ওয়াশিংটন/নয়াদিল্লি: মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প BRICS গোষ্ঠী থেকে দেশগুলোর বেরিয়ে যাওয়ার দাবি করলেও, এই আন্তঃসরকার সংস্থায় যখন ভারত সভাপতি, তখন সদস্যপদ নিতে চাইছে একাধিক দেশ। ট্রাম্পের এই বক্তব্য সরাসরি তথ্যের সঙ্গে সাংঘর্ষিক বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
ট্রাম্প BRICS-কে ডলারের শত্রু হিসাবে তুলে ধরে বলেছেন, “BRICS ডলারের উপর একটি আক্রমণ ছিল এবং আমি বলেছিলাম, আপনারা যদি সেই খেলা খেলতে চান, তবে আমি আপনাদের সব পণ্যের উপর শুল্ক আরোপ করব যা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে আসছে। তারা বলেছিল, যেমনটা আমি বললাম, আমরা BRICS থেকে বেরিয়ে যাচ্ছি… তারা এখন আর এ বিষয়ে কথা পর্যন্ত বলে না…” তিনি আরও দাবি করেন, “আমি BRICS-এ যোগ দিতে ইচ্ছুক যে কাউকে বলেছিলাম, ঠিক আছে, কিন্তু আমরা আপনার দেশের উপর শুল্ক আরোপ করতে যাচ্ছি। সবাই সরে গেল। তারা সবাই BRICS থেকে বেরিয়ে যাচ্ছে।”
কিন্তু তথ্য বলছে অন্য কথা। BRICS বর্তমানে বিশ্বের মোট জনসংখ্যার ৫৫ শতাংশ এবং মোট জিডিপি-র ৪৬ শতাংশের প্রতিনিধিত্ব করে। ব্রাজিল, রাশিয়া, ভারত, চিন এবং দক্ষিণ আফ্রিকা—এই মূল সদস্যদের নিয়ে গঠিত BRICS গোষ্ঠীটি উদীয়মান অর্থনীতির মূল মঞ্চ হিসাবে পরিচিত। সম্প্রতি, মিশর, ইথিওপিয়া, ইন্দোনেশিয়া, ইরান এবং সংযুক্ত আরব আমিরশাহী-কেও এর সম্প্রসারিত তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
ট্রাম্প BRICS-কে আমেরিকান স্বার্থের বিরুদ্ধে কাজ করা দেশগুলোর জোট হিসাবে আখ্যা দিলেও, ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর এর আগে স্পষ্ট জানিয়েছেন, “ডলারের ভূমিকা নিয়ে আমরা বাস্তববাদী। ডলার নিয়ে আমাদের কোনো সমস্যা নেই এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক এখন সর্বোত্তম পর্যায়ে রয়েছে। ডলারকে দুর্বল করার কোনো আগ্রহ আমাদের নেই।”
উল্লেখ্য, ২০২৩ সালে জোহানেসবার্গে অনুষ্ঠিত এক শীর্ষ সম্মেলনে ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভা ডলারের বিনিময় হারের ওঠানামার উপর নির্ভরতা কমাতে BRICS-এর নিজস্ব মুদ্রার ধারণা ভাসিয়েছিলেন। এই ‘ডি-ডলারাইজেশন’-এর প্রচেষ্টা ট্রাম্পকে শুরু থেকেই ক্ষুব্ধ করেছিল।





