সাধারণ কনস্টেবলের ছেলে কীভাবে হলেন ‘অমরণ’ তারকা? ৪৬ বছর পরও কাঁপছে বক্স অফিস! (হুকিং: সাধারণ থেকে অসাধারণ যাত্রার গল্প)

সিনেমার ঝলমলে জগতে অনেকেই আসেন, আবার সময়ের সাথে সাথে হারিয়েও যান। কিন্তু কিছু মানুষ তাঁদের জীবন উৎসর্গ করেন শিল্পের জন্য, আর এভাবেই হয়ে ওঠেন আইকন। তেমনই এক বিরল প্রতিভা হলেন মেগাস্টার চিরঞ্জীবী। ইন্ডাস্ট্রিতে কোনো পূর্বসূরি ছাড়াই এসে, কেবল কঠোর পরিশ্রম, প্রতিভা আর অপ্রতিরোধ্য ক্যারিশমার জোরে তিনি সৃষ্টি করেছেন এক অবিস্মরণীয় উত্তরাধিকার।

অভিনয় দক্ষতা, পর্দায় উপস্থিতি এবং অসাধারণ নাচের জন্য চিরঞ্জীবী সুপরিচিত। ১৯৭৮ সালে শুরু হওয়া তাঁর এই চার দশকেরও বেশি সময়ের ক্যারিয়ার আজও সমান উজ্জ্বল। তাঁর এই নিষ্ঠা কেবল তেলুগু সিনেমাতেই তাঁকে জনপ্রিয় করেনি, এনে দিয়েছে এক গিনিস ওয়ার্ল্ড রেকর্ড-এর বিরল সম্মান, যা এখন পর্যন্ত আর কোনো ভারতীয় অভিনেতার ভাগ্যে জোটেনি!

কনস্টেবলের ছেলে থেকে ‘অমরণ’ তারকা
অন্ধ্রপ্রদেশের মোগলথুরে কোনডেলা শিব শঙ্কর বরপ্রসাদ নামে জন্মগ্রহণ করেন চিরঞ্জীবী। বাবা ছিলেন একজন পুলিশ কনস্টেবল। অতি সাধারণ পরিবার থেকে উঠে এলেও সিনেমা তাঁকে টানত। স্বপ্নের পিছনে ছুটে বরপ্রসাদ মাদ্রাজগামী ট্রেনে চড়েন। মায়ের পরামর্শে তিনি নাম পরিবর্তন করে রাখেন চিরঞ্জীবী, যার অর্থ ‘অমরণ’ (Immortal)। এই নামই যেন ভারতীয় সিনেমায় তাঁর চিরস্থায়ী উপস্থিতির প্রতীক হয়ে ওঠে।

শুরুটা ‘পুনধিরল্লু’ দিয়ে হলেও, ১৯৭৮ সালে ‘প্রাণম খারেদু’ দিয়েই তাঁর আনুষ্ঠানিক অভিষেক।

‘মানা ভুরি পাণ্ডভুলু’র মাধ্যমে দ্রুতই পরিচিতি পান এবং ১৯৮৩ সালে ‘কাইদি’ ছবির হাত ধরে তিনি পৌঁছে যান স্টারডমে।

‘দ্য নিউ মানি মেশিন’ এবং ১ কোটির রেকর্ড!
পরবর্তী প্রায় দুই দশক চিরঞ্জীবী তেলুগু ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রি শাসন করেছেন। ‘স্বয়ম কৃষী’, ‘পাসিভাদি প্রাণম’, ‘রু্দ্র বীনা’, ‘জগদেক বীরুডু আথিলোকা সুন্দরি’, ‘গ্যাং লিডার’, ‘ঘরানা মোগুডু’, ‘ইন্দ্রা’, ‘ট্যাগোর’ – সহ একের পর এক ব্লকবাস্টার তাঁকে এনে দিয়েছে ব্যাপক প্রশংসা ও বক্স অফিস সাফল্য।

আশির দশকের শেষ দিকে, তিনি এক বছরে ১৪টি হিট ছবি উপহার দিয়ে ভারতীয় সিনেমার ‘দ্য নিউ মানি মেশিন’ উপাধি অর্জন করেন। সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর খবর আসে যখন দ্য উইক ম্যাগাজিন জানায়: চিরঞ্জীবীই প্রথম ভারতীয় অভিনেতা যিনি একটি সিনেমার জন্য ১ কোটি টাকা পারিশ্রমিক দাবি করেন! এই মাইলফলক ছুঁতে সে সময় পারেননি বলিউড সুপারস্টার অমিতাভ বচ্চনও। সিনেমা জগতে ফিরে আসার পরই অমিতাভ দ্বিতীয় অভিনেতা হিসেবে এই পারিশ্রমিক পান।

গিনিস বুক অফ ওয়ার্ল্ড রেকর্ডস: ২৪,০০০ নাচের স্টেপ!
অভিনয়ের পাশাপাশি নাচের আইকন চিরঞ্জীবী তেলুগু সিনেমার কোরিওগ্রাফি বিভাগকে সম্পূর্ণ বদলে দিয়েছিলেন। তিনি বহু নতুন নৃত্য পরিচালককে সুযোগ দেন এবং তাঁর ছবিতে নাচকে এক অপরিহার্য অংশ করে তোলেন। ৫৩৭টি গানে ২৪,০০০-এরও বেশি নাচের স্টেপ পারফর্ম করার অবিশ্বাস্য কীর্তির জন্য তিনি গিনিস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসে স্থান পান। তাঁকে ভূষিত করা হয় ‘মোস্ট প্রমিজিং অ্যাক্টর ইন দ্য ইন্ডিয়ান সিনেমা ইন্ডাস্ট্রি’ সম্মানে।

আজও অদম্য: মেগাস্টারের নতুন ধামাকা
হুমকিভরা এই বয়সেও মেগাস্টার এখনও সক্রিয়। ‘বিশ্বম্ভরা’-র কাজ শেষ করার পর, বর্তমানে তিনি অনিল রাবিপুডির পরিচালনায় ‘মানা শঙ্করা বরপ্রসাদ’ নিয়ে ব্যস্ত, যা ২০২৬-এর সংক্রান্তিতে মুক্তি পাবে। এছাড়াও, ‘দশেরা’ খ্যাত শ্রীকান্ত ওডেল্লার পরিচালনায় একটি অ্যাকশন থ্রিলারেও তাঁর অভিনয় করার কথা রয়েছে।

সাধারণ পটভূমি থেকে আন্তর্জাতিক পরিচিতি—চিরঞ্জীবীর এই যাত্রা তাঁর অবিচল নিষ্ঠা ও উৎকর্ষের নিরলস সাধনার এক জ্বলন্ত প্রমাণ। তিনি কেবল একজন তারকা নন, তিনি এক সচল উত্তরাধিকার।

আপনার মতামত কী? চিরঞ্জীবীর কোন ছবিটি আপনার সবচেয়ে প্রিয়? কমেন্টে জানাতে ভুলবেন না!