দুর্গাপুর গণধর্ষণে চরম নাটকীয় মোড়! নির্যাতিতার সহপাঠীর বিরুদ্ধেই উঠল আঙ্গুল, ছিনতাই ও তোলাবাজির মামলা!

দুর্গাপুরের বেসরকারি মেডিক্যাল কলেজের ছাত্রীকে গণধর্ষণের ঘটনা নাটকীয় মোড় নিল। ঘটনায় গ্রেফতার হওয়া পাঁচ অভিযুক্তের পাশাপাশি এবার খোদ নির্যাতিতার সহপাঠীর বিরুদ্ধেও গণধর্ষণের মামলা দায়ের করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার পুনর্নির্মাণের সময় বক্তব্যে একাধিক অসঙ্গতি মেলায় তাকে গ্রেফতার করে পুলিশ। বুধবার তাকে দুর্গাপুর মহকুমা আদালতে পেশ করা হয়।

সন্দেহের তালিকায় ছিল শুরু থেকেই:

মালদার কালিয়াচকের বাসিন্দা ওই ডাক্তারি পড়ুয়া ছাত্রীর সহপাঠী যুবকটি ঘটনার দিন নির্যাতিতার সঙ্গেই ছিলেন। ঘটনার পর থেকেই সে পুলিশি সন্দেহের তালিকায় ছিল, এমনকি নির্যাতিতার বাবার অভিযোগেও তার নাম এসেছে। ধর্ষণের ঘটনা প্রকাশ্যে আসতেই তাকে আটক করে পুলিশ। এরপর পাঁচ বহিরাগত যুবকের সঙ্গে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় সহপাঠী ওয়াসিফ আলিকেও গ্রেফতার করা হয়।

বয়ানে অসঙ্গতি, নতুন ধারা রুজু:

পুলিশ সূত্রে খবর, মঙ্গলবার রাতে ওয়াসিফ আলিকে প্রথমে দুর্গাপুর থানায় এবং পরে নিউটাউনশিপ থানায় নিয়ে যাওয়া হয়, যেখানে সারারাত সে ঘুমোতে পারেনি। তার বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার 70(1)/3(5) ধারায় গণধর্ষণের মামলার পাশাপাশি আরও দু’টি গুরুতর ধারা রুজু করা হয়েছে: 304(2) ছিনতাই এবং 308(2) তোলাবাজি।

এদিন আদালতে নিয়ে আসার সময় ওয়াসিফকে বিধ্বস্ত দেখাচ্ছিল। ১০ দিনের পুলিশি হেফাজতের আবেদন জানিয়ে তাকে আদালতে পেশ করা হয়।

ভিডিওগ্রাফি করে ঘটনার পুনর্নির্মাণ:

ঘটনার নাটকীয় মোড় আসার আগেই মঙ্গলবার সকালে গ্রেফতার হওয়া বিজড়া গ্রামের পাঁচজনের সঙ্গে ওয়াসিফ আলিকে পরাণগঞ্জের জঙ্গলে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানেই ডেপুটি কমিশনার অফ পুলিশ (পূর্ব) অভিষেক গুপ্তা, এসিপি (দুর্গাপুর) সুবীর রায়-সহ উচ্চপদস্থ পুলিশ আধিকারিকদের উপস্থিতিতে প্রায় তিন ঘণ্টা ধরে ঘটনার পুনর্নির্মাণ করা হয় এবং পুরো ঘটনার ভিডিয়োগ্রাফি করা হয়।

আসানসোল-দুর্গাপুর পুলিশ কমিশনারেটের পুলিশ কমিশনার সুনীল কুমার চৌধুরী সাংবাদিক সম্মেলন করে আগেই জানিয়েছিলেন, “নির্যাতিতার সহপাঠীকেও আমরা সন্দেহের ঊর্ধ্বে রাখছি না।” তিনি নিশ্চিত করেন যে, ঘটনার দিন সহপাঠী যুবক যে পোশাক পরেছিল, তা ইতিমধ্যেই ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে। এই ঘটনায় পুলিশি তদন্তে আরও চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ্যে আসতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।