে টেনে নিয়ে যায়। সেখানেই দুপুর দেড়টা থেকে ১টা ৫০ মিনিটের মধ্যে যুবতীকে ধর্ষণ করা হয় বলে অভিযোগ।

ধর্ষণের পর জঘন্য প্রশ্ন
নির্যাতিতার আরও অভিযোগ, অভিযুক্ত সহপাঠী তাঁর ফোন কেড়ে নিয়ে দীর্ঘক্ষণ শৌচালয়ে আটকে রেখেছিল। ধর্ষণের পর অভিযুক্ত যুবতীকে ফোন করে এবং জিজ্ঞাসা করে, “তোমার কি (গর্ভনিরোধক) পিলের দরকার আছে?”

গোটা ঘটনায় যুবতী মানসিকভাবে ভেঙে পড়লেও, পরে তাঁর দুই বন্ধুকে জানান। এরপর মা-বাবার সঙ্গে নিয়ে গত ১৫ অক্টোবর তিনি থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। গতকাল পুলিশ ঘটনার পুনর্নির্মাণ করেছে।

পুলিশ জানিয়েছে, কলেজের যে ফ্লোরে ধর্ষণ হয়েছিল, সেখানে কোনও সিসিটিভি বসানো নেই, ফলে অভিযুক্ত ও নির্যাতিতার মধ্যে ঠিক কী হয়েছিল, তা জানতে বেগ পেতে হচ্ছে পুলিশকে। তবে ফরেন্সিক ও ডিজিটাল প্রমাণ সংগ্রহ করা হয়েছে।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy