২ বছর পর অবশেষে শান্তি! ট্রাম্পের প্রস্তাবিত গাজা চুক্তিতে স্বাক্ষর ইজরায়েল-হামাসের, ঘরে ফিরলেন ১০ হাজার প্যালেস্তাইনি

দীর্ঘ দুই বছর ধরে চলা বিধ্বংসী যুদ্ধ থেকে অবশেষে নিস্তার পেলেন ইজরায়েল এবং প্যালেস্তাইনের সাধারণ মানুষ। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রস্তাবিত ‘গাজা শান্তি চুক্তির’ প্রথম পর্যায়ে স্বাক্ষর করেছে ইজরায়েল এবং হামাস। চুক্তি স্বাক্ষরের পরই শুক্রবার ধ্বংসপ্রায় উত্তর গাজার ঘরে ফিরতে শুরু করেছেন প্রায় ১০ হাজার প্যালেস্তাইনি নাগরিক। জানা গেছে, আগামী কয়েকদিনের মধ্যে সমস্ত যুদ্ধবন্দিদের ছেড়ে দেওয়া হবে।
দীর্ঘ ২৪ মাসের যুদ্ধে গাজার প্রায় ১০ হাজার মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন এবং ৯০ শতাংশ বাসিন্দা ঘরছাড়া হয়েছেন।
শান্তি চুক্তি ও বিতর্ক:
দ্বিতীয়বার মসনদে আসার পর থেকেই প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইজরায়েল ও হামাস প্রসঙ্গে একাধিক পদক্ষেপ নেন। গত মাসে তিনি ২০ শর্তের গাজা শান্তি চুক্তি ঘোষণা করেন। কিছুদিন আগে মিশরে ইজরায়েল, হামাস, আমেরিকা এবং তুর্কির প্রতিনিধিরা দীর্ঘ আলোচনায় বসেন এবং প্রথম পর্যায়ে শান্তি চুক্তিতে স্বাক্ষর করে ইজরায়েল ও হামাস।
ইজরায়েল এবং হামাস শুক্রবার থেকেই যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়ে যাওয়ার কথা জানিয়েছে। দুই দেশের সেনা জানিয়েছে, সোমবারের মধ্যে ৪৮ জন বন্দির মধ্যে ২০ জনকে মুক্তি দেওয়া হবে। তবে ৪৮ জনের মধ্যে বাকি ২৮ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে অনুমান করছে ইজরায়েল।
হামাসের অস্ত্র ত্যাগ নিয়ে প্রশ্ন:
কিন্তু এই চুক্তির পরেও প্রশ্ন উঠছে, গাজায় এবার কে ক্ষমতা দখল করবে এবং হামাস কি আদৌ অস্ত্র ত্যাগ করবে?
ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু শুক্রবার টেলিভিশনে সম্প্রচারিত এক বক্তব্যে জানান, পরবর্তী পর্যায়ে হামাস অস্ত্র ত্যাগ করবে এবং গাজায় সেনা প্রত্যাহার শুরু হবে। তিনি বলেন, “সহজভাবে এই দুই শর্ত পূরণ হলে খুব ভালো। আর তা না-হলে কঠিন পদক্ষেপ করা হবে।”
এদিকে, প্রথম পর্যায়ে যুদ্ধবন্দিদের ফিরিয়ে দেওয়ার বিষয়ে সহমত হলেও অস্ত্র ত্যাগের বিষয়ে এখনও কোনো নিশ্চয়তা দেয়নি হামাস। ইজরায়েলি সেনা জানিয়েছে, আপাতত গাজার প্রায় ৫০ শতাংশ এলাকা থেকে প্রতিরক্ষামূলক অভিযান তারা চালিয়ে যাবে।
চুক্তি অনুযায়ী, অবশিষ্ট যুদ্ধবন্দিদের মুক্তির বিনিময়ে প্রায় ২ হাজার প্যালেস্তিনীয়কে মুক্তি দিতে প্রস্তুত ইজরায়েল। তবে ইজরায়েল যে তালিকা প্রকাশ করেছে তাতে প্যালেস্তাইনের সবচেয়ে জনপ্রিয় নেতা মারওয়ান বারঘৌতির নাম ছিল না। ইজরায়েল তাঁকে এবং বাকি উল্লেখযোগ্য বন্দিদের সন্ত্রাসী হিসাবে গণ্য করে মুক্তি দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে।
হামাসের এক শীর্ষ কর্তা খলিল আল-হাইয়া বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় জানান, ইজরায়েলের কারাগারে বন্দি সকল নারী ও শিশুকে মুক্তি দেওয়া হবে। তবে অপর এক কূটনীতিক রবিবার রাত থেকেই বন্দিদের মুক্তি দেওয়া হবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন।