৩০,০০০ মানুষের ভিড়, ৭ ঘণ্টা দেরি: কারুর বিপর্যয়ের পর কী বললেন বিজয়? জানুন ট্র্যাজেডি থেকে CBI তদন্ত পর্যন্ত কী কী ঘটল!

চেন্নাই: গত ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ তারিখে তামিলনাড়ুর কারুরে অভিনেতা ও TVK (তামিগা ভেত্রি কাজাগাম) প্রধান বিজয়-এর জনসভায় পদদলিত হয়ে ৪১ জনের মৃত্যুর ঘটনায় দেশজুড়ে তীব্র আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। এই মর্মান্তিক ঘটনায় নিহতদের মধ্যে নয়জন শিশুও ছিল। মাদ্রাজ হাইকোর্টের বারবার সতর্কতা সত্ত্বেও ভিড় নিয়ন্ত্রণে চরম অব্যবস্থা এবং আয়োজকদের গাফিলতির অভিযোগ ওঠে। ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনা করে সম্প্রতি সুপ্রিম কোর্ট এই মামলার তদন্তভার কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা CBI-কে হস্তান্তরের নির্দেশ দিয়েছে।

ট্র্যাজেডির দিনের মর্মান্তিক টাইমলাইন (২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৫)
কারুর-ইরোড হাইওয়ের কাছে ভেলুস্বামীপুরামে সভার অনুমতি ছিল ১০,০০০ মানুষের জন্য, কিন্তু প্রত্যক্ষদর্শী ও মিডিয়ার মতে সেখানে ২৫,০০০ থেকে ৩০,০০০ সমর্থক জড়ো হয়েছিল।

সময় ঘটনা
সকাল ৯:৩০ বিজয় চেন্নাই থেকে তিরুচি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নামেন।
সকাল ১১:০০ সভা শুরুর অনুমোদিত সময় বিকেল ৩টে হওয়া সত্ত্বেও সমর্থকরা ভেন্যুতে ভিড় জমাতে শুরু করেন।
বিকাল ৩:০০ – সন্ধ্যা ৬:৩০ বিজয় নির্ধারিত সময়ের চেয়ে বহু ঘণ্টা দেরিতে থাকায় হাজার হাজার সমর্থক জল-খাবার ছাড়াই রোদে অপেক্ষা করেন, ভিড় মারাত্মক আকার নেয়।
সন্ধ্যা ৭:৩০ বিজয় ৭ ঘণ্টারও বেশি দেরিতে ভেন্যুতে পৌঁছান এবং তাঁর প্রচার বাসের উপর থেকে বক্তৃতা শুরু করেন।
সন্ধ্যা ৭:৩৫ বিজয়কে দেখতে ভিড় সামনে এগিয়ে আসার চেষ্টা করলে হুড়োহুড়ি শুরু হয়। তিনি শিশু নিঁখোজ ও মানুষ অজ্ঞান হতে দেখে বক্তৃতা থামিয়ে পুলিশের সাহায্য চান।
সন্ধ্যা ৭:৪০ ভিড় নিয়ন্ত্রণের বাঁধ (Barricades) ভেঙে যায়, ভিড় ড্রেনেজ চ্যানেলের দিকে ছড়িয়ে পড়ে এবং জেনারেটর ও টিভি ব্রডকাস্ট ভ্যান রাখা একটি শেডের কাছে ‘বটলনেক’ তৈরি হওয়ায় পদদলন মারাত্মক রূপ নেয়।
রাত ৮:০০ জরুরি পরিষেবা শুরু হয়, আহতদের কারুর সরকারি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। ৪১ জনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত হয়।

Export to Sheets

আদালতের কঠোর পর্যবেক্ষণ ও CBI তদন্ত
কারুর ট্র্যাজেডির কয়েক সপ্তাহ আগে, মাদ্রাজ হাইকোর্ট বিজয় এবং TVK নেতৃত্বকে সতর্ক করে বলেছিল যে জনসভাগুলিতে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা তাঁদের ব্যক্তিগত দায়িত্ব। এমনকি আদালত গর্ভবতী মহিলা, বয়স্ক, শিশু এবং ভিন্নভাবে সক্ষম ব্যক্তিদের ভিড়ের মধ্যে না আসার জন্য নিরুৎসাহিত করতে বলেছিল।

ক্ষতিপূরণ: মুখ্যমন্ত্রী এম. কে. স্ট্যালিন নিহতদের পরিবারকে ₹১০ লাখ এবং আহতদের ₹১ লাখ করে ক্ষতিপূরণ ঘোষণা করেন। TVK-ও নিহতদের পরিবারকে ₹২০ লাখ এবং আহতদের ₹২ লাখ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেয়।

প্রাথমিক পদক্ষেপ: তামিলনাড়ু সরকার অবসরপ্রাপ্ত মাদ্রাজ হাইকোর্টের বিচারপতি অরুণা জগদীশনকে প্রধান করে এক সদস্যের কমিশন গঠন করে এবং রাজ্য পুলিশ TVK-এর বেশ কিছু নেতার বিরুদ্ধে এফআইআর (FIR) দায়ের করে।

সুপ্রিম কোর্টের হস্তক্ষেপ: গত ১৩ অক্টোবর ২০২৫ তারিখে সুপ্রিম কোর্ট এক অন্তর্বর্তীকালীন নির্দেশে জানায়, ঘটনাটি “জাতীয় বিবেককে নাড়া দিয়েছে”। জনগণের ন্যায়বিচার এবং নিরপেক্ষ তদন্তের অধিকার নিশ্চিত করতে শীর্ষ আদালত এই মামলার তদন্তভার CBI-এর হাতে তুলে দেয়।

রাজ্য কমিশনের কার্যক্রম স্থগিত: একই সঙ্গে সুপ্রিম কোর্ট রাজ্য সরকারের গঠিত এক সদস্যের কমিশন এবং রাজ্য পুলিশের বিশেষ তদন্ত দল (SIT)-এর কাজ স্থগিত ঘোষণা করে। অবসরপ্রাপ্ত সুপ্রিম কোর্ট বিচারপতি অজয় রাস্তোগীর নেতৃত্বে একটি ত্রি-সদস্যের কমিটি CBI তদন্তের তদারকি করবে।

ঘটনার পর বিজয়ের প্রতিক্রিয়া
কারুর ট্র্যাজেডির তিন দিন পরে বিজয় মুখ্যমন্ত্রী স্ট্যালিনকে সতর্ক করে একটি ভিডিও প্রকাশ করেন, যেখানে তিনি “TVK কর্মীদের স্পর্শ না করার” কথা বলেন। সুপ্রিম কোর্ট যখন CBI তদন্তের নির্দেশ দেয়, তখন বিজয় এই পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, তাঁর দলও কেন্দ্রীয় তদন্ত চেয়েছিল এবং তিনি আশা করেন “বিচার অবশ্যই প্রতিষ্ঠা হবে”।

পরিবারের সদস্য এবং নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা এখন CBI-এর রিপোর্টের অপেক্ষায় রয়েছেন। তবে, রাজনৈতিক বিতর্কের বাইরে, দেশের বিভিন্ন স্থানে জনসভা এবং রাজনৈতিক সমাবেশে ভবিষ্যতে এমন মারাত্মক দুর্ঘটনা এড়াতে একটি স্থায়ী নিরাপত্তা প্রোটোকল তৈরি করা এখন সময়ের দাবি।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy